রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ লিবিয়ার প্রতি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাশিয়ার কর্মসূচী সংক্রান্ত নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন. এই উত্তর আফ্রিকার সঙ্কট বিদীর্ণ দেশে সমস্ত রকমের সামরিক অস্ত্র সরবরাহ ও যাবতীয় সামরিক পরিষেবা নিষেধ করার কথা দলিলে রয়েছে. একই সঙ্গে লিবিয়া থেকে অস্ত্র ক্রয় ও পরিষেবা গ্রহণেও নিষেধাজ্ঞা জারী হল.

    রাষ্ট্রপতির নির্দেশ আইন সঙ্গত ভাবে রাশিয়াকেও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৬শে ফেব্রুয়ারী গৃহীত ১৯৭০ তম সিদ্ধান্তের সাথে সংযুক্ত করেছে. এই দলিলের কাজ শুরু হয়েছে একই দিন থেকে. রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হল রক্তপাত নিরোধ ও গাদ্দাফির সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার প্রসঙ্গে এবং "লিবিয়ার বিপ্লবের নেতা" ও তাঁর পরিবার ও পরিসঙ্গের সমস্ত লোকেদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করে দেওয়া. কিন্তু এখানে প্রধান হল – যে কোন রকমের সামরিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া. এখন যে কোন ধরনের অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম রাশিয়া থেকে লিবিয়া ও উল্টো পথে পাঠানো হবে না.

    রাশিয়ার সমস্ত এলাকাতেই লিবিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া ও সেখান থেকে আসা সমস্ত মালপত্রের পরীক্ষা করা হবে. যদি তাতে কোন ধরনের নিষিদ্ধ জিনিস পাওয়া যায়, তবে তা অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে. এই কাজকর্ম অন্য দেশের সহযোগিতা নিয়ে করা হবে ও সমস্ত তথ্য রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দেওয়া হবে.

    বোঝাই যাচ্ছে যে, রাশিয়ার এই নিষেধাজ্ঞায় সংযুক্ত হওয়া লিবিয়ার সঙ্গে আগে করা অস্ত্র সরবরাহ চুক্তির পক্ষে ক্ষতিকারক হবে. এই সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে "রসআবারোনএক্সপোর্ট" কোম্পানীর হাত ছাড়া হয়ে যাওয়া লাভের পরিমান বেশ কিছু বিলিয়ন ডলার হবে. প্রসঙ্গতঃ বিশেষজ্ঞরা ভরসা দিয়েছেন যে, আসলে ক্ষতির পরিমান হবে খুবই কম, কারণ রাশিয়া থেকে লিবিয়াতে অস্ত্র সরবরাহের সম্পূর্ণ চুক্তি এখনও আইনগত ভাবে স্বীকৃত হয় নি. আর লিবিয়াতে বিপ্লব অনন্তকাল চলতে পারে না ও একই ভাবে রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞাও সময় সীমা নির্ভর. তা ছাড়া রাশিয়ার জন্য প্রাথমিক হল আন্তর্জাতিক আইন পালন করা, যা গাদ্দাফির প্রশাসন প্রচুর ভঙ্গ করে চলেছে আর "যে কোন মূল্যে" লাভ করা নয়.

    দিমিত্রি মেদভেদেভের নির্দেশ সময় মতই উদ্ভব হয়েছে এবং তা লিবিয়ার পরিস্থিতির প্রতি রাশিয়ার অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

    "গাদ্দাফি খনিজ তেল ভান্ডারের উপরে বোমা বর্ষণ করে প্রচুর রক্ত ক্ষয় করানোর পরে নিজের প্রত্যক্ষ পরিচয় দিয়ে ফেলেছে, যা আগে থেকেই বুঝতে পারা গিয়েছিল. পরিস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এই লেফটেন্যান্ট কোন রকমের সহমতে আসতে রাজী নয়. একমাত্র পথ, যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজ আজ কিছু করতে পারে – তা হল লিবিয়ার সঙ্গে যথেষ্ট কড়া পারস্পরিক সম্পর্ক রাখা. রাশিয়ার এই দেশের সঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে. তা স্বত্ত্বেও রাশিয়া এক দিকে ইউরোপের দেশ, অন্য দিকে "বড় কুড়ি" ও "বড় আটটি" অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশের সংস্থা গুলির সদস্য. আমরা এই পরিস্থিতি মূল্যায়ণ করে দেখেছি ও সঠিক পথই নিয়েছি. আর এটা ঠিক হয়েছে".

    এরই মধ্যে মুহম্মর গাদ্দাফি নিজে লিবিয়া দেশে যা ঘটছে, তাকে তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে "আল – কায়দা" দলকে আটকানোর চেষ্টা বলছেন. তিনি বলছেন, এই সন্ত্রাসবাদী দল যদি একবার ক্ষমতা হাতে পায়, তবে সমস্ত অঞ্চলে এক ভীষণ গন্ডগোল শুরু হবে, আর তা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে শুধু বর্তমানের সরকার. প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের ব্যাখ্যা বহুদিন ধরে করা হচ্ছে আর তা অভ্যাস হয়ে গেছে শোনার. প্রধান হল, বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমাজকে যা উদ্বিগ্ন করেছে, তা হল কি করে রক্তপাত বন্ধ করা যায়, এই দেশে বর্তমানে যে হিংসা ও সংঘর্ষ হচ্ছে আর যা এই দেশে বড় মাপের মানবিক সঙ্কটে পরিনত হতে পারে, তা কি করে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়. এই বিষয়টি ব্রাসেলস শহরে ন্যাটো জোটের সদস্য দেশ গুলির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা ও ইউরোপীয় সংঘের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানদের বর্তমানের আলোচনার মুখ্য বিষয়.