এই মাসে ভারতে রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরী দেশের দক্ষিণে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রধান পরীক্ষা করা শুরু হবে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র – রাশিয়া ও ভারতের সম্মিলিত ভাবে নির্মিত শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি প্রয়োগের প্রথম সৃষ্টি. ভিলাই ইস্পাত কারখানার সঙ্গে এর তুলনা করা যেতে পারে. যেমন, এক সময়ে ভারতের ভারী শিল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ভিলাই ইস্পাত কারখানার মধ্য দিয়ে তেমনই আজ ভারতের পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন কেন্দ্রের ভিত্তি তৈরী হতে চলেছে কুদানকুলামের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ দিয়ে. যা রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতার ফসল.

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল – পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা. রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো এই কেন্দ্রের পারমানবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন:

    "কুদানকুলামে যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংযোগের বিষয়ে বিরল. এত বেশী রকমের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আজ অবধি কোথাও করা হয় নি. ভারত পারমানবিক শিল্পের বিষয়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে তৈরী নয় ও রাশিয়া তৈরী হয়েছে ভারতকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে. অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে, যেখানে রাশিয়া পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করেছে তথাকথিত টার্ন কি প্রকল্প হিসাবে, ভারতে কুদানকুলাম প্রকল্প কিন্তু তৈরী হয়েছে ভারতীয় ঠিকাদার কোম্পানীদের সাহায্যে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও তার স্থাপন ও বর্তমানে তার পরীক্ষা করা শুরু হচ্ছে".

    ভারতীয় পারমানবিক শক্তি সংস্থার ডিরেক্টর শ্রেয়াংস কুমার জৈন জানিয়েছেন যে, আর কয়েকদিন বাদেই তথাকথিত গরম পরীক্ষা করা শুরু হবে. গরম পরীক্ষা করার সময়ে রিয়্যাক্টর ও তার সমস্ত যন্ত্রপাতির অংশ খুব বেশী তাপমাত্রায় পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হবে. বাস্তবে গরম পরীক্ষা পারমানবিক জ্বালানী ভর্তি করার আগে শেষ পরীক্ষা. সমস্ত ব্যবস্থাই আলাদা করে পরীক্ষা করা হয়েছে ও তা গৃহীত হয়েছে. জৈন বলেছেন, এখনও অবধি কোন রকমের সমস্যা দেখা যায় নি.

    ২০০২ সালে কুদানকুলাম প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল. প্রথমে এই জায়গায় দুটি ১০০০ মেগাওয়াটের রিয়্যাক্টর বসানোর কথা হয়েছিল. পরে রাশিয়া ও ভারত এই জায়গায় আরও চারটি একই রকমের শক্তি সম্পন্ন রিয়্যাক্টর বসানোর বিষয়ে চুক্তি করেছে. এছাড়াও ভারতে আরও দুটি জায়গায় বারোটি পারমানবিক রিয়্যাক্টর বসানোর বিষয়ে সহমতে আসা গিয়েছে. আগামী ৫ -৭ বছরে রাশিয়া ভারতে কম করে হলেও ১৬টি রিয়্যাক্টর বসানোর পরিকল্পনা করেছে. রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কোর কথামতো এই ধরনের পরপর তৈরী করার ফলে পারমানবিক কেন্দ্র তৈরীর খরচ কমবে শতকরা তিরিশ শতাংশ. ভারতের জন্য এটা খুবই লাভজনক ব্যাপার, কারণ ২০২০ সালের মধ্যে ভারতের পরিকল্পনা রয়েছে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে রাষ্ট্রীয় শক্তি উত্পাদনের পরিমান ২০০০০ মেগা ওয়াট করতে হবে – এটা বর্তমানের পাঁচ গুণ.