লিবিয়ার শহর গুলিতে চলা মুহম্মর গাদ্দাফির সমর্থক ও বিপক্ষের গৃহ যুদ্ধ নিয়ে পরস্পর বিরোধী তথ্য পাওয়ার মধ্যেই দুই যুযুধান পক্ষ একের পর এক জোরালো রাজনৈতিক ঘোষণা করে চলেছে. পশ্চিমের দেশ গুলি এই সংঘর্ষে সামরিক অনুপ্রবেশ বিষয়কে বাদ দেয় নি. আর অঞ্চলের অন্যান্য দেশ গুলিতে বর্তমানের প্রশাসনের উপরে বিরক্ত লোকেদের প্রতিবাদ চলতেই থাকছে.

    লেফটেন্যান্ট গাদ্দাফি আবার করে অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স চাইছে লিবিয়ার লোকেদের পরাধীন করতে ও তাদের তেলের খনির দখল নিতে, যেমনটি হয়েছিল ইরাকে. বিপক্ষের লোকেদের তিনি বলেছেন বিশ্বাসঘাতক, যারা দেশের জনগনের সমর্থন ছাড়াই কাজ করছে. পররাষ্ট্র সংযোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ের মন্ত্রী মুসা মোহাম্মদ কুসা আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার রাজনীতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিম লিবিয়াকে ভাগ করতে চাইছে. একই সঙ্গে গাদ্দাফি নাকি নিজের নরম ভাবে পদত্যাগ করা নিয়ে যে বিরোধী যোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলছেন এই খবর কে দেশের টেলিভিশনে সমর্থন জানানো হয় নি. বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়কে ব্যাখ্যা করেছেন এই বলে যে, গাদ্দাফি আসলে নিজে পদ ছেড়ে যেতে তৈরী, যদি তাকে উপযুক্ত নিরাপত্তার ভরসা দেওয়া হয় তবেই. আর তার সমর্থকেরা যারা সেনা বাহিনীর কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন, তারা ভয় পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিচারের ও নিজেদের নেতাকে তাই শান্তি আলোচনা করতে নিষেধ করছেন.

    একই সময়ে বিরোধী পক্ষ তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে. অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় সভার সদস্যরা ইউরোপীয় সংঘের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা রাজনীতি বিষয়ক প্রধান প্রতিনিধি ক্যাথরিন অ্যাস্টন ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন. কোন নির্দিষ্ট চুক্তিতে এই সাক্ষাত্কার এখনও পৌঁছে দিতে পারে নি. কিন্তু এই তথ্য প্রমাণ করে যে, পশ্চিম সক্রিয় ভাবে বিরোধিদের সমর্থন করছে. আগের মতই সেখানে সামরিক ভাবে এই সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার কথা চিন্তা করে দেখা হচ্ছে. কিন্তু ন্যাটো জোটের সমস্ত সদস্য এই ধারণাকে সমর্থন করতে পারছে না বলে নিশ্চিত হয়ে রাশিয়ার ন্যাটো জোটের স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিন বলেছেন:

    "বেশ কিছু দেশ একেবারেই সামরিক অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে. অংশতঃ এটা তুরস্ক ও পশ্চিম ইউরোপের দেশ গুলি. তুরস্ক আবারও পশ্চিমের রাজনীতির প্যাঁচে আটকে পড়ে আরব বিশ্বের সঙ্গে বিবাদ করতে চায় না. আর জার্মানী ও ফ্রান্স মনে করে যে, তারা আইন মেনে চলবে ও জোর দিয়েছে যে, যদি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তবেই লিবিয়ার বিমান বাহিনীর উড়ান বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত হবে. একর অর্থ একটাই ন্যাটো অ্যাংলো স্যাক্সন দের একটা পেছনের সারির ব্যবস্থা হয়ে রয়েছে, আর তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি পরম্পরা বজায় রেখে করেই চলেছে".

    প্রসঙ্গতঃ লিবিয়ার আকাশ পথকে উড়ান বন্ধ এলাকা বলে ঘোষণা রাষ্ট্রসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও হতে পারে, যদিও এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করা কঠিন ও ব্যয় সাপেক্ষ. এর মূল উদ্দেশ্য হল – গাদ্দাফির বিমান বাহিনীকে বিরোধী যোদ্ধা দের উপরে বোমা ফেলতে না দেওয়া. এই ধারণা সমর্থন করেছে ঐস্লামিক কনফারেন্স সংস্থা, আর তার কিছু আগে আরব দেশ গুলির লীগ থেকে. কিন্তু লিবিয়ার আকাশকে বিমান শূণ্য করা আর সামরিক ভাবে অনুপ্রবেশের মধ্যে সীমারেখা খুবই সঙ্কীর্ণ. কারণ এই ব্যবস্থা নিলে ন্যাটোর সৈন্যরা গাদ্দাফির বিমান বাহিনীকে ধ্বংস করতে পারবে ও তা এই সঙ্কটের মীমাংসা করার জন্য একটি সামরিক পদ্ধতি হয়ে দাঁড়াবে.

    কিছু তথ্য অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে খুবই আগ্রহী যে রাশিয়া যাতে রাষ্ট্রসংঘের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে. বিশ্লেষকেরা মনে করেছেন যে, এই বিষয়ে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জো বাইডেন তাঁর বর্তমানের মস্কো সফরে আগে থেকে অপরিকল্পিত বিষয়ের মধ্যে  কথা তুলতে ও পারেন, রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে দেখা করার সময়ে. এই প্রসঙ্গে ভুলে গেলে চলবে না যে, মস্কো এর আগেও একাধিকবার স্পষ্ট করে লিবিয়ার সঙ্কটের মধ্যে বিদেশী অনুপ্রবেশের বিষয়ে অসহমত প্রকাশ করেছে.

    লিবিয়াতে যা ঘটছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বাদানুবাদের পরিবেশে নিকট প্রাচ্য কে বর্তমানে এই অঞ্চলের বাইরে থেকে এক ফুটন্ত কড়া বলে মনে হচ্ছে. শেষ অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী ইজরায়েলের সরকার অধিকৃত প্যালেস্তানীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য বিক্ষোভের জন্য তৈরী হচ্ছে. ইয়েমেনে দেশের প্রধান আলি আবদাল্লা সালেখের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল চলছে. দেশের লোকেরা তা অবিলম্বে পদত্যাগ চেয়েছে. বাহরিন এবং কুয়েত দেশেও বিক্ষোভ চলছে.

    এই অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তেজনা বর্তমানে প্রত্যহের বাস্তবে পরিনত হয়েছে. নিকট প্রাচ্যের সঙ্কটের বাঁক কোন দিকে নিয়ে যাবে – তা আজ বলা কঠিন. যাই হোক না কেন, আন্তর্জাতিক সমাজ সবচেয়ে বেশী বিপদ বলে মনে করেছে ক্ষমতায় চরমপন্থী ধর্মীয় দলগুলির আরোহণ কে.