রাশিয়ায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস.৮ মার্চ বহু দিন থেকে বসন্তকালের অন্যতম প্রিয় একটি উত্সব যখন সবাই নারীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়.খুব অল্প সংখ্যক লোকজনই দিবসটির ইতিহাসের কথা স্মরণ করেন.কিন্তু বিভিন্ন দেশে এখনও নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা যা অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয়বলীর তালিকায় বহাল রয়েছে.

মার্কিনীদের কাছে আমরা ঋণী যেহেতু ৮ মার্চ সবাই আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে উদযাপন করি.১৮৫৭ সালের এই দিনেই নিউইয়র্কের একটি সুচ ও জুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন.তারা পুরুষদের সমান মজুরি প্রদান ও দৈনিক শ্রম কমিয়ে আনার দাবী জানিয়েছিলেন.সেই সময় পুরুষরা দৈনিক ১০ ঘন্টা ও নারীরা ১৬ ঘন্টা কাজ করত.এই ঘটনার ৪০ বছর পর শিকাগো’র নারীরা সমান রাজনৈতিক অধিকার দেওয়ার জন্য হাড়ি-পাতিল নিয়ে সড়ক পথে আন্দোলন করেন.তবে প্রতি বছর নারী দিবস পালনের ধারনার সূচনা করেছিলেন জার্মানির নেত্রী ক্লারা জেটকিন.তার উদ্দোগেই ১৯১০ সালের এই দিনে কোপেনহেগেনে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়.এর ৩ বছর পর রাশিয়ায় নারী দিবস পালান শুরু হয়.জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করা শুরু করে.কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও নারী জাতির প্রতি অনেক বৈষম্যমূলক সমস্যা রয়েছে.অনেক নারী দরিদ্র ও বিষমতার মাঝে বসবাস করছেন.সঙ্গত কারণেই নারীদের অধিকার রক্ষা যা একুশ শতকে জাতিসংঘের অন্যতম একটি কর্মসূচি হিসাবে বহাল রাখা হয়েছে.ইউনেস্কোর রাশিয়ার দুত এলেনোরা মিত্ররোফানোভা বলেছেন “বিশ্বের ৭০০ মিলিয়ন নারীর মধ্যে দুই-তৃত্বীয়াংশ নারীই অশিক্ষিত.৭২ মিলিয়ন মেয়েদের শতকরা ৮৫ ভাগই বিদ্যালয় যায় না.এই পরিসংখ্যান খুবই ভয়াবহ.যে সব দেশে পরিস্থিতি অসহনীয় সেই সব দেশে নারীদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয় না.অন্য সমস্যা হচ্ছে নারীদের প্রতি পারিবারিক অত্যাচার.তবে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশসমূহে এই সমস্যার ভিন্ন রুপ দেখতে পাওয়া যায়.বিশ্বের ৫০০টি প্রধান কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ১৩টি’র প্রধান হচ্ছেন নারী এবং ১৫০টি দেশের মধ্যে মাত্র ৭টি দেশেপ রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন নারী”.

তবে এলেনোরা মিত্ররোফানোভা’র ভাষায় বিশ্বে নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করনের পথে সত্যিকারে অগ্রগতি এসেছে.রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহনকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে.দক্ষিন আমোরিকার ৩টি দেশেই রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে নারীদের নির্বাচন করা হয়েছে.পার্লামেন্টে এক-তৃত্বীয়াংশ নারীদের আসন সংরক্ষনের জন্য বিভিন্ন দেশে আইন তৈরী হয়েছে.রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমার ডেপুটি স্পিকার ও অলিম্পিক বিজয়ী সিভিতলানা জুরোভা আস্থার সাথে বলেছেন যে,রাজনৈতিক অঙ্গনে রাশিয়ার নারীরা উপযুক্ত প্রার্থী.তিনি বলেছেন “আমি পচ্ছন্দ করি না যখন বলা হয় যে,রাজনীতিতে নারীদের জন্য কোটা থাকা দরকার, তা না হলে তারা জয়ী হতে পারবে না.আমি মনে করি,বর্তমানে রাশিয়ার অনেক নারীই পেশাগত জীবনে সফল হয়েছেন যা পুরুষ কর্তৃক ইতিমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে.ভাল শিক্ষা যা নারীদেরকে পুরুষদের সাথে সত্যিকারের প্রতিযোগি হিসাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে”.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে এখনও কেন নারীদের দেখা যাচ্ছে না,এই বিষয়ে সিভিতলানা জুরোভা নিজের অভিমত জানালেন.তিনি বলেছেন “বিষয়টি সবারই জানা যে,বিশ্বে এবং এমনকি রাশিয়ায়ও ভোটারদের বেশির ভাগই হচ্ছে নারী.এখনও নারীদের মানসিক শক্তির ওপর পুরুষদের একটি প্রভাব আছে.যখন একজন নারী কোন পুরুষ প্রর্থীর পক্ষে ভোট প্রদান করেন তখন সেই নারী দেখতে পায় যে,আগামী এই প্রসিডেন্ট তার দেশের রক্ষাকর্তা”.

৮ মার্চ শুধুমাত্র রুশিদের জন্য ছুটির দিন নয় বরং তা একই সাথে অধিকাংশ প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ,চীন,ম্যাকাডোনিয়া,মঙ্গোলিয়া,নেপাল,উত্তর কোরিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকরা অনুরুপ ছুটি ভোগ করেন.জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ নারী দিবস পালন করে.ইউরোপের অনেক দেশেও নানা আয়োজনে নারী দিবস পালন করা হয়.কিউবায় ৮ মার্চ প্রদর্শনীর ও ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়.তবে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের এ দিনে শুভেচ্ছা জানানো হয় না.মার্কিন নারীরা কোন এক সময় তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য যে সংগ্রাম করেছিলেন এবং তারা বিজয়ীও হয়েছিলেন.বিষয়টি নিয়ে স্বয়ং মার্কিন নারীরা ঠাট্রা করেন.তবে সম্ভাব্যতা নিয়েই উন্নত দেশসমূহের পুরুষরা তাদের অধিকার আদায়ের দাবী জানানো শুরু করেছে.