জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ত্রিপলীকে হুঁশিয়ারি উচ্চারন করে বলেছেন যে,যারা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে.

বান কি মুন ৬ মার্চ রবিবার এক বিবৃতিতে লিবিয়ার পশ্চিমে বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্দেগ প্রকাশ করেন.তিনি অতি দ্রুত নিরীহ জনগনের ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করার জন্য ত্রিপলীর কাছে দাবী জানান.বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে,লিবিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে জনগনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬০০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছে অন্তত ৪০০০ মানুষ.

এছাড়া লিবিয়া থেকে পাশ্ববর্তী দেশ তিউনেশিয়ায় ২ লাখ শরনার্থী আশ্রয় নিয়েছে.অত্র অঞ্চলের মানবিক বিপর্যয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য জাতিসংঘ থেকে বিশেষ দুত হিসাবে আবদুল আল-খতিব’কে পাঠানো হচ্ছে.

এদিকে,রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের নির্দেশে মস্কো লিবিয়া ছেড়ে তিউনেশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া শরনার্থীদের জন্য মানবিক সাহায্য পাঠাচ্ছে.এরই অংশ হিসাবে ৬ মার্চ রাতে রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রনালয় থেকে পাঠানে প্রথম বিমানটি তিউনেশিয়া পৌঁছেছে.ঐ বিমানে শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার পাঠানো হয়.রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ টন মালামাল পৌঁছে দেওয়া হয়.রাশিয়ার জরুরি সহায়তা মন্ত্রনালয়ের ২য় বিমানটি ৭ মার্চ  তিউনিশিয়ার উদ্দেশে রওনা  হবে.

একই সাথে রাশিয়া লিবিয়ায় বসবাসরত জনগনকে সাহায্য প্রদানের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করছে.দেশের অভ্যন্তরে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে না এবং অনেক চিকিত্সক দেশ থেকে অন্যত্র চলে গেছেন.আরব ও ইসলামী গবেষনা ইন্সটিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলেকসান্দ্রার ফিলোনিক বলেছেন,সামরিক শক্তির হস্তক্ষেপের পরিবর্তে বর্তমানে এই অঞ্চলে আধুনিক প্রক্রিয়ার মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন.তিনি বলছেন “যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুততার সাথে সাহায্য পাঠায় তাহলে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই প্রধান সমস্যাসমূহ সমাধান করা সম্ভব.হয়ত শরনার্থীদের সঠিক সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে অথবা তা যতটা সম্ভব এই সংখ্যাকে সর্বনিম্নে নিয়ে আসতে হবে.পশ্চিমা দেশসমূহ সামরিক শক্তি দ্বারা লিবিয়ার মানবিক বিপর্যয়ের সমাধানের চিন্তাভাবনা করছে.আমার কাছে বিষয়টি অতিরিক্ত মনে হচ্ছে.শান্তির পথে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে”.

এই পেক্ষাপটের কারণেই প্যারিস ও লন্ডন এক ঘোষণায় লিবিয়া পরিস্থিতিকে সতর্কতার সাথে সমাধানের  আহবান জানায়.ফ্যান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যালেন জিউপি বলেছেন যে,লিবিয়ায় যে কোন বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করতে পারে.তাই সামরিক শক্তির বিষয়টি অবশ্যই জাতিসংঘ,আরব লীগ এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন কর্তৃক নির্ধারন করতে হবে.

যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনকে যুঁকিপূর্ন উল্লেখ করে জানায় যে,লিবিয়ার সামরিক অভিযান যা পারস্য উপসাগরের দেশসমূহের রাজনৈতিক সংঙ্কট থেকে ভিন্ন উদ্দেশ্য পুরনে তেমন সহায়তা করবে না.এই অঞ্চলে বিশেষকরে বাহারইন ও ওমানের ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের আগ্রহের  রয়েছে বিভিন্ন কারণ.সামরিক বাহিনী মনে করে যে,যুক্তরাজ্যকে এই পরিস্থিতিতে বিচক্ষনতার পরিচয় দিতে হবে.

কানাডার সামরিক বাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা জেনারাল উল্টার পালোতোভ হুঁশিয়ারি উচ্চারন করে বলেন,লিবিয়া ভূখন্ডে বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করা বিষয় নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ন্যাটো কাজ করছে,তবে অন্যতম সামরিক শক্তির প্রয়োজন.সেই সাথে তিনি উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র লিবিয়ার পরিস্থিতিই অনির্ধারিত নয় বরং তা পুরো আরব বিশ্বেই.