চলতি সপ্তাহে উত্তর আফ্রিকায় চলমান গনআন্দোলন যা বর্তমানে এই অঞ্চলকে বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল অঞ্চলে পরিনত করেছে.আরব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিক্ষোভ চলছে.জনগন রাষ্ট্রের পূর্ণগঠন চাইছে এবং গনতন্ত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আহবান জানাচ্ছে.লিবিয়ায় মুহাম্মর গাদ্দাফির সমর্থক ও বিরোধী দলের কর্মীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে.এ সব ঘটনায় ইতিমধ্যে নিহতের সংখ্যা হাজারে ছাড়িয়ে গেছে.

লিবিয়ায় রক্তের স্রোত বইছে.মুহাম্মর গাদ্দাফির সেনারা সাফল্যের সাথেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রন নিয়েছে.গাদ্দাফির সমর্থকরা রাজধানী ত্রিপলীর কাছের একটি শহর এজ-জাবিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন নিয়ে ফেলেছে.বর্তমানে সেনারা বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রনে থাকা দেশটির পূর্ব প্রান্তের শহর বেনগাজির দিকে অগ্রসর হচ্ছে.এছাড়া মার্সা-আল-বের্গা,আদজাদাবিয়া ও এল-বেইদা শহরগুলোতে রাষ্ট্রীয় বিমান হামলা অব্যহত রয়েছে.সরকারি ও বিরোধী দল হার না মানা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে.বিরোধী দলের নেতারা বলছেন,গাদ্দাফির প্রশাসনের সাথে আলোচনা করা দরকার.

এদিকে গাদ্দাফি পশ্চিমা দেশগুলোর কার্যকরি কর্মসূচির প্রতি দৃষ্টি আরোপ করে বলেন,তাদের হস্তক্ষেপ হয়ত আরও নতুন হতাহতের সূচনা করতে পারে.তিনি জাতিসংঘকে লিবিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য একটি কমিটি পাঠানোর আহবান জানান.

অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে.ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত লিবিয়ার জাতীয় পরিষদ শুক্রবার  নিজেদেরকে একমাত্র রাষ্ট্রীয় আইনি সংস্থা হিসাবে ঘোষণা করেছে.রেডিও রাশিয়াকে বিস্তারিত জানিয়েছেন ভেসতি অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রতিনিধি ইভগেনি পাপোভ.

“বিরোধী পক্ষ আরও সংগঠিত হচ্ছে.বিরোধী দল নিজেদের সেনাবাহিনী গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে.বিষয়টি একটি নিয়মিত গঠন প্রক্রিয়া.সেনাবাহিনীর সদস্যরা নির্দিষ্টি পোশাক পরিধান করবে,হাতে থাকবে অস্ত্র এবং সরবরাহ করা হবে সামরিক সাঁজোয়া যান.বিরোধী পক্ষ রাষ্ট্রের সংষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে.স্থানীয় নিবাসীরা ইতিমধ্যে ‘প্রথম বিপ্লবের’ পথে অগ্রসর বলে দাবী করছেন.পেট্রোলের দাম সর্বদাই এখানে অনেক কম থাকে কিন্তু বর্তমানে এর দাম ২ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে.পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে,পরিস্থিতি কোন পক্ষেরই নিয়ন্ত্রনে নেই.সবাই বলছে,লিবিয়া দুই ভাগ হয়ে যাবে.তা হবে পূর্ব এবং পশ্চিম লিবিয়া”.

শুক্রবার ‘বিপ্লবের আগুন’ শিরোনামে আন্দোলনকারীরা সড়ক পথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে.বিমান হামলা ও সেনাবাহিনীর গুলির শব্দও তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পারে নি.

অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো লিবিয়া পরিস্থিতির সম্পর্ককে এড়িয়ে যেতে পারছে না. তারা আন্দোলনকারীদের পক্ষেও সমর্থন জানিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছে না কারণ কেউই জানে না যে লিবিয়ার জন্য ভবিষ্যতে কি অপেক্ষা করছে.এছাড়া,লিবিয়ার সাধারন নাগরিক,বিরোধী দল ও গাদ্দাফির সমর্থকরা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং এই সঙ্কট নিজেরাই মেটাতে চাচ্ছে.অস্ত্রের ব্যবহার যা লিবিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে.এমন ধারনা করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ.

বিপ্লবী ঘটনা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতেই শুধু ধস নামাবে না বরং তা রাজনৈতীক অস্থিতিশীলতা,সামাজিক জীবনযাপন ও সর্বোপরি এর বিরুপ প্রভাব পরবে গোটা আরব বিশ্বেই.

বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন, ক্ষতি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও.মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও সামরিক-রাজনীতির পুরোটা অথবা অর্ধেক নিয়ন্ত্রন করছে যুক্তরাষ্ট্র.সেই সাথে অত্র অঞ্চলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ত সহযোগি রাষ্ট্র.যেমন মিসর.ইউরোপ আশঙ্কা করছে যে,সেখানে নতুন অভিবাসীদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে.রাশিয়া হারাতে পারে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় চুক্তিসমূহ ও অস্ত্র সরবরাহ.

উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলসমূহে সাম্প্রতিক উত্তাপ যা মূলত কয়েক মাস পূর্বেই অনুমান করা হয়েছিল.কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি কিভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে সেই ধারনা দেওয়ার ঝুঁকি কেউই নিচ্ছে না.পরিস্থিতির এই পেক্ষাপটের বিবেচনা করা হলে ৩য় পক্ষ বর্তমান ঘটনা থেকে  ফায়দা লুটতে পারে.