রাশিয়া ১০ বছর পরেই বিশ্ব বাজারে প্রধান খাদ্য সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে. খাস রাশিয়ার জন্য তার অর্থ হবে রপ্তানীর নতুন বিন্যাস, যেখানে তেলের স্থান নেবে শস্য.

   সারা পৃথিবীর বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেন যে, দুর্ভিক্ষ – বাস্তব সমস্যা, নিকট ভবিষ্যতে বহু দেশ যার সম্মুখীন হবে. বছরের পর বছর পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এবং খাদ্য উত্পাদনের গতির মাঝে ব্যবধান কমে আসছে. তাছাড়া, বছরের পর বছর চাষের জমির এলাকা কমছে. পৃথিবীতে এখন এমন দেশ প্রায় নেই, যেখানে খাদ্যশস্য ফলানোর উপযুক্ত অতিরিক্ত জমি নেই. আর রাশিয়াও ব্যতিক্রম নয়: তার ভাগে রয়েছে পৃথিবীর চাষের জমির ১০ শতাংশের সামান্য বেশি. বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেন যে, এটি সবচেয়ে পরিপ্রেক্ষিতপূর্ণ কৃষি রিজার্ভ. অন্যান্য ইতিবাচক উপাদান হল – প্রতিবেশ মলিনতার অপেক্ষাকৃত নিম্ন মান এবং ভৌগোলিক অবস্থান. এ সব কিছু রাশিয়াকে খাদ্যের বাজারে একটি মুখ্য ভূমিকা পালনের সুযোগ দিয়েছে. মনে করিয়ে দিই যে, ২০১০ সালের গ্রীষ্মকালের অনাবৃষ্টির সময়েও রাশিয়া বিশ্ব বাজারে প্রায় ২ কোটি টন শস্য সরবরাহ করেছে. তবে, এ হল শুধু অতি দীর্ঘ পথের শুরু, "রেডিও রাশিয়া" বেতারকেন্দ্রকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে বলেছেন জাতীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় – অর্থনীতির উচ্চ বিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক পরিচালক ইয়েভগেনি ইয়াসিনঃ

   রাশিয়ার রিজার্ভ আছে. আমরা যদি গুরুত্ব সহকারে সমস্ত ধারায় কৃষিক্ষেত্র নিয়ে কাজ করি তাহলে তাড়াতাড়িই তার ফল দেখতে পাবো. বীজ বাছাইয়ের কাজ উন্নত করতে হবে, লজিস্টিক্স নিয়ে কাজ করতে হবে.

   উল্লেখ করা উচিত যে, বর্তমানে রাশিয়ায় বৈজ্ঞানিক কাজকর্ম চালানো হচ্ছে শস্যের বীজ বাছাই নিয়ে, যা অনাবৃষ্টিতে, ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগের বিরুদ্ধে স্থিতিশীল. এমন বীজ ভাল ফসল দেবে বিভিন্ন ধরণের কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই. এমন দৃষ্টিভঙ্গীর ক্রমেই বেশি মূল্য দেওয়া হচ্ছে বাজারে. একই সঙ্গে এ কথা ভোলা উচিত নয় যে, আপাতত রাশিয়া অন্যান্য উপাদানের দিক থেকে হেরে যাচ্ছে, উল্লেখ করেন ইয়েভগেনি ইয়াসিনঃ

   আমাদের সমস্যা হল এই যে, আমরা উন্নয়নশীল দেশগুলির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্ষমতায় ভীষণভাবে হেরে যাচ্ছি, কারণ তাদের শ্রমবল সস্তা. আর উন্নত দেশগুলির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কে বলব যে, আপাতত তারা নবায়ন প্রবর্তনের দরুণ আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে.

   একই সঙ্গে রাশিয়ায় এমন প্রকৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আজ সারা পৃথিবীতে ব্যবহৃত হচ্ছে. রাশিয়ার চিকিত্সাবিজ্ঞান অ্যাকাডেমির খাদ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী ডিরেক্টর আলেক্সান্দর বাতুরিন বলেনঃ

   রাশিয়া অসাধারণ ও বহুল প্রচারিত প্রকৌশলের মূলনীতি গড়ে তুলেছে, যা অনুযায়ী তৈল শিল্পের বর্জ্য প্রসেসিংয়ের জন্য জীবাণু ব্যবহার করা যেতে পারে. এ সব জীবাণু বর্জ্য খেয়ে উপকারী বস্তু দিতে পারে. ফলে পাওয়া যাবে প্রোটিন, যা সফলভাবে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে.

   সম্প্রতিকালে রাশিয়ায় কৃষি সমাহারে নবায়নভিত্তিক প্রকল্পের প্রবর্তন সক্রিয়ভাবে সমর্থিত হচ্ছে. এ সবকিছু এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ১০ বছর পরেই দেশকে বিশ্ব খাদ্য রপ্তানীকারীদের তালিকায় প্রথম স্থানে নিয়ে আসতে পারে. বিশেষজ্ঞরা এ সম্ভাবনাও বাদ দেন না যে, রাশিয়া বছরে ১০ কোটি টন শস্য রপ্তানি করবে. ফলে এমন পরিস্থিতি গড়ে উঠবে, যখন রাশিয়ার রপ্তানির বিন্যাসে তেলের স্থান নেবে খাদ্যদ্রব্য.