নিকট প্রচ্যে – ক্ষোভ দিবস. ইয়োমেন, ইরাক, জর্ডানের বড় বড় শহরের স্কোয়ারে জমা হওয়া জনতা ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থার কাছে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছে. লিবিয়ায়, যেখানে প্রতিবাদ বহু আগেই ব্যাপক পরিসরের সঙ্ঘর্ষে পরিণত হয়েছে, মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিমান বাহিনী দেশের একটি তৈল-কেন্দ্র - মার্সা-এল-ব্রেগা বন্দরের উপর বোমাবর্ষণ পুনরারম্ভ করেছে. বিদ্রোহীরা রাস-লানুফ এবং তার প্রতিবেশী সির্তে যাত্রার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে. পরিস্থিতি এত তীব্র হয়ে উঠেছে যে, আরও সামান্য একটু জোর দিলেই গোটা অঞ্চল জ্বলে উঠবে.

   আর ব্যাপারটা এই নয় যে, গাদ্দাফি তেলের খনিগুলি পুড়িয়ে দিতে প্রস্তুত. বরং এই য়ে, কেন তা করার ভয় দেখাচ্ছেন. লিবিয়ার নেতা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বাইরে থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে তিনি সারা দেশকে সংগ্রামের জন্য দাঁড় করাবেন এবং দেশ দখল হতে না দেওয়ার জন্য সমস্ত উপায় ব্যবহার করবেন.

   লিবিয়ায় সশস্ত্র সঙ্ঘর্ষ এ জন্য বিপজ্জনক যে, তা দীর্ঘকালীন গৃহযুদ্ধে পরিণত হতে পারে. এ সম্বন্ধে বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ. আর বিদেশী সামরিক-রাজনৈতিক চাপ সমস্যাকে শুধু আরও গভীরে নিয়ে যেতে পারে, যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে দেশের জনগণ. এ মত প্রকাশ করছে সৌদি আরব, জার্মানি এবং তুরস্ক. লিবিয়া থেকে বহু দূরে- ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি উগো চাভিস পরিস্থিতি মীমাংসার জন্য আন্তর্জাতিক মধ্যস্থ কমিশন গঠন করার প্রস্তাব করেছেন. তাঁর প্রস্তাব সন্দিগ্ধভাবে গ্রহণ করা হয়েছে ওয়াশিংটনে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা সোজাসুজিই বলেছেন যে, গাদ্দাফির সরে যাওয়া উচিত. যাই হোক না কেন. এমনকি, তিনি যদি বিরোধীদের সাথে সমঝোতায় আসতে পারেন, তবুও.

   অবশ্য, এ হল তত্ত্বের ব্যাপার. যেহেতু বিরোধীপক্ষ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতে অনুপ্রাণিত হয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনায় যেতে অস্বীকার করছে. এ প্রসঙ্গে “জাতীয় প্রতিরক্ষা” পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেনকো মন্তব্য করে বলেনঃ

   শান্তি পরিকল্পনার অগ্রহণে বিরোধীপক্ষ নির্ভর করছে পাশ্চাত্যের উপর. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও গ্রেটবৃটেন সামরিক হস্তক্ষেপের লক্ষ্যপ্রণোদিত স্থিতি গ্রহণ করেছে, যা দিনের পর দিন বেশি সম্ভব হয়ে উঠছে. প্রত্যক্ষভাবে লিবিয়ার উপকূলের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যথেষ্ট পরিমাণ নৌবাহিনী সমাবেশ করার এবং এ অঞ্চলে বৃটিশ বোমারু বিমান আনার কথা বিবেচনায় রেখে বলা যেতে পারে যে, সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে. আর আন্তর্জাতিক জনসমাজ যাতে তা অনুকূলভাবে গ্রহণ করে সেজন্য গাদ্দাফিকে দানব চরিত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে.

   পশ্চিমী প্রচার মাধ্যমগুলি লিবিয়ায় সরকার-পক্ষের বাহিনীর সাথে বিরোধীপক্ষের সঙ্ঘর্ষের ফলে হাজার হাজার লোকের মৃত্যুর খবর প্রচার করছে. দেশের ভিতরে এবং দেশের সীমানায় মানবতাবাদী বিপর্যয়ের কথা বলা হচ্ছে. ৮০ হাজার, ১ লক্ষ ৪০ হাজার, ২ লক্ষ – শরণার্থীদের সংখ্যা এত দ্রুতগতিতে বাড়ছে যে তার সত্যতায় সন্দেহ জাগে, বলেন রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের আরব ও ইস্লাম অধ্যয়ন কেন্দ্রের পরিচালক আলেক্সান্দর ফিলোনিকঃ

   আমার মনে হয়, ২ লক্ষ লোক- এ সংখ্যাটি পরীক্ষা করা দরকার, কারণ অতি সম্প্রতিকাল পর্যন্ত ছিল অতি সামান্য সংখ্যক শরণার্থী. সীমানার কাছে লিবিয়াবাসীদের আসার গতি এত দ্রুত বাড়ছে কি? তবে যাই হোক না কেন, তাদের সকলেই সমবেত হচ্ছে টিউনিসিয়ার সীমানার কাছে অতি ছোট একটি জায়গায়. আর আন্তর্জাতিক জনসমাজ যদি তাড়াতাড়ি সাহায্য দিয়ে থাকত তাহলে এ সমস্যা পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে সমাধান করা যেত. তবে, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মানবতাবাদী বিপর্যয়, মনে হয় তা বলার ভিত্তি নেই.

   বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্তে আসছেন যে, এ ধরণের খবরের দ্বারা পাশ্চাত্য বিদেশী সামরিক অনুপ্রবেশের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে সামাজিক মত গঠন করছে. তাদের আটকে রাখছে শুধু লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের বিবৃতি. বিরোধীদের নেতা গাদ্দাফিকে দেশের নেতা হিসেবে দেখতে না চাইলেও নিজের মাটিতে বিদেশী দখলদারদের সহ্য করতেও রাজি নয়.