রাশিয়ার "তে-৫০" মার্কা পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমানের দ্বিতীয় পরীক্ষামূলক নমুনা বৃহস্পতিবার সফলভাবে শেষ করেছে নিজের প্রথম উড্ডয়ন. বমানটি উড্ডয়ন করেছিল আমুর তীরের কমসোমোলস্ক শহরে বিমান কারখানার বিমানঘাঁটি থেকে এবং আকাশে থাকে প্রায় এক ঘন্টা. এর বৈমানিক ছিলেন – পরীক্ষক-বৈমানিক সের্গেই বগদান.

   বিমানের প্রধান প্রধান সূচকগুলি গোপন রাখা হয়েছে. শুধু জানা আছে যে এটি ভারী শ্রেণীর বিমান. তার সর্বাধিক গতি- ঘন্টায় ২১০০ কিলোমিটার, উড্ডয়নের দূরত্ব- সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার. এর সূচকগুলি বৈশিষ্ট্যময় হলেও তা আধুনিক যুদ্ধ পরিচালনার ক্রমাগত উন্নতি সাধনের দাবির সাথেও সুসঙ্গত. এ বিমানটি সম্বন্ধে পরীক্ষক-বৈমানিক, রাশিয়ার বীর মাগোমেদ তোলবোয়েভ বলেনঃ

   একেবারে অন্য ধরণের উড্ডয়ন-প্রযুক্তিগত তথ্য, অস্ত্রসজ্জা, বিমানের আভ্যন্তরীন ব্যবস্থার সুনিশ্চিতি. মোটামুটিভাবে এটি বহু কর্তব্য সাধনের ফাইটার বিমান. আর স্বভাবতই, এ বিমানের প্রতি দাবিও খুবই গুরুতর, এ কথা বিবেচনায় রাখলে যে, এটি বিমান বাহিনীতে থাকবে প্রায় ৫০ বছর. এর পরে কোনো অতি অগ্রণী ধারার অপেক্ষা করা হচ্ছে না, শুধু তার মডিফিকেশন হবে.

   কম্পোজিট বস্তুর, নবায়নী প্রকৌশলের ব্যবহার, এয়ারো-ডাইনামিক সজ্জা অভূতপূর্ব নিম্ন মানের রেডিও-লোকেশনাল, ইনফ্রা-রেড ও ওপটিক্যাল লক্ষ্যনীয়তা সুনিশ্চিত করে. উপরন্তু আধুনিক নেভিগেশন সরঞ্জাম এ বিমানটিকে দিনে রাতে যেকোনো সময়ে, যেকোনো আবহাওয়ার পরিবেশে সুপারসোনিক গতিতে ওড়ার সুযোগ দেয়.

   বাস্তবিকপক্ষে বলা যেতে পারে গুণগত নতুন বিমানের আবির্ভাবের কথা. বিমান বাহিনীতে তার আসন্ন সরবরাহের অর্থ সম্বন্ধে বলেন "এর.বে.কা" টেলি-চ্যানেলের সাংবাদিক সের্গেই স্তারিকোভঃ

   দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা কম নয়. কারণ কার্যক্ষেত্রে, বলব যে রাশিয়ার মিত্র-শরিকদের ইতিমধ্যেই এমন বিমান আছে. আর স্বভাবতই, রাশিয়ার দরকার এ ধরণের কিছু বাজারে ছাড়ার, এবং বিমান বাহিনীকে দেওয়ার, যাতে সমরসেবীদের কয়েক বছর পরেই অন্যন্য দেশকে ধরে ফেলার চেষ্টা করতে না হয়.

   মনে করিয়ে দিই যে, একবিংশ শতকের ফাইটার বিমান তৈরীর ধারণা প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা দেয় প্রায় একই সময়ে. এ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল গত শতকের আশির দশকে. সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের সাথে জড়িত বিভিন্ন কারণের জন্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমান তৈরি করে, যার নাম দেওয়া হয় “এফ-২২ রাপ্টার”. মার্কিনী প্রকল্পের মূল্য ছিল ৬৫০০ কোটি ডলার, আর একটি বিমানের দাম ওঠে ৩৫ কোটি ডলার পর্যন্ত. এর দরুণ পেন্টাগন, অবশেষে, তা কিনতে অস্বীকার করে. রাশিয়ার "তে-৫০" বিমান তার চেয়ে ভাল এবং সস্তা. বিমান বাহিনীতে তা আসবে ২০১৫ সালে.