লিবিয়ায় রক্তক্ষয় বন্ধ করার উদ্দেশ্যে মুয়াম্মার গাদ্দাফির উপর সামরিক ও আর্থিক চাপ বেড়ে চলেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছে না, যদিও ন্যাটো জোটে শরিকদের তরফ থেকে পূর্ণ সমর্থন সে পায় নি. একই সঙ্গে লিবিয়ার বিরুদ্ধে বাধানিষেধে যোগ দেওয়া দেশের সংখ্যা বাড়ছে.

   গাদ্দাফি শাসনের বিরোধীদের কঠোরভাবে দমনের উত্তরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অ্যাসেম্বলি একমতে মানব অধিকার সংক্রান্ত পরিষদে লিবিয়ার সদস্য-পদ স্থগিত রেখেছে. এর আগে এমন ঘটনা ঘটে নি. এ প্রসঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধি বলেন যে, লিবিয়া সমস্যার সমাধান বল-প্রয়োগের ক্ষেত্রে থাকা উচিত নয়. একই সঙ্গে ক্রেমলিনের এক উত্স জোর দিয়ে বলেন যে, ত্রিপোলির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বাধানিষেধে মস্কো যোগ দেবে. তিনি গাদ্দাফিকে অভিহিত করেন “জীবন্ত রাজনৈতিক শব হিসেবে, যাঁর যাওয়া উচিত, কারণ কারুরই নিজের জনগণের উপর গুলিবর্ষণের অধিকার নেই”. এ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে লিবিয়া থেকে সমস্ত রাশিয়াবাসীকে নিরাপদে অপসারণের পরে. আরও জানা গেছে যে, রাশিয়ার সামরিক সদর দপ্তর আন্দোলনের প্রথম দিন থেকে বাস্তব সময়ে পরিস্থিতির উপর দিনরাত নজর রাখছে. এ বিভাগের প্রতিনিধি মঙ্গলবার বলেন যে, সামরিক কর্মীরা সামরিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর এবং তেল নিষ্কাশনের অবস্থার উপর নজর রাখছে.

   এ সব ঘটনা, অন্য দিকে, অপ্রত্যক্ষভাবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান সমর্থন করে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যাতে বিরোধীপক্ষের সাহায্যে গোটা তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত পরিকাঠামোর উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা যায়. আর তা এ অঞ্চলে তাদের স্থিতি শুধু মজবুতই করবে না, ইউরোপ ও চীনের উপর চাপ দেওয়ার অতিরিক্ত হাতিয়ারও যোগাবে, যারা লিবিয়ার তেল আমদানি করে. এখন পেন্টাগন লিবিয়ার উপকূলের কাছে নিজের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, এ প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দেন সামরিক বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দর গোলত্সঃ

   লিবিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান সম্পর্কে যদি বলতে হয়, তাহলে আমি অনুমান করব যে, তা শুরু হবে আকাশের অবরোধ থেকে. এভাবে গাদ্দাফি বিদ্রোহীদের উপর নিজের মুখ্য প্রাধান্য হারাবে. একই সঙ্গে, আফগানিস্তানের মতো, বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ শুরু হবে, আর বিদ্রোহীদের পরিচালনা করবে ও শিক্ষা দেবে মার্কিনী বিশেষ সৈনিকরা. দেশের কোনো অংশ যদি বিদ্রোহীরা দখল করতে পারে, তাহলে সেখানে অবতরণের ঘাঁটি গড়ার সুযোগ পাওয়া যাবে. তখন ১৬ হাজার পর্যন্ত মার্কিনী সৈনিক লিবিয়ার ভূভাগে নামানো সম্ভব হবে, যাতে কাজটি পুরোপুরি শেষ করা যায়.

   ন্যাটো জোটের সদস্যদের মধ্যে মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সামরিক বল প্রয়োগ সম্বন্ধে একমত নেই. গ্রেটবৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন যে, সঙ্কট মীমাংসার সামরিক চিত্রনাট্য তিনি বাদ দেন না. একই সঙ্গে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এমন পরিকল্পনায় তারা মোটেই উচ্ছসিত নয়. বিশেষ করে, তারা এতে দেখছে আরব জগতে তাদের দীর্ঘকালীন স্বার্থের জন্য বিপদ, সর্বপ্রথমে সেখান থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি সংক্রান্ত বিপদ. রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ, নিজের তরফ থেকে, মনে করে যেঃ সর্বাধিক যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করতে পারে তা হল – “এন্টারপ্রাইজ” বিমানবাহী জাহাজের বিমান ব্যবহার করে  অতি নিখুঁত অস্ত্রের দ্বারা লিবিয়ার উপর আঘাত হানা. বর্তমান পর্যায়ে স্থল অভিযান পেন্টাগন চালাবে না, তবে গাদ্দাফির বিশ্বস্ত সশস্ত্র বাহিনীর উপর রকেট আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে. অবশ্য, তাঁর ছেলে সেইফ আল-আরব তাড়াতাড়ি করে বলেছেন যে, লিবিয়া ন্যাটোর ভয় পায় না.