মানুষের উপরে দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাব পরীক্ষা করে দেখতে উদ্যোগী হয়েছেন রুশ বিজ্ঞানীরা. "মঙ্গল গ্রহ – ৫০০" পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর চিকিত্সা – জৈব বিজ্ঞান সমস্যা অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটে পরিকল্পনা করা হয়েছে দীর্ঘ সময়ের মহাকাশ যাত্রার বিপদ নিয়ে আরও একটি পরীক্ষা করার.

জানাই আছে যে, বিশ্ব একটি শক্তিশালী চুম্বক. আর আমাদের সমস্ত জীবন, সব থেকে সাধারন কোষ থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই চৌম্বক ক্ষেত্রের উপরে নির্ভরশীল. তা সমস্ত জীবিত কোষ কে সূর্য থেকে নির্গত আণবিক শক্তি সম্পন্ন কণার থেকে রক্ষা করে. পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অন্যান্য বহু গ্রহের তুলনায় বহু সহস্র গুণ শক্তিশালী. বর্তমানে সমস্ত পাইলট নিয়ন্ত্রিত মহাকাশযান তুলনামূলক ভাবে কম উচ্চতায় কক্ষ পথে পাক খেয়ে থাকে, যেখানে এই চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবী পৃষ্ঠের চেয়ে মাত্র ২০ শতাংশ দুর্বল. কিন্তু দূর মহাকাশে মানুষ "চৌম্বক ক্ষেত্রের অভাব" বোধ করবেই. এই কথা বলে এই ইনস্টিটিউটের আয়নিত বিকীরণ বিভাগের প্রধান ভ্লাদিস্লাভ পেত্রভ বলেছেন:

"মানুষ বিশ্বের চৌম্বক ক্ষেত্র পার হয়ে উড়ে গিয়ে নিজের জন্য সম্পূর্ণ এক অজানা পরিবেশে উপস্থিত হয়, যখন চৌম্বক ক্ষেত্র থাকে না. আর সমস্যা হল যে, বোঝা দরকার মানুষের কোষ, তন্তু, প্রত্যঙ্গ, সমস্ত শরীরে ও তার কার্যে এই ক্ষেত্রের অভাবের পরিণতি কি হতে পারে. কারণ এর উপরেই নির্ভর করছে মহাকাশ যাত্রার নিরাপত্তা ও পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হওয়া".

ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ঠিক করেছেন বহু দূর মহাকাশ ভ্রমণের পরিস্থিতি তৈরী করবেন চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতি ধরে নিয়ে. আর এটা খুবই সম্ভাব্য কাজ বলে মনে করে ভ্লাদিস্লাভ পেত্রভ বলেছেন:

"চৌম্বক, বিদ্যুত ও তড়িত্চুম্বক ক্ষেত্র হিসাবের জন্য ভাল পদ্ধতি এর মধ্যেই আমাদের কাছে আছে. আর এই পদ্ধতি আমাদের সাহায্য করবে হিসাব করতে যে, প্রভাব কি হবে, আর তা সীমাবদ্ধ করতে কি করা উচিত্ হবে, যাতে স্বাভাবিক চৌম্বক ক্ষেত্রের একটা বিকল্প থাকে".

আপাততঃ পরীক্ষা চলছে পশু পক্ষী ও ক্ষুদ্র জীবিত কোষের উপরে. আর প্রাথমিক ফল ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে. তোমস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান ও জৈব পদার্থ বিদ দের সঙ্গে একসাথে এই ইনস্টিটিউটের লোকেরা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাব বিহীণ বিশেষ বাক্সে ছুঁচোর উপরে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, এই প্রাণীদের স্মৃতি শক্তি খারাপ হয়েছে, দেহের নানা প্রত্যঙ্গ খারাপ কাজ করতে শুরু করেছে ও তাদের ব্যবহার পাল্টে গিয়েছে. বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, মানুষকে চৌম্বক ক্ষেত্র বিহীণ জায়গায় পরীক্ষা করার জন্য এখনও অনেক দেরী আছে. প্রথমতঃ এর জন্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পদ্ধতি তৈরী হয় নি, আর তার সঙ্গে প্রযুক্তিগত জটিলতা রয়েছে. কারণ হল পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরে চৌম্বক ক্ষেত্র সূর্যের সক্রিয়তা নির্ভর ও তা বহু ভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে এবং এই বিষয়ে পরীক্ষা করার সময়ে খেয়াল রাখতে হবে. এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিস্লাভ পেত্রভ বলেছেন:

"ভূ চৌম্বক ক্ষেত্রের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নকল করতে হলে এই বিষয় গুলিকে নির্ণয় করা, মাপা ও এমন একটা ব্যবস্থা করা দরকার যে, যা শুধু স্থায়ী ক্ষেত্রই নয় এমনকি পরিবর্তন শীল ক্ষেত্রও ভর্তুকি দিতে পারবে ও সঠিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেত্রকে শূণ্য করতেও পারবে".

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা আগামী বছরে "মঙ্গল গ্রহ – ৫০০" পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে নতুন কাজ শুরু করবেন. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে এই পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে, যেখানে এই লাল গ্রহে যাত্রার এক কৃত্রিম অনুকরণ করে দেখা হচ্ছে. ছয় জন স্বেচ্ছায় নিজেদের বদ্ধ জায়গায় মানসিক ভাবে পরীক্ষা করে দেখার জন্য আটকে রয়েছেন. তাঁরা ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে বদ্ধ জায়গা থেকে পৃথিবীর পরিবেশে ফিরে আবার "মাটিতে নামবেন".