ওয়াশিংটন লিবিয়ার বিরোধে সামরিক ভাবে হস্তক্ষেপ করা পরিকল্পনা করছে, সোমবার সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজেদের নৌবাহিনী নিয়ে উত্তর আফ্রিকার সমুদ্র উপকূলের কাছে নতুন করে দল তৈরী করা শুরু করেছে. ন্যাটো জোটের ইউরোপের সদস্যরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করতে রাজী নয়. এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াও ঘোষণা করেছে যে, সক্রিয় ভাবে সশস্ত্র যুদ্ধের স্বপক্ষে নয়.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নৌবহরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই অঞ্চলে নিয়মিত ভাবে দুটি বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ ও তার সহযোগিতার জন্য আরও জাহাজ রাখতে. প্রতিটি বিমান বাহী জাহাজে – ৮৫ টি অবধি যুদ্ধ বিমান ও তার মধ্যে বায়ু যুদ্ধে সংঘর্ষের উপযুক্ত বিমান ও বোমারু বিমান রাখতে বলা হয়েছে. একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী পেন্টাগন অস্থায়ী লিবিয়ার সরকারের সহায়তার জন্য প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সমস্ত ঠিকানায় বোমা বর্ষণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে. বেনগাজি শহরে বিরোধী পক্ষ এই অস্থায়ী সরকার তৈরী করেছে. স্বৈর তান্ত্রিক নেতা মুহম্মর গাদ্দাফির সঙ্গে যুদ্ধের জন্য বিরোধী পক্ষের নতুন সরকারকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে. একই সঙ্গে ঘটনার এই ধরনের পট পরিবর্তন উল্টো ফল দিতে পারে বলে মনে করেছেন বিশ্বায়ন ও সামাজিক আন্দোলন অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের অর্থনৈতিক অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান ভাসিলি কলতাশোভ, তিনি বলেছেন:

    "এমন হতে পারে যে, অস্থায়ী সরকার বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উপরে নির্ভর করে নিজেরাই নতুন গাদ্দাফি হয়ে যেতে পারে. অর্থাত্ এই প্রক্রিয়াকে আবার আবদ্ধ করে ফেলা হবে. তাই পরবর্তী কালে এই দেশে পরিবর্তন আরও রক্তাক্ত সশস্ত্র যুদ্ধের সৃষ্টি করতে পারে, যা এই তথাকথিত বিদেশী বিনিয়োগ কারী "বন্ধুদের" বিরুদ্ধে হতেই পারে".

    লিবিয়াতে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের পরবর্তী ফলের বিষয়ে বেশ কিছু ন্যাটোর সদস্য দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে তৈরী নয়. অংশতঃ জার্মানী কূটনৈতিক ভাবে তার সাগর পারের সহকর্মীদের বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আপাততঃ অন্যভাবে এই বিরোধের সমাধানের পথ শেষ হয়ে যায় নি. একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স. লিবিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশে অংশ না নিয়ে, এমনকি মৌন সম্মতি দিলেও ফ্রান্সের উত্তর আফ্রিকায় অবস্থান যথেষ্ট পরিমানে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে.

    এই ধরনের পরিবেশে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ স্পষ্ট করে লিবিয়াতে বিদেশী সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন. তাঁর কথামতো, এই দেশের সমস্যা উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতই শুধুমাত্র দেশের জনসাধারনের সমাধান করার কাজ, বাইরে থেকে কোন রকমের চাপ দিয়ে তা করার দরকার নেই, উচিত দেশের ভিতরে আলোচনার মাধ্যমে ও সামাজিক সহমতে এসে.

    একই সময়ে লিবিয়াতে পরিস্থিতি আরও গরম হচ্ছে. মুহম্মর গাদ্দাফির বিদেশী ভাড়া করা সেনা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই দুই হাজারের বেশী লোক মারা গিয়েছেন ও চার হাজারেরও বেশী আহত. বিরোধী পক্ষ এখন ত্রিপোলির থেকে পূর্ব দিকে সমুদ্র তীরবর্তী শহর মিসুরাত ও সেখানের বিমান ঘাঁটি দখলের জন্য লড়ছে. অভ্যুত্থান যারা করছে, তারা এখন রাজধানীর কাছে নতুন সব এলাকা দখল করছে, তৈরী হচ্ছে স্বৈর তান্ত্রিক নেতার পতনের জন্য শেষ যুদ্ধে.

    এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা আরও বেশী করে বলছেন যে, গাদ্দাফির পক্ষে ক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না. বিরোধী পক্ষ শেষ অবধি যা শুরু করেছে, তা করে ছাড়বেই, আর গাদ্দাফির পতন – এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা. কিন্তু লিবিয়ার সামনে এক অন্ধকার ভবিষ্যত অপেক্ষা করে রয়েছে, বলে, যেমন মনে করেছেন নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত সভার বিশেষজ্ঞ রবের ডেনিন. তিনি গাদ্দাফির চলে যাওয়ার পরে দেখতে পাচ্ছেন লিবিয়াতে ক্ষমতার পদ গুলিতে এক বিশাল শূণ্য স্থান. এই প্রসঙ্গে "নিউইয়র্ক টাইমস" সংবাদপত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে যে লিবিয়াতে ইজিপ্ট বা টিউনিশিয়ার মত দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত কোন সামরিক বাহিনী নেই. দেশে পার্লামেন্ট নেই, কোন রাজনৈতিক দল নেই, কোন নাগরিক সমাজ নেই. এই কারণেই রাজনীতির বিষয়ে কুশলী লোকেরা, যদি গাদ্দাফি শেষ অবধি বিতাড়িত হন তা হলে সোমালি বা আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতির পট পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন. লিবিয়া একটি দেউলিয়া রাষ্ট্রে পরিনত হতে পারে, যেখানে "আল- কায়দা" অথবা অন্য চরমপন্থী দল গুলি মাত্সান্যায়ের ও বিনা শাস্তিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ নেবে.