রাশিয়া আমুর অঞ্চলে নতুন মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র "ভস্তোচনি" নির্মাণ কাজ শুরু করছে. বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক মহাকাশ বন্দরে এক সঙ্গে দুটি রকেট উড়ানের বন্দোবস্ত থাকবে, বিমান বন্দর ও শক্তিশালী শিল্প কেন্দ্র. "ভস্তোচনি" মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র আসলে একটি নতুন শহর যেখানে নিজস্ব কারখানা, মোটর গাড়ী চলার রাস্তা ও রেল পথ থাকবে. ২০১৫ সালে প্রথম উড়ান ক্ষেত্র ও প্রথম পাইলট বিহীণ রকেটের উড়ান শুরু করা হবে.

"ভস্তোচনি" তৈরী করা হবে ফরাসী গায়ানা দ্বীপপূঞ্জের কুরু ও দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্মিত রকেট উড়ান কেন্দ্রের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করে, নতুন প্রযুক্তি সম্মত ভাবে. মহাকাশ উড়ান ক্ষেত্রের চারপাশে থাকা শহর কি রকমের হবে? এখানের ঘর বাড়ী ও প্রকৃতির সমাহার এমন ভাবে করা হবে, যা খুবই মনোহারি এক পরিবেশ ও মানুষের ঐকতান এবং যা বিরল বৈজ্ঞানিক – পর্যটন কেন্দ্রও বটে. এই শহরের পরিকল্পনা করতে গিয়ে স্থপতিরা ৩৫ হাজার লোকের জন্য শহরে শুধু রাশিয়া নয় এমনকি সারা বিশ্ব থেকে আসা পর্যটকদের জন্যও সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করেছেন.

বর্তমানে কর্মরত প্লিসেত্স্ক ও বৈকানুর মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র রাশিয়ার জন্য আর যথেষ্ট হচ্ছে না, "ভস্তোচনি" থেকে দুটি নতুন রকেট উড়ানের জায়গা নানা ধরনের মহাকাশ যান উড়ানের জন্য সাহায্য করবে. রকেট পরিবাহক থেকে খসে পড়া অংশ আর কোন ভাবেই অন্যদেশ, কৃষি বা খনিজ উত্পাদনের জমি, মত্স উত্তোলনের উপযুক্ত নদী বা সমুদ্র অথবা জল যান চলাচলের উপযুক্ত কোন জায়গার মধ্যে আর পড়বে না. এই প্রকল্পে মহাকাশ ফেরি ওঠা নামার জন্য রানওয়ে তৈরী করা হচ্ছে, ২০১৮ সাল থেকে বিশেষজ্ঞদের মতে "ভস্তোচনি" মহাকাশ ফেরি চলাচলের উপযুক্ত বন্দরে পরিনত হবে. তাঁরা আরও মনে করেন যে, রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যতের ভিত্তি আগামী শত বর্ষের জন্য এই "ভস্তোচনি" মহাকাশ বন্দরেই আজ স্থাপন করা হচ্ছে.