ত্রিপোলি শহরের দক্ষিণে যে দুর্গ রয়েছে, সেখানে মুহম্মর গাদ্দাফি রয়েছেন, আর তা সব দেখে শুনে মনে হয়েছে, তাঁর শাসনের শেষ প্রতিরোধের জায়গা. গাদ্দাফি পুত্র সাদি ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর বাবার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার অর্থ হবে দেশে গৃহযুদ্ধ লাগা. এই স্বীকারোক্তি করা হয়েছে যখন তাঁর বিরোধী দলের লোকেরা সাবধান করে দিয়ে বলেছে যে, তিনি ক্ষমতা রক্ষার জন্য দুর্মতির পরিচয় দিতে পারেন, তাঁর কাজকর্মের মধ্য দিয়ে.

    এই রকম অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন ঘোষণা করেছেন যে, তাঁরা বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করছেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়, যাতে গাদ্দাফি পদত্যাগ করেন, যাতে তাঁর শাসনের শেষ তিনি করেন ও নিজের প্রতি অনুগত সেনাবাহিনী ও ভাড়াটে সৈন্যদের ফিরিয়ে নেন. আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের এই ঘোষণা একেবারে একই রকমের, যা গাদ্দাফির বিরোধী পক্ষ দাবী করেছে. তারা এর মধ্যে দেশের পূর্ব দিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জারী করেছে, পশ্চিমেও যুদ্ধ করে এলাকা দখল করেই যাচ্ছে, যদিও এই এলাকা গুলিকে গাদ্দাফির নিজের এলাকা বলে মনে করা হত. রবিবারে বড় শহর এজ – জাউইয়া দখল হয়ে গেছে. এই প্রসঙ্গে সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, বিরোধী পক্ষ বিদেশ থেকে সাহায্য আশা করছে. আমেরিকার বেশ কিছু প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য বারাক ওবামার প্রশাসনের কাছে আহ্বান করেছে লিবিয়ার বিরোধী পক্ষকে সাহায্য করতে. প্রস্তাব করা হয়েছে অংশতঃ সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার গুলিকে ধ্বংস করার, যেগুলি ত্রিপোলির নির্দেশে আকাশে উঠবে. প্রসঙ্গতঃ এখানে মনে করা যেতেই পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সংঘের পক্ষ থেকে বিরোধী পক্ষকে সাহায্য পরে তাদের বিরুদ্ধেই যেতে পারে. প্রাথমিক ভাবে লিবিয়ার বিভিন্ন প্রজাতির বহু সংখ্যক নেতা, যারা আজ দেশে ক্ষমতা হরাচ্ছেন, তাদের দ্বারাই. তার উপরে এই নেতারা সবসময়েই বিরোধী পক্ষে নির্বাচন কারী জনতার সমর্থন পেয়েই যাবেন. লিবিয়াতে মানবিক বিপর্যয় শুরু হয়েছে – খাবার কম পাওয়া যাচ্ছে, ওষুধ পত্র নেই, দেশে মহামারী শুরু হয়েছে. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির আখমেদভ তাই বলেছেন:

    "লিবিয়ার জনগণের উচিত্ দেশের সমস্যার সমাধান নিজেদেরই খোঁজা, আন্তর্জাতিক সমাজের দায়িত্ব হবে দেশকে টুকরো হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা ও মানবিক বিপর্যয় কে গভীরে প্রবেশ করতে না দেওয়া. প্রয়োজনের সময়ে মানবিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য করে লিবিয়ার নতুন প্রশাসনকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দেওয়া, আমার মনে হয় খুবই অদূর ভবিষ্যতে সেই দেশে নতুন সরকার গঠন হবে".

    প্রতিবেশী দেশ টিউনিশিয়াতে, যেখান থেকে জানুয়ারী মাসে বিপ্লবের ঢেউ সমস্ত আরব উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, রবিবারে সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহামেদ গান্নুশি পদত্যাগ করেছেন. তিনি প্রাক্তন পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া রাষ্ট্রপতি জিন আল- আবিদিন বেন আলির খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন, আর তাই বিরোধী পক্ষের পছন্দ নয়. বিগত ছুটির দিন গুলিতে বিরোধী পক্ষ ও নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর সংঘর্ষে তাই আবার কম করে হলেও দশ জন নিহত হয়েছেন.

    ইয়েমেন দেশে বিক্ষোভের ধাক্কায় দেশের শাসক দলেই ভাঙন ধরেছে. তার থেকে এক প্রভাব শালী শেখ হুসেন আবদাল্লা আল- আখমার বেরিয়ে গিয়ে দেশের দুটি বৃহত্তম প্রজাতির বিরোধী দলে যোগদানের কথা ঘোষণা করেছেন. রাষ্ট্রপতির অবস্থানে এই দল ভেঙে বেরিয়ে পড়া এক বড় রকমের আঘাত, যিনি অনেকটাই প্রজাতিদের সমর্থনের উপরে ভিত্তি করে রয়েছেন.

    বাহরিনে "আল – হা" নামের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের দাবীতে চরমপন্থী আন্দোলনের নেতা হাসান মশাইমী মানামু অঞ্চলের নির্বাসন থেকে ফেরার পরেই যেমন মনে করা হয়েছিল, তেমনই এই দেশের পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয়েছে. রবিবারে মিছিলে সেখানে রাজতন্ত্রের অবসান দাবী করা হয়েছে.

    আঞ্চলিক গণ্ডগোল বর্তমানে ওমান দেশেও পৌঁছেছে. দেশের উত্তরে শিল্প নগরী সুহার শহরে পুলিশ মিছিল ভঙ্গ করেছে, বিক্ষোভ কারীরা দেশে রাজনৈতিক সংশোধন দাবী করেছে. দুইজন লোক মারা গিয়েছেন. এই সবই একসাথে খনিজ তেল রপ্তানীর বিষয়ে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরী করেছে, তাই সোমবারেও নতুন করে তেলের দাম বেড়েছে.