রাশিয়া ও বাংলাদেশ ঢাকা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে রূপপুরে পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদন কেন্দ্র সংক্রান্ত চুক্তির বয়ান সম্পূর্ণ ভাবে সহমত নিয়ে তৈরী করে ফেলেছে. এই দলিল এই বছরের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে. বিষয় নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশ ভারতের পরে প্রথম দেশ, যেখানে রসঅ্যাটম সংস্থা প্রকল্প নির্মাণ, স্থাপন ও ব্যবহারের প্রতিটি স্তরে এই দেশের প্রথম পারমানবিক প্রকল্পের কাজে সহায়তা করবে. বাংলাদেশের পারমানবিক প্রকল্পের কাজ চালানোর জন্য এই দেশে নাগরিকদের প্রশিক্ষণেরও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে. নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে রূপপুরে তৈরী হতে চলা পারমানবিক কেন্দ্র হবে সবচেয়ে আধুনিক. রাশিয়া এর জন্য মোট ২০০০ মেগাওয়াট শক্তি উত্পাদনে সক্ষম দুটি রিয়্যাক্টর পাঠাবে.

    বর্তমানের বিশ্বে খুব একটা বেশী দেশ নেই, যারা নিজেরাই নিজেদের দেশে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করতে পারে, তার উপরে এই বিষয়ে অন্য দেশকে সহায়তা করতে পারার ক্ষমতা খুব কম দেশেরই রয়েছে. রাশিয়া এই বিষয়ে নেতৃত্বের স্থানে রয়েছে, তাদের রসঅ্যাটম কোম্পানী, বিশ্বের একমাত্র কোম্পানী, যারা একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েকটি পারমানবিক কেন্দ্রের নির্মাণের কাজ করছে. যেমন, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, ভারতে. এর একটি ভারতের দক্ষিণে কুদানকুলাম শহরে. তার দুটি হাজার মেগাওয়াট করে শক্তি উত্পাদনের ব্লক এখন তৈরী হয়ে গিয়েছে, আরও চারটি এই জায়গায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তৈরী হয়ে যাবে. কিন্তু ভারতের পক্ষে তার দ্রুত উন্নতিশীল অর্থনীতির প্রয়োজন আরও বেশী. তাই রাশিয়া ও ভারত বলা যেতে পারে, এখন খুচরো বায়না ছেড়ে পরপর পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার পথে চলছে. কুদানকুলাম প্রকল্প মিলিয়ে আগামী কয়েক বছরে ১৬টি অবধি রিয়্যাক্টর বসানো হবে. তাই রসঅ্যাটম সংস্থার প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ বোচকভ বলেছেন:

"নতুন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, যেটি বর্তমানে ভারতের নূতন জায়গায় বসানো হয়েছে, তা এর মধ্যেই তিন প্লাস প্রজন্মের, আর তার শক্তি উত্পাদনের ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট. অন্যভাবে বলতে হলে, আমরা একেবারে নতুন ধরনের রিয়্যাক্টরের কথা বলছি, যার বেশ কিছু স্তরে সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, শক্তি উত্পাদনের ক্ষমতাও বেশী. এগুলি রাশিয়ার পারমানবিক শিল্পের অত্যাধুনিক সব প্রকল্প. আর আমি মনে করি যে, এই গুলি ভারতীয়দের সবচেয়ে জটিল সব দাবীর জন্যেও যথেষ্ট আধুনিক. রসঅ্যাটম সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া পাইকারী হারে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বসানোর যে প্রস্তাব হালে করা হয়েছে তার থেকেই বোঝা যায় যে, দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে সহযোগিতা প্রসারিত হয়েছে ও ভারতের দিক থেকে এই বিষয়ে ভবিষ্যতে প্রসারের লক্ষ্য রয়েছে".

    অবশ্যই বাংলাদেশে রূপপুরে দুটি রিয়্যাক্টর যা রসঅ্যাটম সংস্থা বর্তমানে বসাতে চলেছে, তা শুধু এই দেশের সংস্থা বহুমাত্রিক কাজকর্মের শুধু শুরু, তবুও এই প্রকল্প রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে বিগত বহু বছরের হিসাবে সর্ববৃহত্. তাই দুই দেশের জন্যই তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তার প্রভাব হবে বিশাল ও দেশের শক্তি সংক্রান্ত নিরাপত্তা রক্ষার কাজেও এর অবদান অতুলনীয়. দেশ এই উত্স থেকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিদ্যুত শক্তি পাবে. বর্তমানেই দেশে বিদ্যুতের বড় অভাব, প্রয়োজন ৬ মেগাওয়াট, কিন্তু দেশে তৈরী হয় মাত্র ৪, ৫ মেগাওয়াট.