লিবিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা মুহাম্মর গাদ্দাফি,তার ৭ পুত্র ও কন্যা এবং অতি নিকট আপনজনকে বিদেশ ভ্রমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে.জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রসহ মোট ১৫টি দেশ প্রায় টানা দীর্ঘ ৯ ঘন্টা আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে.

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনে গাদ্দাফি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সম্পত্তি জব্দ এবং দ্রুত লিবিয়ায় সবধরনের অস্ত্র সরবরাহ, বিক্রি ও স্থানান্তর  নিষিদ্ধ করেছে.লিবিয়া পরিস্থিতি বিষয়ে এই রেজুলেশন কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে.জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ি সেখানে ১০০০ লোক নিহত হয়েছে.জাতিসংঘ হতাহতের সূষ্ঠ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শরনাপন্ন হবে.নথিপত্রে উল্লেখিত সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকর করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষথেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে.

রাশিয়া লিবিয়া বিষয়ে গৃহিত এই রেজুলেশনকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছে বিশেষকরে দেশটিতে চলমান উত্কন্ঠা নিরসনে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে.নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনা বৈঠকের উদ্বোধনী দিনে জাতিসংঘে রাশিয়ার নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালী চুরকিন এ কথা বলেন.তিনি বলেন ’সাধারন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি এই পরিস্থিতিকে সবচেয়ে জটিল করে তুলেছে.নিরীহ সাধারন জনগনের বিপক্ষে অযৌক্তিক সামরিক শক্তির প্রয়োগের বিষয়টিই মূলত  আমরা আলোচনা করেছি’.

ভিতালী চুরকিন বলেন ’লিবিয়ার সরকারকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতিমালা পালন করতে হবে.এই প্রচেষ্টাই লিবিয়াকে স্বদেশী যুদ্ধ থেকে উদ্ধার করবে এবং লিবিয়ার স্বাধীনতা ও সতন্ত্র সুরক্ষায় সহয়তা করবে’.

তিনি বলছেন ’লিবিয়ার পরিস্থিতি রাজনৈতিক উপায় সমাধান করতে হবে.বস্তুত এই জন্যই নিরাপত্তা পরিষদের উক্ত রেজুলেশনটি গৃহিত হয়েছে যা সাধারন নাগরিকের নিহত হওয়ার ঘটনা এবং কারা এর জন্য দায়ী তা খতিয়ে দেখবে.তাছাড়া লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ যা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিসহ করে তুলবে’.

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ ও লিবিয়ার জাতীয় পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সেক্রেটারী জামাহিরি মুসা কুসা’র সাথে টেলিফোনে আলাপ অনুষ্ঠিত হয়.ল্যাভরোভ লিবিয়ার সাধারন নাগরিকদের ওপর সেনাবাহিনীর হামলাকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন.তিনি একই সাথে লিবিয়াকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনকে মেনে চলার আহবান জানান.

উল্লেখ্য,গাদ্দাফি বিরোধী আন্দোলোনকারীরা লিবিয়ার জনসংখ্যার দিক থেকে ২য় বৃহত্তম শহর বেনগাজিতে অস্থায়ী অন্তর্বতী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে.যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সাবেক আইনমন্ত্রী মুস্তাফা আব্দেল জালিল.গাদ্দাফি বিরোধী আন্দোলনের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে মুস্তাফা গত মঙ্গলবার নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেন.