লিবিয়া বিপর্যয়ের দিকে চলেছে. বর্তমানের প্রশাসনের পক্ষ ও বিপক্ষের মধ্যে বিরোধ কিছুতেই কমছে না.

লিবিয়ার বিপ্লবের নেতা মুহম্মর গাদ্দাফির বিরোধীরা দেশের পূর্ব দিক নিয়ন্ত্রণ করছে দ্বিতীয় বড় শহর বেনগাজি থেকে. কিন্তু তারা ধীরে নিজেদের প্রভাব পশ্চিমের দিকে – রাজধানীতে বিস্তার করছে. এই ঘটনা সম্ভব হয়েছে বেশ কিছু সামরিক ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মীর তাদের দলে যোগ দেওয়াতে. গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বেশ কিছু আদিবাসী প্রজাতির মুখিয়ারা সরব হয়েছেন. বৈদা শহরে তারা বর্তমানের সরকারের সমালোচনা করে লিবিয়ার লোকেদের কাছে দাবী করেছে তার অবসান করতে.

নিজের পক্ষ থেকে দেশের নিরাপত্তা রক্ষা শক্তির তরফে ঘোষণা করা হয়েছে যে, যারা নিজেদের থেকে অস্ত্র সমর্পণ করবে, তাদের সবাইকে বিনা অভিযোগে ছেড়ে দেওয়া হবে. ত্রিপোলি শহরের চারপাশে সেনা বাহিনীর উপস্থিতি বেশী করে চোখে পড়ছে, গাদ্দাফির অনুগত সেনারা নিজেদের হাতে সমস্ত উদ্যোগ নিয়ে নিতে চাইছে. বৃহস্পতিবারে ত্রিপোলি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে এজ- জাউইয়া শহর দখল হয়েছিল বিক্ষোভ কারীদের হাতে, সেখানে যুদ্ধ চলেছে. মিস্রাতা শহরে সরকারি বাহিনী স্থানীয় বিমান বন্দর দখল করে নিতে গিয়েছিল.

কিছু তথ্য অনুযায়ী লিবিয়াতে মৃত লোকেদের সংখ্যা ২০০০ এর কাছাকাছি, আহত – দ্বিগুণ. দেশ থেকে বিদেশীরা চলে যাচ্ছে, লিবিয়া থেকে নিজেদের নাগরিকদের রাশিয়া, ইউরোপীয় দেশ গুলি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও অন্যান্য দেশ উদ্ধার করে নিয়ে আসছে, বহু বিদেশী এই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন স্থল পথে ইজিপ্ট বা টিউনিশিয়ার সীমান্ত পার হয়ে.

বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা বোঝার চেষ্টা করছেন, এই "লিবিয়ার বিপ্লবের" জন্য "দাহ্য পদার্থ" কি হয়েছে. একেবারে মাত্র কিছুদিন আগে পর্যন্ত লিবিয়া ছিল আরব বিশ্বের একটি উন্নতিশীল দেশ. বোঝাই যাচ্ছে যে, প্রশাসন ও মুহম্মর গাদ্দাফি যে সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, তার প্রতি বিক্ষোভ ছিল. কিন্তু এটাই কি যথেষ্ট যাতে দেশের লোকেদের সশস্ত্র বিক্ষোভের দিকে নিয়ে যেতে পারে?  অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন. অংশতঃ ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান নিকোলাস মাদুরো মনে করেন যে, লিবিয়ার সমস্যার মূলে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লিবিয়ার তৈল কূপ দখলের অভিপ্রায়. রক্ত ক্ষয়, তাঁর কথামতো, শুরু করানো হয়েছে, অনুপ্রবেশ বিষয় টিকে আবশ্যিক প্রমাণ করার জন্য.

অনুপ্রবেশের কথা আপাততঃ খোলাখুলি বলা হচ্ছে না. কিন্তু লিবিয়ার খনিজ তৈল এর মধ্যেই উপস্থিতির প্রমাণ দিয়েছে. দিনে তৈল উত্পাদন চার ভাগ কমে – ৪ লক্ষ ব্যারেল হয়েছে. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ সম্ভাব্য পরিনাম সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেছেন:

 "বিশ্ব এর মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে – ২০০৮ সালের মে জুন মাসের মতো তেলের দাম হয়েছে. লিবিয়ার খনিজ তেল বিশ্বের বাজারে অনুপস্থিতি দিয়ে আশঙ্কা বৃদ্ধি করছে ও তার দাম উপরে তুলে দিয়েছে. অবশ্যই বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন: কি হবে লিবিয়ার তেলের? কারণ হল, লিবিয়াতে বেশীর ভাগই বিদেশী খনিজ তেল কোম্পানী কাজ করছিল. আর বিশেষ করে উল্লেখ করতে হবে যে, সেখানে কোন আমেরিকার কোম্পানী ছিল না".

এক সময়ে মুহম্মর গাদ্দাফি দেশ থেকে আমেরিকার কোম্পানী গুলিকে তাড়িয়ে ছেড়েছিলেন. তাঁর সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে লিবিয়ার খনিজ তেলের উত্পাদনের জায়গা গুলির অধিকার নিয়ে লড়াই ও চুক্তি গুলিকে পুনর্বিচার. একই রকম হয়েছিল ইরাকে. সুতরাং, যারা লিবিয়ার ঘটনার সঙ্গে তেলের বিষয় নিয়ে নিজেদের মন্তব্য প্রকাশ করছেন, তাদের যুক্তিকে অস্বীকার করা কঠিন.