রাশিয়া ও নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশ গুলি সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহী. আবু দাবি শহরে সদ্য শেষ হওয়া "আইডেক্স – ২০১১" প্রদর্শনী এর প্রমাণ দিয়েছে.

  আজ নিকট প্রাচ্যের অস্ত্র প্রযুক্তির বাজার বিশ্বের বাজারে অল্প কিছু শতাংশ মাত্র. কিন্তু বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে ২০২০ সালের মধ্যে এই বাজার ১০০ বিলিয়ন ডলার মাত্রা অতিক্রম করবে. এই বাজারে ঐতিহ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশী বিক্রী আমেরিকা ও ব্রিটেনের অস্ত্রের. এখানে নিজেদের অস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের দেশ গুলিও, যেমন, ইউক্রেন, বেলোরাশিয়া. রুশ অস্ত্র প্রযুক্তি উত্পাদকেরা কঠিন প্রতিযোগিতা স্বত্ত্বেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে. কুয়েইত, জর্ডন, সংযুক্ত আরব আমীর শাহী ইত্যাদি দেশের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা ক্রমবর্ধমান.

    সব মিলিয়ে আমাদের এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকে সফল মনে করা যেতেই পারে, বলে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন রসআবারোনএক্সপোর্ট কোম্পানীর প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ দাভিদেঙ্কো, তিনি বলেছেন:

    "আমাদের জন্য এই প্রদর্শনী একটি নূতন অধ্যায় ছিল, কারণ আমরা এখানে নূতন বিক্রী বাড়ানোর পদ্ধতি হিসাবে ত্রৈমাত্রিক সব ছবি উপস্থিত করেছি. প্রদর্শনীতে যাঁরা আমাদের কাছে এসেছেন, তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে নূতন ভাবে আমাদের সামরিক প্রযুক্তির উদাহরণ গুলি দেখতে পাওয়া. এখানে একটি নিঃশর্ত সাফল্য হয়েছে রসআবারোনএক্সপোর্ট ও সংযুক্ত আরব আমীর শাহীর মধ্যে ১৩৫ টি পদাতিক বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ী আধুনিকীকরণের চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া. ভবিষ্যতে সম্ভাবনার কথা বলতে হলে বলা উচিত হবে যে, আমরা খুবই মন দিয়ে আরবী বিশ্বের পট পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রেখে চলেছি, আমরা বুঝতে পারি, এখানে পরিস্থিতি কতটা জটিল. কিন্তু আমরা আশা করব যে, আমাদের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে".

    এই অঞ্চলে পরিস্থিতি অশান্ত হওয়া স্বত্ত্বেও এই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ২০০টিরও বেশী আরবী দেশের কোম্পানী উপস্থিত হয়েছিলেন, সুতরাং আগ্রহ যে এখানে রয়েছে, তা দেখাই যাচ্ছে, এই কথা বলেছেন রুশ স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ রুসলান আলিয়েভ, তিনি যোগ করেছেন:

    "অস্ত্র প্রযুক্তি ক্রয়ের বিষয়ে এখানের আঞ্চলিক ভূ রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা প্রভাব ফেলে না. বিগত কয়েক দশক ধরেই নিকট ও মধ্য প্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা সক্রিয় ভাবে সমরাস্ত্র সজ্জিত হয়েছে. আর এই দিকে দ্রুত গতিবেগ লাভ করা কঠিন. এই অঞ্চলের দেশ গুলি সেই সময়েই সক্রিয় ভাবে অস্ত্র কেনে, যখন খনিজ তেলের দাম এখনকার মত বাড়তে থাকে, আর যখন দাম কমতে থাকে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই পরিস্থিতি যাই হোক না কেন খুব বেশী মাত্রায় অস্ত্র প্রযুক্তি ক্রয়ের আশা করা উচিত হবে না".

  বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী, সমস্ত সামরিক খরচ বাড়তেই থাকবে, প্রথমতঃ ধনী আরব দেশ গুলি, যারা পারস্য উপসাগরীয় আরবী দেশ সমূহের সংস্থার মধ্যে রয়েছেন, তারা অর্থাত্ ছয়টি দেশ ও জর্ডন ২০১১ সালে ৬৮ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র প্রযুক্তি খাতে ব্যয় করবে. রসআবারোনএক্সপোর্ট এই আরব দেশ গুলির সঙ্গে ১২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে.