লিবিয়াতে দেশ ভাগের রেখা পরিস্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. দেশে গত সাত দিনে গণ বিক্ষোভের ফল আপাততঃ এই.

বর্তমানে শুধু বলা যেতে পারে লিবিয়াতে দুই ভাগে ক্ষমতা ভাগ হওয়ার কথা. রাজধানী ও পশ্চিমের অঞ্চল গুলি লিবিয়ার বিপ্লবের নেতা মুহম্মর গাদ্দাফি ও তাঁর দলের লোকেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে. রাজধানী ত্রিপোলি শহর, যা গত কিছুদিন ধরে ছিল সরকারের পক্ষের ও বিপক্ষের লোকেদের সংঘর্ষের কেন্দ্রস্থল, তা বর্তমানে কিছুটা উত্তেজনা প্রশমণ করতে সক্ষম হয়েছে. বিমান বন্দর গুলি আবার কাজ করতে শুরু করেছে, দোকান ও পেট্রোল পাম্প কাজ করছে, স্কুল খোলার ঘোষণা হয়েছে. এই পরিস্থিতি মুহম্মর গাদ্দাফি পুত্র সৈফ আল-ইসলাম কে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে "জীবন আবার পুরনো ছন্দে" ফিরেছে বলে ঘোষণা করতে সাহায্য করেছে.

একই সময়ে বেনগাজি, তোর্বুক ও দেশের পূর্ব দিকের অনেকটাই বিরোধী পক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে. তাদের দলে যোগ দিচ্ছে সরকারি লোকেরাও, যারা গাদ্দাফি প্রশাসনের সঙ্গে যোগ ছিন্ন করেছেন. তাদের একজন, লিবিয়ার আরব দেশ গুলির লীগের প্রতিনিধি আবদেল মুনিম আল- হুনি, বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বের ভূমিকা স্বেচ্ছায় নিয়ে মনে করেন যে, বর্তমানের প্রশাসনের পতন – এটা স্রেফ সময়ের বিষয়, মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা আর.

এই রকমের একটা শেষ হওয়া কতটা সম্ভাব্য, তা নিয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন:

"এখানে অনেকটাই গাদ্দাফি কি করেন তার উপরে নির্ভর করছে. গাদ্দাফি ও তার সমর্থকেরা কঠিন পথে কতটা এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চাইবেন, তার উপরেই সব রয়েছে. আর স্বাভাবিক ভাবেই, এই প্রশ্ন উঠবে যে, কাকে স্থানীয় প্রজাতি গুলি সমর্থন করবে. আপাততঃ এদের কিছু অংশ নিরপেক্ষ রয়েছে, অন্যরা প্রশাসনের নেতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে. পরিস্থিতি খুবই টলমলে. যদিও বেশীর ভাগ বিশ্লেষকেরা গাদ্দাফি যে ক্ষমতা হারাবেন, তার দিকেই ঢলেছেন".

একটা বিষয় পরিস্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, লিবিয়া বর্তমানে এক পরিবর্তনের মোড়ে দাঁড়িয়ে ও বিভিন্ন ভাবে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় জোটের দেশ গুলি, যেমন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে বলে তৈরী হচ্ছে. ওয়াশিংটনে বর্তমানের প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে. রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা মনে করেন যে, গাদ্দাফি "সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম" লঙ্ঘণ করেছেন. ইউরোপীয় সংঘ লিবিয়ার নেতার সমস্ত হোল্ডিং বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তৈরী আছে বলে ঘোষণা করছে.

সমস্যা হল, এই ধরনের ব্যবস্থা করে প্রয়োজনীয় ফল পাওয়া যাবে কি না. এক সময়ে লিবিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে যুদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু ফল হয় নি. এই দেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘুঁটি রয়েছে. ইউরোপে সরবরাহ হওয়া খনিজ তেলের শতকরা দশ ভাগ লিবিয়া থেকেই আসে. আর যেহেতু অর্থনীতির উপরে এই তেল না আসার ফল হতে পারে নেতিবাচক, তাই "ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ" বোধহয় তেল বয়কট করতে চাইবে না.