২৩ শে ফেব্রুয়ারী রাশিয়াতে পিতৃভূমি রক্ষী দিবস পালিত হচ্ছে, বেসরকারি ভাবে এই দিনটিকে মনে করা হয় সমস্ত পুরুষদের উত্সবের দিন. ২৩শে ফেব্রুয়ারী রাশিয়ার লোকেরা সমস্ত সেনা বাহিনীর লোক, পদাতিক, বিমান ও নৌবাহিনীর ভেটেরানদের ও যাঁরা দেশ রক্ষার কাজে নিযুক্ত রয়েছেন, তাঁদের সকলকে ও তাঁদের পরিবার পরিজনদের সম্মান জানিয়ে থাকেন. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ টুইটার সাইটে সমস্ত রাশিয়ার লোকেদের পিতৃভূমি রক্ষী দিবস উপলক্ষে অভিনন্দন জানিয়েছেন. তিনি লিখেছেন – আমি রাশিয়ার সমস্ত রক্ষী দের আমাদের দেশ রক্ষার কাজের জন্য অভিনন্দন জানাই, রাশিয়ার প্রয়োজন শান্তির. এর অর্থ হল, আমাদের শক্তিশালী হতে হবে. উত্সবের প্রাক্কালে মস্কোর সমস্ত যুব সংগঠন গুলি সেনা বাহিনীর কবর খানা ও স্মৃতি সৌধ গুলিকে পরিচ্ছন্ন করেছেন ও ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সালের মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, সেই সমস্ত ভেটেরানদের সঙ্গে নিয়ে মস্কো উপকণ্ঠের সমস্ত বীর সেনা স্মৃতি সৌধ গুলিতে গিয়েছিলেন.

    ভ্লাদিভস্তক, তভের ও তিখভীন শহরগুলির প্রধানেরা, তাদের বাসিন্দাদের পুরুষকার, দৃঢ়তা ও গণ বীরত্ব প্রকাশ, যা তাঁরা পিতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রদর্শন করেছিলেন, তার জন্য পিতৃভূমি রক্ষী দিবস উত্সবের দিনে আজ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে মানপত্র ও স্বীকৃতী পেয়েছেন. এই মানপত্র দানের সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বলেছেন:

    "যদিও জীবনে প্রতীক প্রয়োজন, তবুও আমার মনে হয় যে, আপনাদের শহরের লোকেরা, আপনাদের প্রত্যহের কাজ হিসাবে শহরের পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম শৃঙ্খলা পালন, নতুন পরিকাঠামো ও গৃহ নির্মাণ এই সমস্ত বিষয় গুলিকে মূল্য যতটা দিতে চাইবেন, তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়. কারণ যারা আমাদের শহরগুলিতে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন, সেই আঞ্চলিক প্রশাসনের সকলের উপরেই প্রধান দায়িত্ব রয়েছে".

    বন্দর শহর ভ্লাদিভস্তক বিগত দেড়শ বছর ধরেই সুদূর প্রাচ্যে রাশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সুরক্ষা স্থল হয়ে রয়েছে. ১৯০৪ – ০৫ সালে এই শহরের খুব কাছেই রুশ – জাপান যুদ্ধ হয়েছিল. এই শহর থেকে মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধে যোগ দিতে ফ্রন্টে গিয়েছিলেন ৭০ হাজারেরও বেশী লোক. তভের বিগত ৯০০ বছর ধরে বিদেশী আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষত মঙ্গোল – তাতার, পোলিশ, ফ্যাসিস্ট জার্মান সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এসেছে. ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে এই শহরের লোকেরা প্রথম ফ্যাসিস্ট সেনা বাহিনীকে যুদ্ধ করে সরিয়ে দেয় ও প্রতি আক্রমণ করে. তিখভীন, লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের একটি ছোট শহর হলেও দীর্ঘ দিনের সেনা বাহিনীর ঐতিহ্য বহন করে. ১৬১৩ সালেই এই শহরের লোকেরা সুইডেনের বাহিনীর ধাক্কাকে প্রতিহত করেছিল. ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সেখান থেকে শুরু হয়েছিল জার্মান বাহিনীকে প্রতি আক্রমণ, যার ফলে হিটলারের বাহিনীর লেনিনগ্রাদ কে সম্পূর্ণ ভাবে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যায়, বহুল পরিমানে নাত্সী সেনা ও সাঁজোয়া গাড়ী এই অঞ্চলে মস্কো উপকণ্ঠ আক্রমণের আগে হারাতে বাধ্য হতে হয়েছিল.

    রাশিয়াতে আজ অনেক উত্সবের অনুষ্ঠান হবে. ঐতিহ্য মেনেই রাশিয়ার নেতৃত্ব অজানা সৈনিকদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে অনির্বাণ শিখার সামনে পুষ্প মাল্য দান করবেন. সন্ধ্যায় মস্কো ও অন্যান্য বীর শহরে হাজার কামান ও স্যালুট জানানোর বন্দুক থেকে তিরিশ বার করে আকাশে আতসবাজি জ্বালিয়ে দেশের সমস্ত জীবিত মানুষদের শান্তির জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন ও রক্ষার কাজে আজও অটল ভাবে রয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে.