মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাহোর শহরের কনস্যুল অফিসের কর্মী রাইমন্ড ডেভিস হত্যা কাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জানা গেল সে নাকি সি আই এ কর্মী. ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল খবরের কাগজে আমেরিকার সরকারি উত্স থেকে পাওয়া খবর বলে তা প্রকাশিত হয়েছে. এই প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে যে, সরকারি কর্মীরা নাকি সংবাদ মাধ্যম কে অনুরোধ করেছিল সি আই এ সংস্থার সঙ্গে ডেভিসের যোগাযোগের খবর না প্রকাশ করতে, কারণ তাহলে তার নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা হতে পারে. এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ বিশদ করে লিখেছেন.

    পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুব দ্রুত খারাপ হয়েছে রাইমন্ড ডেভিসের গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে. পাকিস্তানের বড় শহর গুলিতে এই কারণে বিক্ষোভ মিছিল বার হয়েছে, লোকেরা চাইছে আমেরিকার গুপ্তচরকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পক্ষ থেকে পাকিস্তান বিরোধী মন্তব্য বেশী করেই দিতে শুরু করেছে. যদি পাকিস্তানে পরিস্থিতি না বদলায় ও আমেরিকা বিরোধী রাজনীতি চলতেই থাকে, তাহলে তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারসাম্য বিশাল পরিধিতে নষ্ট হবে, এই কথা বলে পাকিস্তানকে সাবধান করে দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় সচিব হিলারি ক্লিন্টন. তা এখানে কি নিয়ে কথা হচ্ছে

    মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভের পটভূমিতে আবার বাড়ছে অসংখ্য চরমপন্থী ঐস্লামিক দলের জনপ্রিয়তা. এই পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে চাইছে তালিবান দলের বিদ্রোহীরা, যাদের গত বছরের গরমে অনেক মূল্য দিতে হয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সামনে দেশের উত্তর পশ্চিমে ওয়াজিরস্থানে. দেশের পরিস্থিতি খারাপ করে তুলছে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের বাজারের শোচনীয় অবস্থা, খাবার জিনিসের দাম বাড়ছে আর বাড়ছে খনিজ তেলের দাম.

    পাকিস্তানের লোকেদের মানসিকতায় খুব বড় প্রভাব ফেলেছে গত কিছু দিনের আরব নিকট প্রাচ্যের ঘটনা – টিউনিশিয়া, ইজিপ্ট, বাহরিন, লিবিয়া ও অন্য সব দেশে, এখন যা হচ্ছে. রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ইভগেনি সালতানোভস্কি মনে করেন যে, কেউ হয়ত ভেতর থেকে চেষ্টা করছে পাকিস্তানের মাটিতে এই বিক্ষোভকে টেনে নিয়ে আসতে, তাই তিনি বলেছেন:

    "পাকিস্তানের পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক কম স্থিতিশীল লাগতেই পারে. এই দেশে গণতন্ত্রের প্রসার হতে গিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় ধারক সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব আজ হারিয়েছে. সামরিক বাহিনীই পাকিস্তানকে এত দিন ধরে রাষ্ট্র হিসাবে বাঁচিয়ে রেখেছে, সব সময়েই সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব এগিয়ে এসে দেশের হাল ধরেছে, যখন এই দেশের অসামরিক সরকার দেশকে প্রায় পতনের মুখে নিয়ে এসেছিল. আজও সেই রকম হওয়ার জন্য কোন কিছুই বাধা হিসাবে নেই. বরং এই রকম হওয়ার জন্য অনেক গুলি কারণ উপস্থিত হয়েছে. এখানে প্রজাতি, ধর্ম, জাতি সমস্ত বিষয়েই পরস্পরের বিরোধিতা শুরু হয়েছে. দেশের রাজ্য গুলি বিচ্ছিন্ন হতে চাইছে, ঐস্লামিক যোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে সফল হওয়া যাচ্ছে না, সামরিক বাহিনী দেশের জনগনের সঙ্গে কোন রকমের যুদ্ধ বিগ্রহ করতে অরাজী, কাজেই আমেরিকার পাকিস্তানে উপস্থিতি, প্রায়ই ড্রোন হামলায় মানুষের মৃত্যু সংবাদ, সরকারের সমস্ত বিষয়েই একেবারে হাল ছেড়ে দেওয়া ভাব, তার উপরে বর্তমানের আরব দুনিয়ার বিদ্রোহ সব মিলিয়ে পাকিস্তান আর থাকলে হয়. হতে পারে সুদানের হাল হতে চলেছে এই দেশের".

    একই বিষয় নিয়ে অন্য ধারণা পোষণ করেন মস্কোর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের এক প্রধান ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি, তিনি মনে করেন পাকিস্থানকে নিয়ে ভয় পাওয়া কিছু নেই, ভবিষ্যতে এই দেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব বজায় থাকবে, তাই তিনি বলেছেন:

    "পাকিস্তান এর মধ্যেই একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ও তার পতনের বিষয়ে ভাবা যেতে পারে খুবই অলীক কল্পনা হিসাবে, অর্থাত্ কেন এক দূরের সময়ের কথা ভেবে. আমি মনে করি পাকিস্তান একটি দেশের পরিচয় পেয়েছে ও তাদের ভবিষ্যত যথেষ্ট ভালই হবে, যদিও তাদের দেশে সমস্যা রয়েছে, যা আজ প্রকট হয়েছে. ঐতিহ্য রয়েছে দেশ হিসাবে জগতে জায়গা করে নেওয়ার ও বহু দিন এই ঐতিহ্যই পাকিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখবে. দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল হবে, জাতীয়তা বাদ, প্রজাতি গত বিরোধ দেশকে পতনের দিকে ঠেলবে না".

    পাকিস্তানের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ওয়াজাহত মাসুদ তাঁর মত দিয়েছেন এই বলে যে:

    "আরব পূর্ব দেশ গুলিতে পরিস্থিতির সঙ্গে পাকিস্তানের পরিস্থিতির অনেক তফাত রয়েছে, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সংবিধান এবং সংস্কৃতি সংক্রান্ত বিষয়ে. আরব পূর্ব দেশ গুলিতে ঘটা ঘটনা এখানের পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে ও সমস্ত প্রতিক্রিয়া শীল শক্তিই এর থেকে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করবে, তার মধ্যে আল কায়দা দলও থাকতে পারে. পাকিস্তানের জন্য এটা হয়ত ভালর জন্যই হতে পারে, কারণ এর ফলে দেশের নেতৃত্ব ও প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ লোকেরা হয়ত দ্রুত সংশোধনের কাজ শুরু করবেন, তা বৈদেশিক নীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই হতে পারে. পাকিস্তানের রাষ্ট্র পতনের সম্বন্ধে যে সমস্ত কথা হচ্ছে, তার কোন ভিত্তি নেই. দেশের ভিতরে থাকা নানা রকমের বিরোধ স্বত্ত্বেও পাকিস্থানের রাষ্ট্র পতনের বিষয়ে এই দেশের কোন দলেরই আগ্রহ নেই".