যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আফগানিস্তানের মাদক উত্পাদনকে বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগের বিষয় বলে স্বীকার করতে আহ্বান জানিয়েছে. এই মর্মে এক প্রস্তাব পত্র রাষ্ট্রসংঘের কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সাধারন সম্পাদক নিকোলাই বরদ্যুঝা জানিয়েছেন.

    এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সদস্য দেশ গুলির নেতৃত্ব, সংস্থার বর্তমান সদস্য দেশ গুলি হল – রাশিয়া, আর্মেনিয়া, বেলোরাশিয়া, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান ও উজবেকিস্থান. এই দেশ গুলির প্রতিনিধিরা একসাথে বিশ্ব সমাজকে আহ্বান করেছেন আফগানিস্তানের মাদক উত্পাদনকে বিশ্বের বিপর্যয় বলে স্বীকার করতে, যা সমস্ত দেশের জন্যই বিপদ ও বহু লক্ষ লোকের অকাল মৃত্যুর কারণ. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সমস্ত দেশই আফগানিস্তানের মাদক পাচারের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নেবে, বলে উল্লেখ করেছেন নিকোলাই বরদ্যুঝা:

    "এই প্রস্তাবে সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার সক্রিয় কাজের মাধ্যমে আফগানিস্তানের মাদক পাচারের পথ রোধ নিয়মিত ভাবে করা যাবে ও সেই দেশের সরকার এই বিপদ হ্রাস করার জন্য কি করছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে. যদি আমরা নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত আদায় করতে পারি, তবে আফগানিস্তানের মাদক পাচারের সঙ্গে সংগ্রাম আরও ধাপে ধাপে, চাপ প্রয়োগ করে অর্থাত্ সাফল্যের সঙ্গে করা যাবে".

    গত দশ বছরে আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সামরিক অনুপ্রবেশ ঘটার পর থেকে মাদক উত্পাদনে এই দেশ রেকর্ড করেছে. আন্তর্জাতিক কালো বাজারে এই দেশ থেকে শতকরা ৯০ ভাগ হেরোইন সরবরাহ হচ্ছে, আর শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশী আফিম জাত মাদক আসছে এই দেশ থেকেই. রাশিয়ার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছরে আফগানিস্তানে উত্পন্ন হচ্ছে ১৫০ বিলিয়ন ডোজ হেরোইন ও ৩০ বিলিয়ন ডোজ গাঁজা. তাজিকিস্থান ও পাকিস্থান পার হয়ে রাশিয়াতে ঢুকছে এই মাদক ও চলে যাচ্ছে ইউরোপে. মাদক পাচারের মাফিয়া যে অর্থ পাচ্ছে, তা সন্ত্রাসবাদী দল গুলোর তহবিলে জমা পড়ছে, এই প্রসঙ্গে দপ্তরের প্রধান ভিক্তর ইভানভ বলেছেন:

    "সন্দেহ নেই যে, বর্তমানে সমস্ত মানব সমাজের সামনেই নেশার বস্তু বিপদ. দ্বিতীয় সহস্রাব্দ শুরু হওয়ার পর থেকে দশ লক্ষেরও বেশী মানুষ নেশা থেকে প্রাণ হারিয়েছেন, প্রায় দুই কোটি লোকের আজ এটা সমস্যা. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এটি একটি সমস্যা বলে স্বীকার করলে সারা বিশ্ব সমাজের সমস্ত শক্তি এক সাথে প্রয়োগ করা যাবে ও রাষ্ট্রসংঘের ভূমিকা এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগের জন্য স্বীকৃতী পাবে".

    রাশিয়া মধ্য এশিয়াতে মাদক বিরোধী পরিকল্পনা গুলিতে সহায়তা নিজের দিক থেকে বাড়াবে. ইউরোপীয় সংঘের সঙ্গে বর্তমানে পাঁচ বছরের মধ্যে আফগানিস্তানের মাদক উত্পাদনের সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা তৈরী করা হচ্ছে. রাষ্ট্রসংঘের মাদক বিরোধী পরিকল্পনাতে এর ফলে অর্থ আরও বেশী করে দেওয়া হবে. এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ পুলিশ ও সম্মিলিত অপারেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে. ২০১০ সালের শেষে আফগানিস্তানে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে একসাথে রুশ ও আফগানিস্তানের মাদক নিয়ন্ত্রণ বাহিনীর অপারেশনে বেশ কিছু মাদক উত্পাদনের ল্যাবরেটরী ধ্বংস করেছিল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের মাদক উত্পাদন বিষয়কে বিশ্বের বিপদ বলে স্বীকার করলে আফিমের চাষ ধ্বংস করা যাবে বলে ভিক্তর ইভানভ মনে করেন. তিনি আশা করেছেন যে, রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত এই বছরেই নেওয়া হবে.