ব্রিক দেশগুলির মধ্যে নতুন অন্তর্ভুক্তি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার যোগদানের ফলে. এখন থেকে বৃহত্তম অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতিশীল দেশ গুলির বেসরকারি ক্লাবের নাম হল ব্রিকস. প্রসঙ্গতঃ, কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে এই সংক্ষিপ্ত নাম টিকবে না – উচ্চারণের অসুবিধার কারণে নয়, আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার এই বৃহত্ অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতিশীল দেশ গুলির সঙ্গে সংযোজন বেশ কষ্টসাধ্য বিষয়.

    এক বছর আগে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিনের সঙ্গে ব্রিক কাঠামোর মধ্যে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল প্রিটোরিয়া. ভারত ও ব্রাজিলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা এর মধ্যেই তিন দেশের ব্লক ইবসা সৃষ্টি করেছে, রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা চুক্তি এই দেশকে যুক্ত করেছে. ব্রিক সংস্থার মধ্যে থেকে এই দেশ কালো মহাদেশের যোগ্য প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, এই কথা গত বছরের বসন্তে ব্রিক দেশের সদস্য দেশ গুলির নেতৃত্বের কাছে উল্লেখ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জুমা.

    সত্যই অন্যান্য সাহারা মরুভূমির দক্ষিণের দেশ গুলির সঙ্গে তুলনা করলে দক্ষিণ আফ্রিকার উন্নতি লক্ষ্য করার মতো. তারা এই অঞ্চলের সামগ্রিক জাতীয় উত্পাদনের একের তৃতীয়াংশ উত্পাদন করে থাকে. তা স্বত্ত্বেও ব্রিক সংস্থার অন্য দেশ গুলির তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকা যথেষ্ট খারাপই দেখায়. এই দলে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতিশীল দেশ গুলি, আর দক্ষিণ আফ্রিকার মোট জাতীয় উত্পাদনের পরিমান রাশিয়ার মোট জাতীয় উত্পাদনের মাত্র একের চতুর্থাংশ, ব্রিক দেশ গুলির মধ্যে সবচেয়ে কম. আরও বেশী করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বর্ণহীন দেখায় চিনের সঙ্গে তুলনা করলে, কারণ চিন এখন সর্বজন গ্রাহ্য ভাবেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যবহিত পরেই তার স্থান.

    অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্রিক সংস্থায় যোগদানকে উদ্দেশ্যের উপযুক্ত মনে হয় না, এই কথা বিশ্বাস করেন রসবিজনেসকনসাল্টিং সংস্থার বিশ্লেষিত তথ্য দপ্তরের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ইয়াকভলেভ, তিনি বলেছেন:

     "আমি মনে করি যে, দক্ষিণ আফ্রিকা সবচেয়ে বেশী যোগ্য পদপ্রার্থী নয়. তাদের সর্বমোট জাতীয় উত্পাদনের হার তুলনার যোগ্য নয়, তাদের অর্থনীতিও অন্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে. হ্যাঁ, এই দেশ একই রকম ভাবে কাঁচামাল রপ্তানী নির্ভর, কিন্তু সব মিলিয়ে ভারত, চিন, রাশিয়া অথবা ব্রাজিলের সঙ্গে খুবই তাদের অমিল রয়েছে. অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এই বানানো সংগঠন ব্রিক – এখন নিজেই ফুরিয়ে গিয়েছে. কিন্তু যদিও এখানে অর্থনৈতিক কারণ একেবারে নাও থাকে, রাজনৈতিক দিক থেকে তা কিন্তু প্রসারিত হচ্ছে".

    অনেক সময় ধরে ব্রিক ছিল এক রকমের প্রচ্ছন্ন সংস্থা, ২০০১ সালে "গোল্ডম্যান স্যাকস" সংস্থার বিশ্লেষকেরা এই সংক্ষিপ্ত রূপ ভেবে বার করেছিলেন, যাতে বোঝানো সহজ হয়, সেই সব দেশের সম্বন্ধে, যাদের মনে করা হয়েছে বিনিয়োগ করা লাভজনক দেশ বলে. এই নামকরণ টিকে গিয়েছে, তার ওপরে রাশিয়ার উদ্যোগে এই বাস্তবে না থাকা সংগঠনের জায়গায় এক বেসরকারি কাঠামো তৈরী করা সম্ভব হয়েছিল, যাদের যথেষ্ট ভার রয়েছে. এই সংঘ তৈরী হয়েছে পরিসংখ্যানের তথ্যের ভিত্তিতে, দেশ গুলি বৃহত্ সংখ্যক প্রশ্নে সম্মিলিত অবস্থান নির্ণয় করেছে - সে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও.

    এই পরিস্থিতিতে ব্রিক সংস্থায় আফ্রিকার একটি নেতৃত্বে থাকা দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার যোগদানকে সম্পূর্ণ ভাবে যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি বরিস মাকারেঙ্কো, তিনি বলেছেন:

    "এই দেশ গুলির আলোচনার ক্ষেত্রে ভার আরও বাড়বে অন্যান্য "বড় কুড়িটি" অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশের সঙ্গে আলোচনার সময়ে. প্রথমতঃ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বাজার সম্বন্ধে নীতি তৈরী করার সময়ে".

    এই বছরের এপ্রিল মাসে ব্রিকস সংস্থার নেতারা চিনে মিলিত হবেন নতুন পুনর্গঠনের পরে. তাঁরা সন্দিগ্ধ নন যে এর পরে বিশ্বের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বিনিয়োগের কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে উন্নতিশীল দেশ গুলির পক্ষ থেকে তাঁরা প্রভাব বৃদ্ধি করতে পারবেন.