মধ্যপ্রাচ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলতি সপ্তাহে লিবিয়া পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে.শুক্রুবার বিক্ষোভকারীরা এল-বাইদা শহরে নিজেদের নিয়ন্ত্রেনে নিয়ে আসে এবং স্থানীয় পুলিশ তাদেরকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে.দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হয়েছে.তবে এই আন্দোলন শুরু হয় সেই জানুয়ারি থেকে.মূলত মিসরের পরই.পরবর্তি কোন দেশে এই আন্দোলন অপেক্ষা করছে এবং আরব বিশ্বের এই বিপ্লবের জন্য কে দায়ী?.বিশেষজ্ঞরা আজ এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন.

তিউনিশিয়া থেকে সরকারবিরোধী গনআন্দোলন শুরু হয়েছিল.পরবর্তিতে মিসর,আলজেরিয়া,লিবিয়া,ইয়েমেন তাদের পথ অনুসরন করে.তবে,মৌরিতানিয়া,সৌদি-আরব,ওমান,সুদান ও সিরিয়ায় এই আন্দোলন কিছুটা শিথিল ছিল.তিউনিশিয়া এবং মিসরে গনআন্দোলনের মুখে ইতিমধ্যে দুই প্রেসিডেন্ট বেন আলী ও হুসনে মুবারক পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন.

উত্তর আফ্রিকার যে অংশে বিক্ষোভ আন্দোলন অব্যহত আছে তা ইতিমধ্যে আরব সাগরের দ্বীপসমূহের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে.বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন,এই আন্দোলন হয়ত আফ্রিকার অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পরতে পারে.কে এই আন্দোলনের সূচনা করেছে এবং দেশের অভ্যন্তরে গোলযোগ সৃষ্টির কি কোন অর্থ আছে?.এর উত্তরে পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন মতামত রয়েছে.

একদল বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে,এই ঘটনার সাথে রাজনৈতিক পরিস্থিতি জড়িত আছে.মিসর পরিস্থিতির দিকে তাকালে সেখানে মুবারকের স্বৈরাচারী শাষন ক্ষমতা দেখতে পাওয়া যায়.তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা এই ঘটণার জন্য মিসরের সামাজিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন.তৃত্বীয় পক্ষ অবশ্য বলছে ভিন্ন কথা.তাদের মতে,এই ঘটণার জন্য বিশ্ব অর্থনৈতিক পরাশক্তির দেশসমূহই দায়ী.যারা মিসরের অভ্যন্তরে গোলযোগ সৃষ্টি করে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রন গ্রহনের চেষ্টা করছে.বিশেষভাবে তাদের দৃষ্টি হচ্ছে জ্বালানী তেলের দিকে.

উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ‘আলের বিপ্লব’ পন্থায় আধুনিকায়নের চেষ্টা করছে.এর স্বরুপ যা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে ভিন্নতা রয়েছে.মধ্য এশিয়া ইন্সটিটিউটের সহকারি বিভাগীয় প্রধান আন্দ্রেই গ্রোজিন রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেন-‘আধুনিক পন্থা‘আলের বিপ্লবের’মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে.প্রথমত তা  প্রাক্তন সোভিয়েত নীতি অনুসারে পর্যবেক্ষন করা হয়েছিল.কিন্তু,নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় তা মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশসমূহে ছড়িয়ে পরে’.

ইন্টারনেটে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে.এর মাধ্যমে সংবাদ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পরছে.অন্য যে কোন দেশেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে.তা সম্ভাবনা আছে মধ্য এশিয়ার দেশসমূহে.এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশেই সরকারের বিরুদ্ধে জনগনের অসন্তুষ্টি মনোভাব রয়েছে.জনগনকে সংগঠিত করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উত্সাহিত করা হচ্ছে.ইন্টারনেট এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে.

পশ্চিমা দেশসমূহ বলছে যে,মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক এই আন্দোলনের সাথে ইসলামিক দলসমূহের যোগসূত্র রয়েছে.তবে আন্দ্রেই গ্রোজিন বলছেন যে,তিউনিশিয়া ও মিসরে যা ঘটেছে সেখানে আমরা ইসলামি আন্দোলনকারী দলের কোন যোগসূত্র দেখছি না.

আরব বিশ্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার পরিস্থিতিকে মস্কো গুরুত্বের সাথেই পর্যবেক্ষন করছে.শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয় যে,মধ্যপ্রাচ্যের জনগনের সাথে রাশিয়ার রয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক.ক্রেমলিন এই অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কামনা করছে.