রাশিয়ার আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী সংস্থা দেশের উর্ধতন সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে যারা নিজেদের ক্ষমতা বানিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করছে.এই উদাহরন যা রাষ্ট্রের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের শিথিলতাই তুলে ধরছে.

মস্কোর উপকন্ঠে গোপন কাজিনো’র (আমোদপ্রমোদের কক্ষ )সন্ধান যা চলতি সপ্তাহে দুর্নীতি কর্মকান্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল.সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা যায় যে,অবৈধ ঐ ব্যবসার পরিচালক ইভান নাজারোভ যাকে ইতিমধ্যে গ্রফতার করা হয়েছে তার সাথে মস্কো উপশহরের সরকারি অভিযোক্তার যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক ছিল.যদিও মস্কো উপশহরের প্রথম সহকারি সরকারি অভিযোক্তার সাথেও ব্যাবসায়ীদের গোপন সম্পর্ক ছিল.

রাশিয়ার সরকারি জেনারেল অভিযোক্তা উপশহরের প্রতিটি  অভিযোক্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধন পরিচালনার উদ্দোগ নিয়েছেন.আইনরক্ষাকারী সংস্থার কাছে ইতিমধ্যে তথ্য রয়েছে যে,জুয়া খেলার ঐ সব ক্লাবসমূহের মালিকদের অর্থে অভিযোক্তারা  বিদেশে বিলাসবহুল ভ্রমনে যেতেন.এছাড়া জানা যায় যে,মস্কোর উপশহরের কোন একটি এলাকার প্রশাসন কর্মকর্তার সহযোগিতায় আইনভঙ্গ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অধিগ্রহন করে.যেখানে পরবর্তিতে তাদের নিজস্ব কটেজ ও গ্রেজ তৈরী করা হয়.

একই সাথে রাশিয়ার স্বরাষ্টমন্ত্রনালয় মস্কোর সাবেক মেয়র ইউরি লুশকোভের স্ত্রী ইয়েলেনা বাতুরিনার ইনতেকো কোম্পানীর বিরুদ্ধে নজরদারী রাখছে.পর্যবেক্ষনে জানা যায় ‘মস্কো বাংক’ ও ‘প্রিমের এসতেইত’ ফার্মের কর্মকর্তা এবং নগরের প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুতগতিতেই প্রায় অর্ধ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পায়.পালাক্রমে এই অর্থ ইয়েলেনা বাতুরিনার নিজস্ব বাংক একাউন্টে জমা পরে.

এছাড়াও আরও নতুন পর্যবেক্ষনের কাজ পরিচালনা করা হতে পারে,বিশেষভাবে যারা সাম্প্রতিক সময় মস্কো পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন.জানালেন জাতিয় দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিনিধি কিরিল কাবানোভ.তিনি বলছেন-‘শুধুমাত্র ইয়েলেনা বাতুরিনাই প্রশাসনের ক্ষমতা ব্যবহার করেন নি.এখনও অনেক প্রশ্ন রয়েছে যারা মস্কো প্রশাসনে কর্মরত আছে.যদি এই বিষয়টি চিরাচরিত ইতিহাস,তাহলে তা পদ্ধতিগত অনুযায়ি সমাধান করতে হবে.রাজনৈতিক ধারায় নয়.যদি প্রেসিডেন্ট বলেন যে,এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে তাহলে ফেডারেল অর্থ-সম্পত্তিরও হিসাব-নিকাশ করতে হবে.

উল্লেখ করা যায় যে,দুর্নীতি দমন অভিযান শুধুমাত্র রাজধানীতেই নয় বরং তা রাশিয়ার দূরবর্তী অঞ্চলেও পরিচালিত হচ্ছে.

এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে প্রিমোরের কথা.যেখানে দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে.এছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভ্লাদিভাস্তক শহরের প্রধান কেন্দ্র ও পর্যটক এলাকার ফেডারেল জমি অধিগ্রহন করারও ঘটনা ঘটেছে.যেখানে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ভাষ্কর্যও ছিল.সর্বশেষ হিসাব মোতাবেক রাষ্ট্রের এ ক্ষেত্রে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অপচয় হয়েছে.

এই বিষয় এবং অন্যান্য ব্যাপক পর্যবেক্ষন কার্যক্রম যা থেকে প্রকাশ পাচ্ছে যে,দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র অনেক কঠোর ও তা দমনে দ্রুত গতিতে কাজ করছে.দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে রাশিয়ার সমাজ ও বিশ্ব সাক্ষী হয়ে থাকছে.