ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ দেশে এক রাশ দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যাণ্ডাল হওয়াতে সম্ভাব্য ক্ষমতা চ্যুতি ও পদত্যাগের বিষয়ে নেতিবাচক উত্তর দিয়েছেন. তিনি তাঁর বিরোধী দের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যে, সরকার খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে ও তিনি নিজেই একজন অসফল প্রধানমন্ত্রী. বিষয়টিকে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    এটা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম একই ধরনের ঘোষণা নয়. একের পর এক উত্পত্তি হওয়া দুর্নীতির স্ক্যাণ্ডাল ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভারসাম্য নষ্ট করেছে ও শাসক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (ইন্দিরা) দলের সম্বন্ধে ধারণা পাল্টে দিয়েছে, একই সঙ্গে পাল্টেছে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী সম্বন্ধেও ধারণা.

    সব শুরু হয়েছিল ভারতে কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি নিয়ে, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মীদের দুর্নীতি প্রায় এই গেমস মুলতুবি করে দিতে বাধ্য করতে পারত, যদি না প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই বিষয়ে ব্যবস্থা না করতেন ও খেলার জায়গা ও থাকার জায়গা ঠিক করতেন. তারপরে শুরু হয়েছিল মোবাইল পরিষেবা ব্যবস্থার রেডিও তরঙ্গ বরাদ্দ করা নিয়ে দুর্নীতি বিষয়ে স্ক্যাণ্ডাল, যোগাযোগ মন্ত্রী নিজেই এই ব্যাপারে জড়িত সন্দেহ রয়েছে. মন্ত্রী বিপুল পরিমানে অর্থ নয়ছয় ও আত্মসাত্ করেছেন, বলে মনে করা হয়েছে, আর সর্বোপরি শেষ স্ক্যাণ্ডাল, যেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুম্বাই শহরে ভেটেরান দের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাট সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা নিজেদের জন্য নিয়ে নিয়েছেন.

    সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি বহু বিক্ষোভ মিছিলের কারণ হয়েছে. বিরোধী পক্ষ খুবই কড়া ভাষায় সরকারের নামে অভিযোগ করেছে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য ও অপরাধীদের আড়াল করার জন্য. ভারতীয় লোকসভার শীত অধিবেশন বাস্তবে বন্ধ করা হয়েছিল ও বিরোধী পক্ষ হুমকি দিয়েছে যে, বসন্ত অধিবেশনের হালও একই হবে, যদি না এই সমস্ত সাড়া জাগানো দুর্নীতির কোন অনুসন্ধান করে বিচার না করা হয়. দেশের চালচিত্রে এই ঘটনা সমস্ত রকমের কলঙ্ক লেপন করলেও এটা কিন্তু ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তির সম্বন্ধে একটা প্যারাডক্স প্রমাণ করেছে, এই কথা বলেছেন রুশ রাজনীতিবিদ আলেক্সেই মাকারকিন:

    "ভারতের মতো দেশের, যেখানে রাজনৈতিক গণতন্ত্র বিদ্যমান, এই দেশে উপায় রয়েছে আগামী নির্বাচনে দুর্নীতি গ্রস্থ সরকারকে আর সমর্থন না করার. যদি সরকার দুর্নীতির লক্ষণ রেখা বা খড়ির গণ্ডি পার হয়ে যায়, তবে বিরোধী পক্ষকে সরকারে উপবিষ্ট করা যেতে পারে, আর সেটা হতে পারে সভ্য ভাবে, কোন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ না করেই".

    নিকট প্রাচ্যের আরব দেশ গুলিতে দুর্নীতি দমনের দাবী অন্যতম কারণ হয়েছিল বহু সহস্র লোকের বিক্ষোভ প্রদর্শনের, যা আজ সব দেশেই চলছে. এই পরিস্থিতিতে ভারতে দুর্নীতি সম্পর্কে পরপর স্ক্যাণ্ডাল একেবারেই সাধারন ব্যাপার মনে হচ্ছে না. তার আরও কারণ হল, এর ফলে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে, বিদেশী ব্যবসায়ী এই দেশে নিজের বিনিয়োগ করার আগে এই সব দুর্নীতি স্ক্যাণ্ডাল সম্বন্ধে চিন্তিত হয়েছে. এই দিকেই নিজের বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ. তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সরকার সমস্ত ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে একমত ও সেই ক্ষেত্রে দেখা হবে না কে কত উঁচু পদে আসীন ছিল.