আমেরিকার ফাস্ট কোম্পানী জার্নালের প্রকাশিত সংখ্যায় রাশিয়ার দুটি কোম্পানী ইয়ানডেক্স ও কাসপেরস্কি ল্যাবরেটরী বিশ্বের সেরা ৫০টি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কোম্পানীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে.

    রাশিয়ার বৃহত্তম খোঁজ ইঞ্জিন ইয়ানডেক্স তালিকায় ২৬ তম জায়গায় রয়েছে. জার্নালের প্রতিনিধিরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, ইয়ানডেক্স বিশ্বের খুবই কম কোম্পানীর মধ্যে একটি যে গোগোল সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পেরেছে, গোগোল নিজেই রয়েছে রেটিং এ ষষ্ঠ স্থানে.

    ইয়ানডেক্স কোম্পানীর প্রেস সেক্রেটারী ওচিরা মানঝিকোভা যে মত দিয়েছেন, তা অনুযায়ী তালিকায় কোম্পানী যে জায়গা নিতে পেরেছে, সেটা কোম্পানীর বর্তমান স্ট্যাটাস, উন্নতির পরিমান ও নতুন প্রযুক্তি উপস্থাপনার গতির সঙ্গে মিলেছে, তিনি বলেছেন:

    "গত বছরের মে মাসে ইয়ানডেক্স ডট কম সাইট খোলা হয়েছে, অর্থাত্ এবারে সারা বিশ্বেই ইন্টারনেটে এই সাইট ব্যবহার করে খোঁজ করা যাবে. আমরা অন্যান্য সামাজিক সাইটের সঙ্গে সহযোগিতা শুরু করেছি, তার মধ্যে রয়েছে ফেসবুক ও ভ কনটাক্টে. অনেক রকমের পরিষেবা খুলেছি, এই সব মিলিয়ে আমাদের সার্চ ইঞ্জিনের অনেক উন্নতি হয়েছে. যা স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের বাজার দর ভাল করেছে. এই বছরের জানুয়ারী মাসে ইয়ানডেক্স কোম্পানীর রাশিয়ার বাজারে দখল ছিল শতকরা ৬৪, ৪ ভাগ. আমাদের খুবই ভাল লাগছে যে, আমাদের সম্বন্ধে শুধু রাশিয়াতেই নয়, এমনকি আমেরিকাতেও জানে. আরও ভাল এই কারণে যে, এই প্রথম দুটি রুশ কোম্পানী একসাথে মর্যাদার তালিকায় ঢুকতে পেরেছে. ইয়ানডেক্স কোম্পানীর থেকে ছয় ঘর দুরে রয়েছে কাসপেরস্কি ল্যাবরেটরী ৩২ নম্বরে".

    উদ্ভাবনী কোম্পানী গুলির রেটিং অনুযায়ী প্রথম পঞ্চাশে, যাঁরা তালিকা বানিয়েছেন, তাঁদের মতে সেই সব কোম্পানীর নাম আছে, যারা নতুন কোন পরিষেবা তৈরী করছেন কোন রকমের একগুঁয়ে ধারণা না নিয়ে. তাদের বিশেষজ্ঞরা শুধু সাধারন দৃষ্টিকোণ থেকেই লক্ষ্য পরিবর্তন করতে রাজী নন, বরং তাঁরা প্রয়োজনে পতন হতে পারে জানলেও ঝুঁকি নিতে ভয় পান না. আর এই ধরনের ক্ষমতা থাকে শুধু সাহসী লোকেদের. কাসপেরস্কি ল্যাবরেটরী এই কারণেই রাশিয়ার সমস্ত কম্পিউটার জিনিয়াসদের জন্য চুম্বকের মত কাজ করে, যারা হ্যাকার দের মত অন্যের সাইট ধ্বংস করা বন্ধ করে ভাইরাস কোড বিশ্লেষণ করতে তৈরী.

    এই সবই আঞ্চলিক সামাজিক ইন্টারনেট - প্রযুক্তি কেন্দ্রের সিনিয়র বিশ্লেষক উরভান পারফেনতিয়েভের ভাষায় বিশ্বে রাশিয়ার প্রতি ধারণা ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বদল করে দিয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

    "দুটি রুশ কোম্পানীর আন্তর্জাতিক রেটিং তালিকায় জায়গা পাওয়া সন্দেহ নেই সম্মানের ব্যাপার. কারণ দুঃখের হলেও বহু শিল্পোন্নত দেশে রাশিয়া সম্বন্ধে ধারণা যে এটা একটা দেশ, যার শুধু গ্যাস পাইপ লাইন রয়েছে. আর যদি আই টি নিয়ে বলতে হয়, তবে সাধারণতঃ হ্যাকার নিয়ে কথা বলা হয়ে থাকে. তাই এই তালিকাভুক্তি সন্দেহ নেই যে, আন্তর্জাতিক ভাবে রাশিয়ার কোম্পানীর উন্নয়ন ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতির পরিচয়. এই ঘটনা ইতিবাচক ভাবে শুধু তাদের মর্যাদাই বাড়ায় না, বরং আন্তর্জাতিক ভাবে রাশিয়ার সম্মানও বৃদ্ধি করে".

    অবশ্যই সাফল্যের সব চেয়ে বড় মাপকাঠি কখনোই শুধু রেটিং নয়. এই বছরের তালিকায় থাকা কোম্পানী আগামী বছরে আর নাও থাকতে পারে, তবুও ইয়ানডেক্স ও কাসপেরস্কি ল্যাবরেটরী, যারা মাইক্রোসফট্, সিস্কো ও সামসুঙ্গ কোম্পানীকে টপকে যেতে পেরেছে, তাদের এখনও এগিয়ে যাওয়ার জায়গা রয়েছে.