রাশিয়ার নাবিকদের কর্মী সঙ্ঘ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের কাছে আবেদন করেছে জলদস্যূদের এখন থেকে সন্ত্রাসবাদী দের সমান করে দেখা দরকার ও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাব করে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ সামরিক নৌবাহিনীর শক্তি প্রয়োগ করার ব্যবস্থা করা. এই বিভাগ ক্ষমতা রাখবে আডেন উপ সাগরের উপকূলে জলদস্যূদের ও তাদের তীর এলাকার ঘাঁটি ধ্বংস করার, এই বিষয়ে রাশিয়ার নাবিকদের কর্মী সঙ্ঘের নেতারা সকলেই দৃঢ় বিশ্বাস করেন.

    সোমালির তীরের কাছে জাহাজ দখল অনেক দিন ধরেই বহু দেশের ও বহু জাহাজের নাবিক ও মালিকদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে, কিন্তু আডেন উপসাগরের এলাকা আগের মতই একটি সবচেয়ে বেশী জাহাজ চলাচলের পথ হয়ে রয়েছে, তাই সেখানে নিয়মিত নতুন জাহাজ ধরা পড়ছে জলদস্যূদের হাতে. আন্তর্জাতিক আইনের ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উপায় অসম্পূর্ণ হওয়ায় ও আলাদা করে সামুদ্রিক কনভয় ব্যবহার করে এই বিস্তৃত অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করার বিষয়ে সুবিধা না থাকায় এই তথাকথিত মধ্য যুগীয় সমস্যার সমাধান করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না.

    নাবিকদের আবেদনের জন্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু দিন আগে ভারত মহাসাগরে "বেলুগা নমিনেশন" নামের একটি জাহাজ দখল হয়ে যাওয়া. এই ঘটনা আরও অন্যান্য দখল হওয়া জাহাজের তালিকায় আরেকটি পরিসংখ্যান হয়েই থাকতে পারতো, যদি না একটি "কিন্তু" থাকত. এই জাহাজটিকে ছাড়াতে যাওয়ার চেষ্টা করার সময়ে জলদস্যূরা একজন ফিলিপাইনসের নাবিককে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে, জাহাজের আরও দুই জন নাবিক, তার মধ্যে এক রুশ লোকও ছিল, নিখোঁজ হয়েছে. বলা যায় না, তারাও হয়ত জলদস্যূদের শিকার হয়েছে. এই ট্র্যাজিক পরিস্থিতি খুবই অপ্রিয় ঘটনা হয়ে উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যদি আগে জলদস্যূরা শুধু অর্থ নিত মুক্তি পণ হিসাবে ও চেষ্টা করত রক্ত না ঝরাতে. এখন তারা এই লক্ষণ রেখাও পার হয়ে গিয়েছে.

    রাশিয়ার নাবিকেরা সন্ত্রাসবাদের আর একটি রূপ হিসাবে জলদস্যূ দের দেখেছে, এই বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে রুশ নাবিকদের পেশাদার সঙ্ঘের সভাপতি ইগর পাভলভ বলেছেন:

    "এখনই আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছি, কারণ আগে জলদস্যূরা জেনে শুনেই বন্দীদের মেরে ফেলত না. কিন্তু এই ফিলিপাইনসের নাবিকের মৃত্যু – এটা প্রথমবার, যখন জেনে শুনেই তারা প্রাণ নিয়েছে, যে ওদের কাছে বন্দী ছিল. আর তাই আমার মতে জলদস্যূরা আর সন্ত্রাসবাদীদের থেকে আলাদা নয়.ওদের সঙ্গে সমস্ত সরকার তাদের দেশে যে রকমের যুদ্ধ করেছে, এখানেও সেই রকমের যুদ্ধই করা প্রয়োজন".

    বর্তমানের বিশ্ব সমাজ জলদস্যূদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, রাশিয়ার নাবিকেরা তা যথেষ্ট মনে করেন না. অংশতঃ তাঁরা প্রস্তাব করেছেন সোমালি সামুদ্রিক দিক থেকে বন্ধ করে দিতে ও সেখানের যে কোন রকমের জলে ভাসা যান পরীক্ষা করে দেখতে, যা তাদের এলাকার জলসীমার ১২ মাইলের বেশী দূরে চলে আসবে. যদি এই সব লোকেরা নির্দেশ পালন করতে না চায়. তবে তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে.

    সারা বিশ্বের সমাজ আজ জলদস্যূদের কাজ কারবারের বিশালত্ব দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছে, আর মনে হয়, তাদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করলে চলবে না, এই রকম মনে করে বিখ্যাত সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ ভাসিলি গুত্সুলিয়াক বলেছেন:

    "যা আজ ঘটছে, কোন রকমের যুক্তি দিয়ে তা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়. পরিস্থিতি খালি খারাপই হচ্ছে, আইন সঙ্গত সব ব্যবস্থা, যা বিশ্ব সমাজ আজ প্রয়োগ করছে, দেখাই যাচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়. যদিও এই সম্বন্ধে বেশ কিছু রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তও রয়েছে. এই ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ বাড়াতে হবে. প্রথমতঃ, সামরিক নৌবাহিনীর জাহাজের টহল দারী বাড়াতে হবে, অবশ্যই এটা দামী সুখ, কিন্তু তা না করে উপায় নেই. যদি জলদস্যূ প্রবণ এলাকায় এই কাজ করা না হয়, পরিস্থিতি ভালর দিকে যাবে না".

    যোগ করব যে, বর্তমানে জলদস্যূদের হাতে বন্দী রয়েছে ৪৯ টি জাহাজ. আর যে কোন বাণিজ্য জাহাজই সামান্যতম আগ্রহের কারণ হলেই জলদস্যূদের শিকার হতে পারে. এটা হতে পারে বিশাল খনিজ তেলের ট্যাঙ্কার, বা সাধারন কন্টেনার বাহী জাহাজ. সম্ভবতঃ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে খুবই শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে আডেন উপ সাগরের জলদস্যূদের বিরুদ্ধে, তা না হলে তাদের জেতা ট্রফির সংখ্যা বাড়তেই থাকবে.