রাশিয়া মনে করে এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নতুন নিরাপত্তা কাঠামো সৃষ্টি করার প্রয়োজন. এই সম্বন্ধে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার ডিরেক্টর বেক্তিয়ার খাকিমভ দিল্লী শহরে আয়োজিত এশিয়ার নিরাপত্তা রক্ষা নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন. এই বিষয়কে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

আমরা যখন এশিয়া সম্পর্কে বলি, তখন প্রথমতঃ আমরা এই অঞ্চলের বিরাট অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে লক্ষ্য করি. এই অঞ্চলের দুটি বৃহত্তম দেশ – চিন ও ভারত – আজ বিশ্বে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক উন্নয়ন করছে. বিশেষজ্ঞদের হিসাব মতো ২০৫০ সালের মধ্যে ভারত, রাশিয়া ও চিনের অর্থনীতি সম্মিলিত ভাবে বড় সাতটি দেশের অর্থনীতিকে অতিক্রম করবে. এশিয়া বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিনত হচ্ছে.

 একই সময়ে এশিয়াতে বড় বিরোধের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে. ভারত- চিনের সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি, চিন ও জাপানের মধ্যে সেনকাকু দ্বীপ নিয়ে বিতর্ক, টোকিওর কুরিল দ্বীপপূঞ্জ নিয়ে দাবী, জাপান – কোরিয়ার এলাকা সংক্রান্ত বিবাদ, আফগানিস্থানে যুদ্ধ, অন্যান্য অসমাধিত সমস্যা গুলি পরিস্থিতিকে দ্রুত তীক্ষ্ণ করে তুলতে পারে. এশিয়ার দেশ গুলির জন্য প্রধান বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই যুগের সমস্যা, সন্ত্রাসবাদের সমস্যা, পারমানবিক অস্ত্রের প্রসারের সম্ভাবনা, জলদস্যূ সমস্যা এবং অস্ত্র পাচার. তার মধ্যে এশিয়ার দেশ গুলি ইউরোপের দেশ গুলির তুলনায় নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সংস্থা তৈরী করে নি, যেমন ইউরোপে রয়েছে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা. তাই এই প্রসঙ্গে এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলি সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

"এশিয়া ইউরোপ নয়, এখানে দেশ গুলি নিজেদের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী অনেক বেশী রকমে একে অপরের চেয়ে আলাদা, সেখানে ধর্মীয় পার্থক্য রয়েছে, অর্থনৈতিক পার্থক্য রয়েছে রেটিং বিষয়ে, এলাকায় নানা রকমের প্রজাতির বাস, আরও নানা বিষয়ে ইউরোপের চেয়ে এখানে সব কিছু আলাদা. তাই এখানে ইউরোপীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থার মত কোন সংস্থা সৃষ্টি করা যথেষ্ট কঠিন কাজ. আর এই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, যা এশিয়ার দুটি বৃহত্তম দেশকে একত্র করেছে – রাশিয়া ও চিন – আর চারটি মধ্য এশিয়ার দেশকেও একসাথে করতে সমর্থ হয়েছে, তা একমাত্র পারে এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভারী কাজের দায়িত্ব নিতে. ভারত ও পাকিস্তান এই সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ হয়ে আছে, সেটাও ভাল কথা".

এশিয়াতে বর্তমানে যে সমস্ত কাঠামো রয়েছে, তার উপরেই দিল্লী সম্মেলনে নির্ভর করতে আহ্বান করা হয়েছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা এখানে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে.

এশিয়ার মাদক পাচার সমস্যার বিরুদ্ধেও সা স সংস্থা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা এর একটি অন্যতম কাজ, সংস্থার প্রথম দলিল গুলির মধ্যে সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও বিচ্ছিন্নতা বাদের মোকাবিলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. এই সংস্থা বহু শত এই ধরনের ঘটনার সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে, ২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালানো হচ্ছে, বিশ্বের সন্ত্রাসকে সম্মিলিত বাধা দেওয়ার জন্য.