ইরানের প্রতি আবার নতুন করে এক তরফা নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করলে তা এই দেশের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক হবে ও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের "৩ + ৩" দলের কাঠামোর মধ্যে কাজ করা কঠিন হবে – এই ছয় পক্ষ হল – রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, চিন ও জার্মানী. লন্ডনে সরকারি সফরের সময়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই ঘোষণা করেছেন.

    রাষ্ট্রসংঘের ১৯২৯ নম্বর সিদ্ধান্ত, যা গত বছরে ঘোষণা করা হয়েছিল, তার উপরে আবার আলাদা করে বিভিন্ন দেশ যে ইরানের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে, রাশিয়া মনে করে গ্রহণ যোগ্য নয়. সাধারন ভাবেই এক্ষেত্রে বাদার কারণ হয়েছে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা, যা পশ্চিমের দেশ গুলির পক্ষ থেকে দেখা হয়েছে নিজেদের নিরাপত্তার উদ্বেগ হিসাবে.

    যদিও ২০১০ সালেই বহু আলোচনার পরে ইরান সম্বন্ধে এক নিষেধাজ্ঞা জারী করা সম্ভব হয়েছিল, যেখানে রাশিয়া ও চিন সম্মতি দিয়েছিল, যারা এমনিতেই ইরানের প্রতি ঐতিহ্য মেনে ভারসাম্য রেখে ইরানের প্রতি রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে থাকে. এই দলিলে ঐস্লামিক দেশটি আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ মুক্ত সহযোগিতা করছে না বলে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছিল. কিন্তু কিছু পশ্চিমের দেশের কাছে এটা মনে হয়েছিল পুরো হয় নি, আর তারা আলাদা করে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের উপরে নিজেদের প্রভাব খাটানোর ব্যবস্থা করেছিল. এই ব্যবস্থা হয়েছে প্রয়োজনের চেয়ে বেশী, এই কথাই সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন, কারণ বর্তমানে এমন কি সেই সমস্ত সংস্থার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা বহাল হয়েছে, যাদের ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সঙ্গে যোগাযোগ সরাসরি নয়. এই প্রসঙ্গে লাভরভ বলেছেন:

    "এর পর আরও নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হলে, তা ইরানের অর্থনীতির উপরে শ্বাস কষ্টের প্রভাব ফেলবে, দেশের নাগরিক ও সমাজের উপরে কুফল বর্তাবে. আমরা এই গুলি সমর্থন করতে পারি না. আমি এই বিষয়ে সোজাই বলছি. দ্বিতীয় প্রসঙ্গ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে – যার পরে এক তরফা ভাবে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে. এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় সংঘ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া. এর ফলে আমাদের সম্মিলিত ভাবে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৩+ ৩ কাঠামোর মধ্যে কাজের গতি ভঙ্গ করে সমস্যা সৃষ্টি হল. কারণ যদি আমরা একসাথে আলোচনা করে কোন সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিই, তবে আইন গত ভাবে প্রভাব বিস্তার করার জন্য সেই সিদ্ধান্ত থেকে যেমন কম, তেমনই বেশীর দিকে যাওয়া চলে না, তাহলে এমন হয় যে, আমরা যে সমস্ত বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বহু পরিশ্রম করে একটি সহমতে পৌঁছতে পেরেছিলাম ও একটি খুবই শক্তিশালী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, যা রাশিয়া ও চিন ও সমর্থন করেছিল ও যাকে মনে করা যেতে পারে সমস্ত সদস্য দেশের সম্মিলিত মানসিকতার প্রতিফলন ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাব দিয়ে যাকে দৃঢ় করা হয়েছিল, তার কোন মানে রইল না. দেখা গেল আমাদের পশ্চিমের সহকর্মী দেশ গুলি এই সিদ্ধান্তে যে সমস্ত জিনিস ঢোকাতে পারেন নি, সেগুলিই তারা আলাদা করে এক তরফা ভাবে বহাল করছেন. এটাকে সহকর্মী সুলভ বলা চলে না".

    একই সঙ্গে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়েই সমস্যা সমাধান করা যাবে না. কারণ বোঝাই য়াচ্ছে যে, যে কোন রকমের চাপের একটি প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতা আছে. আন্তর্জাতিক সমাজকে স্থির নিশ্চিত হতে হবে যে, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা শান্তিপূর্ণ ও সেখানে কোন সামরিক অংশ নেই, আর সেটা শুধু পেশী প্রদর্শন করেই করা ঠিক হবে না, বরং তার জন্য একেবারে নতুন "সৃষ্টি মূলক" সব ব্যবস্থার প্রয়োজন. যদি এটা করা যায়, তবে ইরান পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির এক বিবেক বান সহকর্মী দেশ হবে ও এই দেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগী সম্পর্ক তৈরী করা সম্ভব হবে.