তুর্কমেনিস্থান – আফগানিস্থান – পাকিস্তান – ভারত (তাপি) প্রকল্প নাবুক্কো প্রকল্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে. আশখাবাদের এশিয়ার সহযোগী দেশ গুলি এই বছরের প্রথমার্ধেই ক্রয় বিক্রয় চুক্তি তাদের সঙ্গে করতে চেয়েছে. একই সময়ে নাবুক্কো প্রকল্পের এখনও তুর্কমেনিয়া থেকে গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে কোন নিশ্চয়তা নেই.

    তুর্কমেনিস্তান এশিয়ার ক্রেতাদের ও ইউরোপের ক্রেতাদের সকলকেই গ্যাস বিক্রী করতে প্রস্তুত বলেছে. ইউরোপের অস্ট্রিয়া, বুলগারিয়া, হাঙ্গেরী, জার্মানী, রুমানিয়া ও তুরস্ক এই গ্যাসের প্রকল্প থেকে লাভবান হতে চায়. দুই পক্ষের একই পরিমানে প্রায় গ্যাসের দরকার – বছরে ৩১ থেকে ৩৩ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস. তাপি প্রকল্পের জন্য তুর্কমেনিস্থান একমাত্র সরবরাহকারী দেশে, নাবুক্কো প্রকল্পের জন্য তুর্কমেনিস্থানকে আজারবাইজানের মতই প্রধান সরবরাহ কারী দেশ হিসাবে মনে করা হয়েছে. কিন্তু আশখাবাদের যথেষ্ট পরিমানে গ্যাস দেওয়ার ক্ষমতা নেই, যাতে একই সময়ে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে প্রয়োজনীয় গ্যাস পাঠানো সম্ভব হয়, এই কথা মনে করে রাশিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস শিল্প গুলির সংঘের প্রেসিডেন্ট গেন্নাদি শ্মাল বলেছেন:

    "আজকের তুর্কমেনিস্থান ৭০ -৭৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস উত্পাদন করে, সেখানে এক সারি আগ্রহোদ্দীপক গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্র রয়েছে, যা সমস্ত গ্যাস উত্তোলন প্রক্রিয়াকেই অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে. চিন, ইরান ও রাশিয়া অবধি গ্যাস পাইপ লাইন পাতা রয়েছে. তাপি প্রকল্প আশখাবাদের জন্য আঞ্চলিক ভূ রাজনৈতিক বিচারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর এই প্রকল্পের সম্ভাবনা নাবুক্কো প্রকল্পের চেয়ে বেশী. যদি তা তৈরী করা সম্ভব হয়, তবে নাবুক্কো প্রকল্প একেবারেই কিছু পাবে না. এমনিতে এখনই এই প্রকল্পের কোন সরবরাহের সঠিক উত্স ঠিক নেই. আমি মনে করি যে, তাপি গ্যাস পাইপ লাইন তৈরী হলে সমস্যা আরও জটিল হবে এই নাবুক্কো প্রকল্পে গ্যাস সরবরাহের জন্য".

    তার উপরে আফগানিস্থান, পাকিস্তান ও ভারত সব দেখে শুনে মনে হয়েছে প্রথমেই নিজেদের প্রয়োজনীয় পরিমানের চুক্তি করতে চলেছে, আশখাবাদের আরও এক দফা বৈঠকের শেষে এশিয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের উপস্থিতিতে মনে হয়েছে যে, এটা ঘটতে চলেছে আগামী দুই তিন মাসের মধ্যেই. নাবুক্কো প্রকল্প বিশেষজ্ঞদের মনে হয়েছে কাগজে কলমেই রয়ে যাবে, কারণ এখনও দুই প্রধান সরবরাহ কারী দেশ আজারবাইজান ও তুর্কমেনিস্থানের সঙ্গে কোন রকমের ক্রয় বিক্রয় চুক্তি তৈরী হয় নি. এই রকমের অনিশ্চিত পরিস্থিতি বাকু কে খুবই উদ্বিগ্ন করেছে. কিছু দিন আগে সেখান থেকে ইউরোপের সহকর্মী দেশ গুলিকে জানানো হয়েছে যে, তারা নাবুক্কো প্রকল্পের জন্য দ্বিতীয় উত্স হতে রাজী হবে না, যদি না তুর্কমেনিয়া থেকে অর্ধেক গ্যাস দিয়ে এই পাইপ লাইন ভর্তি করা হয়. আজারবাইজান এক্ষেত্রে পরিস্কার অর্থনৈতিক বিচার থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে – তুর্কমেনিস্থান ছাড়া একাই তাদের ট্রানজিট করার খরচ দিতে হবে, আর যেহেতু পাইপ লাইন থাকবে অর্ধেক খালি, তাতে আজারবাইজানের গ্যাসের দামও ইউরোপের ক্রেতাদের জন্য দামী ও লাভজনক হবে না.

    এই জটিল সমস্যা সমাধান করার দায় পড়েছে ইউরোপীয় সংঘের উপরে, তার মধ্যে করতে হবে কাজ সারা ক্ষণই. তা না হলে – মুখ রক্ষা হবে না. রাশিয়ার সামনেও তাদের নত হতে হবে. ব্রাসেলস শহরে নাবুক্কো প্রকল্পকে দেখা হয়েছিল রাশিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য, কারণ এই প্রকল্পের সবটাই রাশিয়ার সীমানার বাইরে দিয়ে কাস্পিয়ান সাগরের তলা দিয়ে তুরস্ক হয়ে করার কথা. রাশিয়ার এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করার মতো উপায় রয়েছে. এটা দক্ষিণ প্রবাহ গ্যাস পাইপ লাইন. কৃষ্ণ সাগরের তলা দিয়ে দক্ষিণ ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর জন্য. বুধবারে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের পরিস্থিতি নিয়ে রুশ – ইতালি শীর্ষ বৈঠক হবে রোমে. এখানে গ্যাস পাইপ লাইন দ্রুত তৈরী করার কথা ও প্রকল্পে নতুন কার্যকরী পরিষদের সদস্য দেশ ও ক্রেতা দেশকে যোগ করার কথা হবে.