পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্ক আবার এক স্থাণু অবস্থায়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার আমেরিকা- পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ গুটিয়ে ফেলা চালিয়ে যাচ্ছে. অনির্দিষ্ট কালের জন্য ওয়াশিংটনে পাকিস্তান – আফগানিস্থান ও আমেরিকার ফেব্রুয়ারী মাসে সূচী অনুযায়ী ঘোষিত বৈঠক স্থগিত রাখা হয়েছে. এই সম্বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি ফিলিপ ক্রউলি ঘোষণা করেছেন. মার্চ মাসে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরও বর্তমানে সংশয়ের বিষয়. ওয়াশিংটনে যেমন জানানো হয়েছে যে, "আমেরিকার দূতাবাসের কর্মী রাইমন্ড ডেভিস কে মুক্ত করা না হলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির এখানে কিছু করার নেই". বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ওয়াশিংটনের তরফ থেকে ইসলামাবাদের উপরে অনতিপূর্ব চাপ, যা বর্তমানে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা পাকিস্তানে খুবই বিক্ষোভের কারণ হয়েছে. ২৭শে জানুয়ারী থেকে, যখন রাইমন্ড ডেভিস (যাকে আমেরিকার লোকেরা কখনও কূটনীতিবিদ আবার কখনও সাধারণ প্রযুক্তি বিষয়ে সহকর্মী বলছেন) লাহোরে দুইজন পাকিস্তানের নাগরিককে গুলি করে ও গ্রেপ্তার হয়, তার পর থেকে দুই সপ্তাহ কেটে গিয়েছে. এই পুরো সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব চাপ দিয়ে বলছে তাকে ছেড়ে দিতে. প্রসঙ্গতঃ সব সময়ে এটা খুব একটা কূটনৈতিক ভাবে করাও হচ্ছে না.

    আমেরিকার প্রতিনিধি দলের কাজ পাকিস্তানের জনতার বিক্ষোভের কারণ হয়েছে. লাহোরে আমেরিকার বিরুদ্ধে বড় মিছিল হয়েছে. ইসলামাবাদ রাজী হতেও পারতো রাইমন্ড ডেভিস কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে, কিন্তু খুব ভয় পেয়েছে যে, দেশে এর ফলে সামাজিক বিস্ফোরণ ঘটবে. আমেরিকা বিরোধী প্রতিবাদ এমন ঘটনায় পরিনত হতে পারে যে, তা আজ আরব দুনিয়াতে যা ঘটছে, তারই মত হতে পারে. এই রকম ধারণা করে বিখ্যাত রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও প্রাচ্য বিশারদ ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি বলেছেন:

    "বড় মাপের নাগরিক বিক্ষোভ হতে পারে, যদি রাইমন্ড ডেভিস কে ছেড়ে দেওয়া হয়, সমাজের প্রতিবাদ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে রাস্তায় নামতে পারে. বর্তমানের প্রশাসন এই বিষয়েই ভয় পাচ্ছে, যাতে এই নিয়ে উত্তেজনা প্রশমণ করা সম্ভব হয় ও সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন পাওয়া সম্ভব হয়. যাতে তা একেই দেশের টলমলে শাসনের নৌকাকে রাইমন্ড ডেভিস কে মার্কিন সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সময়ে এক দিকে কাত হয়ে না পড়ে. এই রকমের একটা অস্বচ্ছ পরিস্থিতির বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে".

    ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি কিন্তু মনে করেন যে, পাকিস্তানে ইজিপ্টের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি আশা করা ঠিক হবে না. অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় পাকিস্তানে স্বৈর তন্ত্র নয়, বরং আপাত দৃষ্টিতে গণতন্ত্র বহাল রয়েছে, যারা অল্প কিছু কাল আগেই সরকারে এসেছে. সেখানে টিউনিশিয়া বা ইজিপ্টের মত বদ্ধ রাজনৈতিক আবহাওয়া নয়. কিন্তু দেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের সম্ভাবনা রুশ বিশেষজ্ঞ একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেন নি. কারণ সমস্যা, যা আজকের দিনে পাকিস্তানে রয়েছে, তা টিউনিশিয়া, ইয়েমেন, ইরান ও ইজিপ্টের মত দেশ গুলির সমস্যার সঙ্গে খুবই মিল রয়েছে. সেই একই রকমের দারিদ্র, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সাধারন লোকের ভবিষ্যত অন্ধকার, যা তাদের বিক্ষোভ মিছিলে সামিল করেছে রাস্তায় ও বড় আর ছোট শহরের সমস্ত মাঠে, ময়দানে.