মূল আন্দোলনের শক্তি যা আরব দেশ গুলিকে উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যে আজ বৈপ্লবিক সব পরিবর্তনের সামনে উপস্থিত করেছে, তা হল শিক্ষিত যুব সমাজ, যারা চাইছে পাদ প্রদীপের আলোয় আসতে. এই ধারণা পোষণ করেন বহু বিশেষজ্ঞরাই, এই বিস্তৃত অঞ্চলের ধারাবাহিক ঘটনাবলী যাঁরা বিশ্লেষণ করেছেন.

    টিউনিশিয়াতে গণ আন্দোলন, যার নাম দেওয়া হয়েছে যুঁই ফুল বিপ্লব, এক অর্থে বিস্ফোরকের কাজ করেছে, যা প্রতিবেশী তথাকথিত শান্ত দেশ গুলিতেও বিপ্লবের ঢেউ পৌঁছে দিয়েছে. সবচেয়ে বেশী মনোযোগ পড়েছে ইজিপ্টের উপরে – বৃহত্তম এই আরব দেশের উপরে, যা ঐতিহ্য মেনেই আরব দুনিয়ার নিয়ন্ত্রিত শক্তির নেতা বলে মেনে নেওয়া হত. তা স্বত্ত্বেও বিশ্লেষকেরা বহু দিন হল ইজিপ্টের নাম দিয়েছিলেন মাটির পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানো গমের শীষ বলে. নিকট প্রাচ্যের এই সব চেয়ে বেশী জনবহুল দেশে, সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও যথেষ্ট উন্নত শিল্প থাকা স্বত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক জনসাধারণ দিন আনি দিন খাই করে জীবন যাপন করছিলেন. খুবই বিলাস বহুল জীবন কাটানো মুষ্টিমেয় লোকেদের সঙ্গে দরিদ্র অধিকাংশের এতটাই ফারাক ছিল ও দুর্নীতি এবং অসফল প্রশাসন সমাজের রন্ধ্রে এত গভীরে প্রবেশ করেছিল যে, তা দৃষ্টিকটূ হয়েছিল বর্তমানের ইজিপ্টের চিত্র বলে. কিন্তু যুব সমাজই পেরেছে এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনতে – যে সব প্রশ্ন বহু দিন মাথা কুটে মরছিল, তাদের আলোর সামনে হাজির করতে. বর্তমানে এই প্রশ্ন গুলিই করেছে জনতা আলজিরিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও এমনকি তুলনায় খুবই উন্নত জীবন যাত্রার মানের দেশ জর্ডন ও বাহরিনে. ইরানে বিরোধী পক্ষও উত্তাল হয়েছে.

    বিশ্লেষকেরা যুব সমাজের চরমপন্থায় দীক্ষিত হওয়ার বিষয়টিকে ইন্টারনেটের ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে জড়িত বলে মনে করেছেন. ইন্টারনেটের মাধ্যমেই শিক্ষিত লোকেরা একে অপরের সঙ্গে সামিল হয়েছে সকলের দাবী আদায়ে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ গিওর্গি মিরস্কি বলেছেন:

    "এখানে মানুষের শক্ত হয়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি দেখা দরকার, যাদের পুরোভাগে ছিল শিক্ষিত যুব সমাজ. টিউনিশিয়াতে কি ঘটেছে, তা দেখতে পেয়ে তারা ইন্টারনেটের সাহায্যে জনসাধারণকে এক করে রাস্তায় বের করতে পেরেছে. ইন্টারনেট ছাড়া কিছুই হতে পারত না".

    প্রসঙ্গতঃ বিশেষজ্ঞ কিন্তু পাশ্চাত্যের সভ্যতার  প্রভাব আরব যুব সমাজের উপরে যা পড়েছে, তাকেই শেষ কথা বলে মানতে রাজী হন নি, তাই বলেছেন:

    "যখন আমি পাশ্চাত্য ও ইউরোপের শিক্ষিত সমাজের উপরে প্রভাবের কথা বলি, তখন এর অর্থ হল, প্রথমতঃ লোকে স্বাধীনতা দাবী করেছে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার দাবী করেছে. তারা আর অপ শাসন, প্রশাসনের জনতার থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে নিজেদের স্বার্থ সম্বন্ধে খালি ব্যস্ত থাকাকে মেনে নিতে চায় নি. এর মানে নয় যে, তারা ইউরোপীয় বা আমেরিকার লোক হতে চেয়েছে, অথবা তারা নিজেদের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ বা ঐতিহ্যকে বলি দিতে তৈরী হয়েছে".

    ইজিপ্টে এর মধ্যেই "২৫শে জানুয়ারী" নামের যুব দল তৈরী হয়েছে. তারা দেশের সর্ব্বোচ্চ সামরিক নেতৃত্বের সামনে নিজেদের দাবী জানিয়েছে. তাদের প্রধান দাবী হল – অসামরিক সরকারে প্রত্যাবর্তনের সময়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় সীমা নির্ধারণ. যুব সমাজ রাস্তা থেকে ফিরে যাচ্ছে, কিন্তু এটা আপাততঃ. আর এখানেই বিশেষজ্ঞরা কি হতে চলেছে, তা বলতে পারছেন না. কারণ পুরনো প্রশাসনের মাথারা চলে গিয়েছে, সমস্যা রয়ে গিয়েছে. এই রকম অবস্থা কিন্তু শুধু ইজিপ্টেই নয়.