পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি শহরের আদালত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করেছে. এই পরোয়ানা অনুযায়ী মুশারফ ১৯শে ফেব্রুয়ারী আদালতে হাজির হতে বাধ্য, আর তার নাম সেই সমস্ত লোকেদের তালিকায় যোগ করা হয়েছে, যারা ২০০৭ সালের শেষে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়েছে. এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    গত বছরের অক্টোবর মাসে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা বেনজির ভুট্টো হত্যা কাণ্ডের অনুসন্ধান নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যাপী কাজ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছিল. এই রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে, বেনজির ভুট্টো কে হত্যা করার পিছনে ছিল তেহরিক এ তালিবান পাকিস্তান দলের লোকেরা. একই সিদ্ধান্তে এসেছিল স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দারা ও রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ কমিশন, যারা এটি নিয়ে তদন্ত করেছিল.

    পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফকে আদালতে হাজির করা বেনজির ভুট্টোর হত্যা কাণ্ডের অভিযোগে – এটা অনেক প্রশ্নের সম্মুখীণ করেছে. যদি মুশারফের বিরুদ্ধে সন্দেহ সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে দেখা যাবে যে, প্রাক্তন পাকিস্তানের নেতা, যিনি কি না নিজেকে ঐস্লামিক দের শত্রু বলে প্রচার করেছিলেন, তিনি আসলে তাদেরই দলের লোক. আবার অন্য দিক থেকে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি ফওহাদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, পারভেজ মুশারফ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পাকিস্তানে ফিরে আসতে চান না.

    যেভাবেই হোক না কেন, এই ঘটনা মুশারফের জনপ্রিয়তা বিষয়ে খুবই প্রভাব ফেলবে আর এমন ও হতে পারে যে, তার বড় রাজনৈতিক জীবনের ইতি এখানেই ঘটল. গত বছরে পারভেজ মুশারফ ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি দল গড়ে আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন. বর্তমানে যদিও তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে লন্ডনে রয়েছেন (বেশীর ভাগ বদমাস লোকই যেখানে বর্তমানে আস্তানা গেড়েছে, কারণ সেটা আসলে ওদের দেশ) ও চেষ্টা করছেন পুরনো সম্পর্ক ঝালাই করে ফেলতে, প্রায়ই নানা রকমের ঘোষণা দিচ্ছেন পাকিস্তানের ভবিষ্যত সম্বন্ধে. সুতরাং মনে করা যেতেই পারে বর্তমানের এই আদালতের নির্দেশ হয়েছে এই সব কীর্তির উত্তর, এই ধারণা পোষণ করে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন:

    "আমি মনে করি মুশারফের বিরুদ্ধে এটা একটা রাজনৈতিক পদক্ষেপ, বর্তমানের পাকিস্তানের সরকার এই লোককে আর রাজনীতিতে ফিরতে দিতে পারে না, কারণ এই লোক ১৯৬৫ সাল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে সমস্ত রকমের যুদ্ধ বিগ্রহের জন্য দায়ী ও আঞ্চলিক অশান্তি বৃদ্ধিতে গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বহু কোটি লোকের শান্তি কেড়ে নিয়েছে, চিনের বর্তমান দাপট ও এই লোকের প্রশয়ে ঘটেছে. আদালতের পরোয়ানা থাকলে শীঘ্রই তাকে এই এলাকাতে আর দেখা যাবে না, তাই মনে হয় তার নামে পরোয়ানা আরও অনেক ঘোষণা করা হবে, যতদিন না তার শেষ হয়".

    আরেক রুশ বিশেষজ্ঞ অবশ্য অন্য রকমের কথা বলছেন, ইভগেনি সালতানোভস্কি মনে করেছেন:

    "গণতান্ত্রিক পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্বন্ধেই এই পরোয়ানা প্রশ্ন করতে বাধ্য করে, এর অর্থ হল পাকিস্তানে বিভিন্ন গোষ্ঠী একে অপরের রক্তের স্বাদ নেওয়ার জন্য পাগল হয়ে ঘুরছে, তাদের কাছে সরকারি ব্যবস্থা নিজেদের প্রতিশোধ নেওয়ার অস্ত্র মাত্র. দলাদলির রাজনীতি এমন চরমে পৌঁছেছে, যা একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই তুলনা করা যেতে পারে. এর একটাই ভবিষ্যত সরকারে আবার সামরিক কর্তৃত্বের বহাল হওয়া, আর সেই পদে অনেকেই বর্তমানে মুশারফ নিযুক্ত জেনেরাল আশফাক কিয়ানি কে দেখতে পাচ্ছেন, আর তার পরে পারভেজ মুশারফের পুনর্বহাল হওয়াও অসম্ভব কিছু নয়. এই অবস্থায় বিচার ব্যবস্থা বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি চেষ্টা করছে একটু এগিয়ে থাকতে, মুশারফকে সম্ভাব্য অসম্ভাব্য সমস্ত রকমের দোষে দোষী সাব্যস্ত করে".

    পাকিস্তানে পরিস্থিতি খুবই জটিল, অসংখ্য অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ ও সামাজিক সমস্যা. তালিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আগুণ জ্বলছে খুবই ঢিলে ভাবে, আসলে যুদ্ধ করাটা সেখানে মূল কথা, কোন ফলের প্রয়োজন নেই, কারণ যুদ্ধ মার্কিন অর্থ আনতে সাহায্য করে এই দেশে. আফগানিস্তানের সীমান্তেও চলেছে মাদক পাচার ও অন্যান্য অন্যায়. দেশের অবস্থা খালি আরও খারাপই হচ্ছে, এই অবস্থাতেই পাকিস্তানে সব সময়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় এসেছে ও তাদের হাতে একমাত্র অস্ত্র ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার নামে দুর্নীতি করা.