ইজিপ্টে নতুন সঙ্কট শুরু হয়েছে. বিরোধী পক্ষের দাবী মানা হয়েছে, কিন্তু বিক্ষোভ চলছেই. প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারকের স্বাস্থ্য খুবই সঙ্কট জনক অবস্থায়, আর তার মানে হল, যে কোন মুহূর্তে তাঁর সমর্থকেরা সামরিক বাহিনীর কাছে, যাঁরা এই সময়ে দেশের ক্ষমতা হাতে নিয়ে রয়েছেন, তাঁদের কাছে এর জন্য মূল্য দাবী করতেই পারে.

    ইজিপ্টের সংবিধানের ক্ষমতা স্থগিত রাখা হয়েছে. পার্লামেন্ট বরখাস্ত করা হয়েছে. সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হুসেইন তানতাউই দেশের ক্ষমতা নিয়ে যে কোন ধরনের আইন প্রয়োগ করার অধিকার নিয়েছে. প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শারিক স্বীকার করেছেন যে, তাঁর সরকার শুধু সামরিক বাহিনীর হুকুমে চলছে. আর সামরিক বাহিনী দেশে জনগণের বিক্ষোভ শান্ত করতে পারছে না.

    কায়রো শহরে বন্দুকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, রবিবারে সামরিক বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করে তহরির ময়দান থেকে জনতাকে হঠিয়ে দিয়েছে, কিন্তু ধর্মঘট শুরু হয়েছে সারা দেশ জুড়ে. সকলের প্রধান দাবী একটাই – মাইনে বাড়ানো আর বেকারত্ব হঠানো. এক কথায় তাই হয়েছে, যা অনেকেই ভয় পেয়েছিলেন ইজিপ্টে পরিস্থিতি সান্ত করতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ যথেষ্ট হয় নি. তার ওপরে সারা দেশ জুড়ে মাত্সান্যায় নতুন সব ভাবে নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে. অংশতঃ, লোকেরা ধনী ইজিপ্টের লোকেদের বাড়ী ঘর লুঠ করতে ও আগুণ জ্বালাতে শুরু করেছে, আর তা ঘটছে এমনকি ঐতিহ্য মেনে প্রার্থনা করার দিন গুলিতেও. সামরিক বাহিনীর সামনে নতুন সমস্যা উদয় হয়েছে, যারা এই রবিবারে, গত কুড়ি দিনের মধ্যে প্রথমবার শূণ্যে গুলি ছুঁড়ে দেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ রত কয়েক শো পুলিশের লোককে তাদের নাগরিক অধিকার রক্ষার মিটিং থেকে তাড়াতে বাধ্য হয়েছে.

    বোঝাই যাচ্ছে যে, ইজিপ্টের প্রতিবেশী দেশ গুলি, মুবারকের পদত্যাগ দিনের আগের মতই এক অজানা বিপদের আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে রয়েছে. অংশতঃ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এখুদ বারাক ইজিপ্টের পরিস্থিতিতে আপাততঃ নিজের দেশের জন্য কোন সম্যক্ বিপদ দেখতে পাচ্ছেন  না. একই সঙ্গে তিনি ইজিপ্টের সামরিক বাহিনীর লোকেদের নির্বাচন নিয়ে তাড়া হুড়ো করতে না করেছেন, কারণ সবচেয়ে সম্ভাব্য ফল হতে পারে ক্ষমতায় চরমপন্থী ঐস্লামিক দল গুলির আরোহণ. "এটা সমস্ত অঞ্চলের জন্য একটা বিপর্যয় হতে পারে" – বলেছেন এখুদ বারাক. যাই হোক না কেন, ইজরায়েলের সঙ্গে ইজিপ্টের সম্পর্ক আর আগের মত হবে না, যা ছিল মুবারকের সময়ে. এই কথা মনে করে রাশিয়ার প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির আখমেদভ বলেছেন:

    "এই সম্পর্ক পাল্টে যাবে. ইজিপ্টের সামরিক বাহিনীরই অসুবিধা হবে, যেমন ধরুন, গাজা সেক্টর বন্ধ করে রাখার বিষয়ে অথবা বর্তমানের ইজরায়েলের প্রশাসন প্যালেস্তিনীয়দের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে যে লক্ষ্য রেখেছে, তা অনুসরণ করতে. ইজিপ্টের ঘটনার প্রভাবে অন্যান্য আরব দেশেও পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে. এখানে অবশ্যই অনেকটাই ইজরায়েলের উপরে নির্ভর করছে. যে রাজনীতি তারা নিকট প্রাচ্যে করেছে, বেশীর ভাগটাই হোসনি মুবারকের উপরে নির্ভর করে, তা এখন চালিয়ে যাওয়া বলা যেতে পারে শুধু জটিল হবে না, হয়ত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে. ইজরায়েল কে এখন খুবই গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে, কি ধরনের সমঝোতা তারা আরব দেশ গুলির সঙ্গে শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে করতে পারে".

    রাশিয়া নিকট প্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা স্বত্ত্বেও আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রয়াস চালিয়ে যাবে, এই ঘোষণা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের বিশেষ প্রতিনিধি ও উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী আলেকজান্ডার সালতানভ করেছেন. তিনি ইজিপ্ট, সিরিয়া, জর্ডন ও সৌদি আরব গিয়েছেন ও এই সব দেশের প্রধান দের কাছে দিমিত্রি মেদভেদেভের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন. কূটনীতিবিদ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়া ইজরায়েলের সঙ্গে খুবই ভাল আলোচনায় রয়েছে ও আরব দেশ গুলির সঙ্গেও সম্পর্ক ভাল, তাই বাস্তবিক ভাবে এই অঞ্চলের পরিবর্তন যাতে কম ক্ষতি স্বীকার করে সম্ভব হয়, তার জন্য অনুঘটকের কাজ করতে তৈরী.