রাশিয়া আশা করে ইজিপ্টে দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনর্স্থাপিত হোক. এই সম্বন্ধে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের ঘোষণা শনিবারে ক্রেমলিনের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তর প্রকাশ করেছে. এর আগে ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক প্রবল জন বিক্ষোভ ও গোলমালের চাপে পড়ে, যা কম করে হলেও ৩০০ লোকের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, পদত্যাগ করেছেন. দেশের পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ দেশের সামরিক বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ নেতৃত্বের হাতে চলে গিয়েছে.

    মনে হয়, ইজিপ্টের লোকেরা নিজেরাই বিশ্বাস করতে পারেন নি যে, হোসনি মুবারক এত তাড়াতাড়ি নিজের পদ থেকে সরে যাবেন. তিনি প্রায় তিরিশ বছর দেশ শাসন করেছেন. বিরোধী পক্ষ ও বিপ্লবী মানসিকতার যুব সম্প্রদায়ের মাত্র ১৮ দিন প্রয়োজন পড়ল আগের শাসনকে উল্টে দিতে.

    ইজিপ্টের রাস্তায় সারা রাত ধরে অগ্নি কুণ্ড জ্বলেছে. আত্মহারা লোকেরা কেউই বাড়ী ফিরে যেতে তাড়া করে নি. তাদের সঙ্গে একই সাথে মুবারকের পতন উত্সব করেছে টিউনিশিয়া, লেবানন, আলজিরিয়া, প্যালেস্তানীয় জনতা. ইজিপ্টের লোকেদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বহু এশিয়া ও ইউরোপের দেশের নেতারা, তাঁদের বক্তৃতায়.

    মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা মুবারকের পদত্যাগ বার্লিনের দেওয়াল ভাঙ্গার সঙ্গে তুলনা করেছেন ও মনে করেছেন এটা আমেরিকার সমাজের মানবাধিকার রক্ষার লড়াই এর সাফল্য. "প্রত্যেক হৃদয়ে রয়েছে স্বাধীনতার আহ্বান. তহরির স্কোয়ারে যারা এসেছিলেন, তাদের হৃদয়েও ছিল এমনই আহ্বানের প্রতিধ্বনি আর সারা বিশ্ব তা শুনতে পেয়েছে". – ঘোষণা করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি. তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, ইজিপ্টের সামনে এখন স্বাধীন ও সত্ নির্বাচন আয়োজনের পথে রয়েছে অত্যন্ত জটিল সময়.

    বর্তমানের ইজিপ্টের ঘটনা যে শেষ নয়, বরং গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে শুধু শুরু, তা মস্কোতে সকলে বিশ্বাস করেন. এখানে মুখ্য হল, যাতে প্রক্রিয়া হয় শান্তিপূর্ণ ও সকলের সঙ্গে সহমতে. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ বলেছেন:

    "আমরা আশা করছি যে ইজিপ্টে সঙ্কট থেকে নির্গমনের পথ শক্তি প্রয়োগ করে হবে না, সেখানে সমস্ত ইজিপ্টের লোকেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করা হবে ও লক্ষ্য থাকবে এই প্রধান আরব দেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা. আগের মতই বিশ্বাস করি যে, ইজিপ্টের জনগন বাইরের থেকে কোন ধরনের প্রভাব ছাড়াই নিজেদের ও দেশের ভবিষ্যত নিজেরা ঠিক করতে পারবেন".

    এর পর ইজিপ্টের ভবিষ্যত ও সমগ্র নিকট প্রাচ্যের ভবিষ্যত ইজিপ্টের জেনেরাল দের হাতে থাকল. তাঁরা ভরসা দিচ্ছেন যে, নিজেরা জনসাধারনের ক্ষমতা নিয়ে নেবেন না, স্বাধীন ও সত্ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে দেবেন ও জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করবেন, যা এই দেশে কয়েক দশক ধরে চলে আসছে. অর্থাত্ আপাততঃ নিজেরা সেই রকমই কাজ করছেন ও ঘোষণা দিচ্ছেন, যা তাদের কাছ থেকে জনগন আশা করেছেন. এরপর কি হবে বোধহয় বেশ কয়েক ধরনে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে, এই কথা মনে করে প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

    "আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, সবচেয়ে সম্ভাব্য হল সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বের আলোচনা হবে, সব পক্ষেরই ইচ্ছা ও স্বার্থের বিষয় বোঝা হবে, তাদের মধ্যে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা লোকেরাও থাকবেন. বোঝাই যাচ্ছে যে, খুবই তাড়াতাড়ি দেশে স্বচ্ছ পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে".

    বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, ইজিপ্টে গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোন পথ নেই. দেশ, আরব বিশ্বের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে, তাই নিজেদের জন্য তাদের অন্য কোন পথ ধরার উপায় নেই. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের ঘোষণায় যেমন উল্লেখ করেছেন যে, একমাত্র শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক ইজিপ্ট "নিকট প্রাচ্যে শান্তি প্রয়াসের প্রক্রিয়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে". আর অন্য যে কোন রকমের অনুপ্রবেশ, যা দেশকে ঐস্লামিক করে তুলতে পারে, তা সমস্ত আরব বিশ্বে জটিলতা দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে.