৪০ বছর আগে মস্কো, ওয়াশিংটন ও লন্ডনে স্বাক্ষর করার জন্য এক দলিল খোলা হয়েছিল, যেখানে সমুদ্র ও মহাসাগরের তলদেশ কে বাস্তবে পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়েছিল. এই আন্তর্জাতিক চুক্তি জলের তলায় বা মাটির গভীরে শুধু পারমানবিকই নয়, এমনকি যে কোন ধরনের গণ হত্যার সম্ভাবনা আছে এমন অস্ত্র রাখা নিষিদ্ধ করেছিল.

 ১৯৭১ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী চুক্তির জন্ম হয়েছিল ও বেশ কয়েক মাস পরে তা গৃহীত হয়েছিল. এই আন্তর্জাতিক চুক্তির সত্যিকারের তাত্পর্য বোধগম্য হয়েছিল এক দশক পরে. কারণ সত্তরের দশকে ব্যালিস্টিক রকেটের উড়ানের পরিধি বেশী ছিল না. কিন্তু আশির দশকে অস্ত্রসজ্জা হয়েছিল আন্তর্মহাদেশীয় মিসাইল দিয়ে, যেমন, Trident II ১১০০০ কিলোমিটার দূরে থাকা লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিল. ডুবোজাহাজ গুলি বাস্তবে নিজেদের ঘাঁটি থেকেই শত্রুর লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছিল. অনেক সস্তা হতে পারত সমুদ্রের জলের নীচে থাকা মিসাইল পারমানবিক ডুবোজাহাজের চেয়ে. তাই এই চুক্তি বলা যেতে পারে নিজের সময়ের অনেকটা আগেই হয়ে গিয়েছিল, এই কথা মনে করে রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ে বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের প্রধান আলেকজান্ডার শারাভিন বলেছেন:

"সেই সময়ে পারমানবিক অস্ত্রের বিপদ সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ভাবে বোধ তৈরী হয় নি, সমগ্র মনুষ্য সমাজের জন্য যে, এটা কত বিপজ্জনক তা বোঝাই যায় নি. আর এই চুক্তি নেওয়ার ফলে পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছিল. ১৯৭১ সালের সিদ্ধান্ত সাহায্য করেছিল পারমানবিক অস্ত্র ক্ষমতা সম্পন্ন দেশ গুলির মধ্য উত্তেজনা প্রশমণ করতে ও এই বিষয়ে শান্তি আনতে সক্ষম হয়েছিল".

কিন্তু সমুদ্রের ও মহাসাগরের তলদেশ বাস্তবে পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত হয়েছে তা জোর গলায় বলা সম্ভবতঃ ঠিক হবে না. ১৯৫৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জল তলে ডুবেছে ৮টি আমেরিকা, সোভিয়েত দেশ ও বর্তমানের রাশিয়ার পারমানবিক ডুবোজাহাজ. তাদের মধ্যে একমাত্র রুশ পারমানবিক ডুবোজাহাজ কুরস্ক তুলে আনা হয়েছিল. বাকী সাতটি এখনও জলের তলায় নানা রকমের সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, যা ধীর পারমানবিক সংক্রমণের বিপদ হয়েছে.

কিছু দিন আগে রেডিও স্টেশন "বি বি সি" পেন্টাগনের এক বহু পুরনো ও লুকোনো ক্ষতে এক মণ নুন ঢেলে দিয়েছে - তারা বলেছে যে, গ্রীনল্যাণ্ড থেকে স্বল্প দূরে সমুদ্র তীরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি পরমাণু বোমা হারিয়ে ফেলেছে আর আজ চল্লিশ বছর হতে চলল এই নিয়ে চুপ করে রয়েছে. ১৯৬৮ সালে জানুয়ারী মাসে আমেরিকার একটি B- 52 বিমান আমেরিকার ঘাঁটি নর্থ স্টার বে এর কাছে ভেঙে পড়ে. ব্রিটেনের সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছেন যে, বিমান টিতে চারটি বোমা ছিল, তিনটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল হিম মহাসাগরের নীচে, কিন্তু চতুর্থ টির সন্ধান আজও মেলে নি.

আরও একটি ভাবে বহু দেশ এই চুক্তি ভঙ্গ করতে উদ্যত হয়েছিল, প্রায়ই তা হয়েছিল জ্ঞানের অভাব থাকায়. বিষয় হল, তারা সমুদ্র ও মহাসাগরের জলের নীচে পারমানবিক সক্রিয় বর্জ্য পদার্থ কবর দিতে চেয়েছিল, এই বিষয় নিয়ে বিশ্ব বন্য প্রকৃতি তহবিলের পরামর্শ দাতা ভাসিলি স্পিরিদোনভ বলেছেন:

"১৯৫০ সালেই ভাবা হয়েছিল যে, মহাসমুদ্রের গভীরে এই বর্জ্য পদার্থ রাখলে কিছু হবে না, কিন্তু সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা তখনই খুব বিশ্বাস্য ভাবে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে, জলের বিনিময় হয়, জলের মধ্যে যোগাযোগ আছে ও যে কোন ধরনের জলের তলায় রাখা পারমানবিক পদার্থ সংক্রামিত হতেই পারে, তা সে জলের যত গভীরেই থাকুক না কেন, আর তা বিশ্বের বহু দূরের জায়গাতেও হতে পারে. এই যুক্তি খুবই বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পেরেছিল".

যাই হোক না কেন, সরকারি ভাবে সমুদ্র বা মহাসাগরের নীচে কোন পারমানবিক বর্জ্য পদার্থ কবর দেওয়া হয় নি.

বিশেষজ্ঞদের মতে মনুষ্য সমাজের এখনও সময় আছে এই মরণ বাহী ময়লা সমুদ্র ও মহাসাগরের তালা থেকে উদ্ধার করার. এই কাজ করতে বিশেষ পরিকল্পনার প্রয়োজন, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রযুক্তি গত সহযোগিতার প্রয়োজন. একমাত্র তখনই সমুদ্রের তলা সত্যিকারের পরমাণু দূষণ মুক্ত অঞ্চল হতে পারবে.