বর্তমানের কূটনীতিবিদের কেমন হওয়া উচিত্? কি ধরনের প্রাথমিক কাজ তার সামনে আজ রয়েছে ও তার কাজের শেষ ফল কি হতে হবে? এই প্রশ্ন "রেডিও রাশিয়া" করেছে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে.

    আজ, বলা যেতে পারে নিজেদের শক্তিশালী ও ভরসা যোগ্য কূটনীতির জন্য রাশিয়া বিশ্বে এক বৃহত্তম আন্তর্জাতিক শক্তিতে পরিনত হতে পেরেছে, যার মতের সঙ্গে মানিয়ে চলা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে. বিগত বছর গুলির সাফল্য – সে স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা হ্রাস চুক্তির আইনে রূপান্তর বা ন্যাটো জোটের সঙ্গে একত্রে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা তৈরীর ধারণা প্রস্তাব, ইউরো অতলান্তিক এলাকায় একত্রে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য চুক্তি করার উদ্যোগ – সবই আধুনিক ইতিহাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতির ভান্ডারে অতিরিক্ত সঞ্চয়. কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্থাপত্যে আজ বিশ্ব একই কিন্তু জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই. রাশিয়াকে এই নতুন গঠনে নিজের জায়গা খুঁজে নিতে হবে, তাই এই বিষয়ে দায়িত্ব প্রথমতঃ রাশিয়ার কূটনীতিজ্ঞ দের, এই বিশ্বাস নিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

    "আজ আমরা ঐতিহ্য মেনে কূটনীতিবিদদের দিবস পালন করছি. আমাদের ক্যালেণ্ডারে এই দিনটির উত্সব হিসাবে চিহ্নিত হওয়ার পিছনে দেশের নেতৃত্বের আমাদের কাজকে স্বীকৃতী দেওয়ার প্রতিফলনই হয়েছে, যা বহু যুগ ধরে আমাদের দেশের কূটনীতিবিদেরা করে আসছেন, নিজেদের দেশের মঙ্গলের প্রচেষ্টায়, শুধু বুদ্ধি ও কথার জোরে জয় করে, কোন কামান বা অন্য কিছু শক্তি না ব্যবহার করে, যা কূটনীতি বিদের কাজের বাইরেও করে থাকতে হয়. কূটনীতিজ্ঞদের কাজ সম্বন্ধে বোধহয়, সবার চেয়ে ভাল করে বর্ণনা করেছেন এই লোকেদের এক মহান প্রতিনিধি, চ্যান্সেলার আলেকজান্ডার গরচাকোভ, যিনি বলেছিলেন যে, আমাদের পররাষ্ট্র নীতির আর অন্য কোন লক্ষ্য নেই, শুধু আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয় ছাড়া, আর তা অবশ্যই অন্য সমস্ত কিছুকে হঠিয়ে দেওয়ার জন্য, যা দেশের ভিতরের বিষয়কে খারাপ করতে পারে. তাই বর্তমানে আমাদের কাজ একই ভাবে দেশের জন্য বাস্তব ফল অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে, আমাদের নাগরিকদের জন্য. আমরা খুবই সক্রিয় ভাবে সমস্ত পররাষ্ট্র নীতির শক্তিকে ব্যবহার করছি, দেশকে আধুনিক করার জন্য, যাতে নির্দিষ্ট কাজ দিয়ে আমাদের দেশের লোকেদের জীবন যাত্রার গুণ ও মান উন্নয়ন করা সম্ভব হয়. দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়. বিভিন্ন রকমের সবচেয়ে ভাল পরিস্থিতি তৈরী করা সম্ভব হয়, দেশের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য".

    যদিও কূটনীতি বিদ দিবস এই নিয়ে মাত্র দশম বার পালন করা হচ্ছে, তবু রাশিয়ার কূটনীতির ইতিহাস সমূলে ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত রয়েছে. মনে করা হয় যে, ৫০০ বছর আগে ১০ই ফেব্রুয়ারী বর্তমানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রথম রূপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল. ১৫৪৯ সালে সম্রাট ইভান গ্রোজনি রাজদূত সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ভিত্তিতে কূটনীতি বিদের কাজের এক বিশেষ সামাজিক পরিচিতি লাভ হয় ও প্রথম মন্ত্রী হিসাবে ইভান ভিস্কোভাতভ নিযুক্ত হন. অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই রাজদূত নির্দেশ বদল করে পররাষ্ট্র দপ্তর তৈরী করা হয়. আর ১৮০২ সালে সম্রাট প্রথম আলেকজান্ডার তাঁর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠন করেন.

    আজকের পররাষ্ট্র দপ্তরে ১২ হাজার কর্মী কাজ করেন, এঁদের মধ্যে একের তৃতীয়াংশ পেশাদার কূটনীতি বিদ. কিন্তু বর্তমানের বিশ্বে এটা মনে হয়েছে কম সংখ্যা, তাই এই বছর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করবে আরও দুটি সংস্থা: রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের কাঠামোয় তৈরী আলেকজান্ডার গরচাকোভ নামাঙ্কিত জনতার কূটনীতি সহায়তা তহবিল ও অব্যবসায়িক সহযোগিতা "আন্তর্জাতিক বিষয়ে রাশিয়া সভা".

    একবিংশ শতাব্দীতে কূটনীতিবিদের কৌশল প্রয়োজন বোধ করেছে নতুন জ্ঞান ও অভ্যাসের, কিন্তু একটি বিষয় এই দপ্তরের কর্মীদের জন্য থেকে যাচ্ছে অপরিবর্তিত. তাঁদের কাজ – সকলের কাজের অংশ, আর ব্যক্তিগত সাফল্য – সারা দেশের সাফল্য.