মস্কোর ত্রেতিয়াকোভস্কায়া চিত্র সংগ্রহশালা ও সেন্ট পিটার্সবার্গের যাদুঘর এরমিতাঝ প্রথম রুশ অংশগ্রহণকারী সংস্থা, যারা ইন্টারনেট দৈত্য কোম্পানী গুগলের সঙ্গে চারু শিল্প প্রকল্প শুরু করেছে.

    বিশ্বের ১৭টি যাদুঘর থেকে এক হাজারেরও বেশী ছবি – এই হল বিশাল ইন্টার অ্যাকটিভ সাইট www.googleartproject.com এর শুরুর মূলধন. এই সাইটে প্যারিসের ভার্সাই অথবা নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটান যাদুঘরে ঘোরা যাবে, অথবা লন্ডন বা ফ্লোরেন্সে চিত্র শালা দেখা যাবে. প্যানোরামা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ৪০০টি হল ঘরের প্রতিটি খুঁটিয়ে দেখা যাবে. সব থেকে ছোট কোন বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দেখা যাবে, কারণ ছবি তোলা হয়েছে খুবই উচ্চ প্রযুক্তির অতি স্বচ্ছ ক্যামেরা দিয়ে. এই ধরনের হেগা পিক্সেল ছবি তোলার জন্য প্রত্যেক চিত্র সংগ্রহ শালা থেকে একটি করে ছবি বাছাই করা হয়েছিল – যেটাকে বলা যেতে পারে এক রকমের নিজেদের ভিজিটিং কার্ড. রুশ সংগ্রহশালা এরমিতাঝ ও ত্রেতিয়াকোভস্কায়া নিজেদের প্রায় দুই শত ছবি এই সাইটে প্রকাশ করেছেন. এরমিতাঝ তার ব্র্যান্ড হিসাবে রেমব্র্যান্ট অঙ্কিত বিশ্ব বিখ্যাত ছবি The return of the prodigal son (বেয়াড়া ছেলের বাড়ী ফেরা) দিয়েছে আর ত্রেতিয়াকোভস্কায়া চিত্র শালা উনবিংশ শতকের রুশ শিল্পী আলেকজান্ডার ইভানভের খ্রীষ্টের জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ ছবিটি দিয়েছে – এই ছবি বিশাল, প্রায় সাড়ে পাঁচ মিটার উঁচু ও সাড়ে সাত মিটার লম্বা.

    প্রসঙ্গতঃ এই দুই চিত্র শালার নিজেদের সাইটে এখানের প্রচুর সংগ্রহের সঙ্গে পরিচিত হওয়া সম্ভব. এরমিতাঝ যেমন, পাঁচ হাজার ছবি সমেত এক সুন্দর সংখ্যায় পরিনত ছবির প্রদর্শনীর সাইট করেছে. সুতরাং এই গুগলের প্রকল্পে অংশ নেওয়ার মূল কারণ তাহলে কি? ত্রেতিয়াকোভস্কায়া চিত্র শালার ডিরেক্টর ইরিনা লেবেদেভা রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

    "আমাদের অবশ্যই আগ্রহের বিষয় হল, যে সংগ্রহশালাকে আমরা জাতীয় সংগ্রহশালা হিসাবে দেখাতে চাই, তা রাশিয়ার বাইরের দেশ গুলিতেও জানুক. ত্রেতিয়াকোভস্কায়া চিত্র শালা আমাদের দেশে সকলেই ভালবাসে, কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না এটি কি রকমের চিত্র শালা. আমরা প্রকল্পে আমাদের থেকে সবচেয়ে বিখ্যাত ৮৫টি ছবি এই সাইটে দিয়েছি, যাতে এক রকমের ভার্চুয়াল পরিক্রমা করে দেখা যায় এই ত্রেতিয়াকোভস্কায়া গ্যালারী কে, তার ঐতিহাসিক বাড়িটিকে ও রুশ শিল্পের বিভিন্ন সময়ের ছবির সঙ্গে পরিচিত করা সম্ভব হয়. আমরা আশা করছি যারা ছবি ভালবাসেন, তারা এই গুগলের ইংরাজী ভাষায় সাইট দেখে, যখন মস্কো আসবেন. তখন অবশ্যই আমাদের প্রদর্শনী দেখতে আসবেন, বেশী করে জানতে চাইবেন".

    যতই অবাক হওয়ার মতো মনে হোক না কেন, এই রকম আধুনিক শিল্প প্রকল্পেরও কিছু সমালোচক রয়েছেন, যারা অখুশী হয়ে বকবক করছেন দেখ একবার, এমন সব প্রজন্ম তৈরী হচ্ছে, যারা সত্যিকারের চিত্র শালা না দেখতে গিয়ে গুগলের সাইটে ছবি দেখবে. ইরিনা লেবেদেভা যদিও এতে কোন সঙ্কট দেখতে পান নি, তিনি বলেছেন:

    "আমরা মস্কো শহরে বড় সব হোর্ডিং করে আমাদের সংগ্রহশালার ছবি লাগিয়ে ছিলাম, মস্কোর এক বিমানবন্দরে আমাদের ছবি ত্রৈ মাত্রিক রূপে দেখিয়েছি. আর মনে করি যে, এর মানে নয় যে, আমরা দর্শককে ছবি দেখতে আসতে বারন করছি, অবশ্যই তা নয়. আমাদের কাজ হল – দর্শকের দৃষ্টি মনোযোগ আকর্ষণ করা, তাদের বেশী করে শিল্প ও কৃষ্টির সঙ্গে পরিচয় করানো, শিল্পীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, যাতে তাদের মনে ছবি দেখে অনুভূতি জাগে, শিল্প, শিল্পী ও ইতিহাস ও যাদুঘরের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী হয়".

    ইরিনা লেবেদেভা বিশ্বাস করেন যে এই চারু শিল্প প্রকল্প এক বিরল প্রচেষ্টা. যার ফলে চিত্র সংগ্রহশালা তার ধারণা সংক্রান্ত মূলধন বাড়িয়ে তুলতে পারবে.