রাশিয়া ৮০ টিরও বেশী সামরিক যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে বাঙ্গালোর শহরে আন্তর্জাতিক এরো ইন্ডিয়া ২০১১ প্রদর্শনীতে. ভারতের এই শহরের উপকণ্ঠে বিমান ঘাঁটিতে ৯ থেকে ১৩ তারিখ চলবে প্রদর্শনী.

    বিমান – দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার ভিত্তি. বর্তমানে রাশিয়া ভারতকে সবচেয়ে বেশী বিমান সরবরাহ করে থাকে. ১৯৬৪ সালে এই দেশে প্রথম মিগ – ২১ যুদ্ধ বিমান পাঠানো হয়েছিল. সামরিক প্রযুক্তি আমদানী করা দিয়ে ভারত নিজেদের সামরিক শিল্পের উন্নতি করছে. প্রতিটি ক্রয় চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় শিল্পে বিনিয়োগ, এটা প্রযুক্তি সরবরাহ বা উত্পাদনের স্বীকৃতী. রাশিয়ার এই ক্ষেত্রে সুবিধা হল যে, এই দেশ সব চেয়ে বেশী প্রযুক্তি দিতে তৈরী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত নয়. এক্ষেত্রে প্রমাণ স্বরূপ হতে পারে রাশিয়ার এস ইউ – ৩০ এম কা ই বিমানের ভারতের হ্যাল কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ ভাবে নির্মাণ.

তাঁর মতে রাশিয়ার বহুমুখী যুদ্ধ বিমান মিগ – ৩৫ বিমান ভারতের বিশাল ১৩৬টি বিমান কেনার টেন্ডার জিততেই পারে, এই কথা উল্লেখ করে রসআবারোনএক্সপোর্ট কোম্পানীর প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ দাভিদেঙ্কো বলেছেন:

"এস ইউ – ৩০ বিমানের পরিবর্তন করা হয়েছিল ভারতীয় বিমান বাহিনীর উচ্চ মানের দাবীর কথা ভেবে, যা ভারত থেকে করা হয়েছিল রাশিয়ার বিমান নির্মাতাদের কাছে. ভারতে বর্তমানে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে মিগ – ২৯ বিমানের জন্য আর ডি – ৩৩ ইঞ্জিন তৈরী করার. ভারতীয় বিমান বাহিনীর এই ধরনের বিমান ব্যবহার করার প্রচুর অভিজ্ঞতা হয়েছে, আর পরিকাঠামো থাকায় রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান মিগ – ৩৫ এই টেন্ডার জিততেই পারে".

বাঙ্গালোরে রাশিয়া থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত ইয়াক – ১৩০ বিমান. বহুমুখী অতি দ্রুত দিক পরিবর্তনে সক্ষম যুদ্ধ বিমান এস ইউ – ৩৫, যে বিমান নির্মাণের সময়ে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে. তার সঙ্গে সামরিক পরিবহন বিমান ইল – ৭৬ এর দুটি আলাদা মডেল দেখানো হয়েছে, নানা ধরনের ইঞ্জিন সমেত ও যুদ্ধ জাহাজের উপরে নামতে ও উড়তে সক্ষম মিগ – ২৯ কে ও মিগ ২৯ কা উ বে. অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের খুবই আগ্রহের কারণ হয়েছে বহুমুখী উভচর বিমান বে – ২০০. ক্রেতাদের ইচ্ছা অনুযায়ী এই বিমানে সর্বাধুনিক পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ ব্যবস্থা লাগানো সম্ভব, তা ছাড়া এই বিমান সামুদ্রিক অনুসন্ধান, ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে লাগতে পারে, মাল বা যাত্রী পরিবহনে সক্ষম. এরো ইন্ডিয়া ২০১১ প্রদর্শনীতে রাশিয়া বিশাল এক সারি হেলিকপ্টার নিয়ে গিয়েছে. বিগত বছর গুলিতে রাশিয়ার হেলিকপ্টার রপ্তানী ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, এই কথা উল্লেখ করে ভিয়াচেস্লাভ দাভিদেঙ্কো বলেছেন:

"সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হল মি – ১৭ ধরনের হেলিকপ্টার, যা বর্তমানে আমরা বহু দেশে সরবরাহ করছি, তার মধ্যে ভারতীয় বিমান বাহিনীও রয়েছে. এই বহু পরীক্ষিত ও সফল যন্ত্র গুলি নতুন সব বাজারে ঢুকছে. বিশেষজ্ঞরা মি – ২৮ এন এ হেলিকপ্টার টিকেও দেখেছেন, এটি ভারতের ২২টি যুদ্ধে আঘাত হানার উপযুক্ত হেলিকপ্টার কেনার টেন্ডারে অংশ নিয়েছে. আন্তর্জাতিক বাজারে এই হেলিকপ্টার রাশিয়ার জন্য নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সাহায্য করবে. এই হেলিকপ্টারে বহু ধরনের অস্ত্র লাগানো হয়ে থাকে, বহু যুদ্ধেও এটি বেঁচে থাকতে পারে ও যে কোন আবহাওয়া ও দিনে বা রাতের যে কোন সময়ে এটি ব্যবহার করা যায়".

আজ ভারত ও রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা এক নতুন স্তরে উন্নীত হয়েছে. বলা যেতে পারে গভীর সহযোগিতা চলছে সর্বাধুনিক নির্মাণের ক্ষেত্রে. প্রমাণ স্বরূপ পঞ্চম প্রজন্মের বিমান নির্মাণ বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা. কিছু দিন আগে রুশ রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের সময়ে এই বিষয়ে ডিজাইন ও প্রযুক্তি প্রকল্প একত্রিত ভাবে করার জন্য দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে. একই ধরনের বিমান নির্মাণের ক্ষমতা বর্তমানে রাখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন. ভারত রাশিয়ার সহায়তা পেয়ে এই দেশ গুলির সমকক্ষ হতে পারছে.