আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রদায়ের অবশেষে ধৈর্য্য চ্যুতি ঘটেছে. সোমালির জলদস্যূরা একেবারে জ্বালিয়ে মারছে. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ পরিবহন সংস্থা, BIMKO, Intercargo ও Intertanko – আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে অভিযোগ করেছে এক খোলা চিঠি দিয়ে, যেখানে খুবই কড়া সমালোচনা করা হয়েছে ও বলা হয়েছে এই জলদস্যূদের সমস্যা সমাধান করতে কড়া হাতে. এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ বিশদ করে লিখেছেন.

    এই চারটি সংস্থায় বিশ্বের শতকরা ৯০ ভাগ বাণিজ্য জাহাজের মালিকেরা রয়েছেন. মাল পরিবহন কারীরা সাবধান করে দিয়ে বলেছেন যে, ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আর গ্রহণ যোগ্য নয়. চিঠির লেখকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সোমালির জলদস্যূদের হাতে আটকে রয়েছে তিরিশটির বেশী জাহাজ ও ৭০০ জনের বেশী নাবিক. আন্তর্জাতিক জলদস্যূ সমস্যার ফলে বছরে ক্ষতি হচ্ছে ৭ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার. আর কোন কিছু পাল্টানো না হলে এই সব জাহাজ মালিকদের সংস্থা বাধ্য হয়ে সমাধানের রাস্তা খুঁজবে, তার মধ্যে জাহাজ চলাচলের পথ পাল্টে দেওয়াও থাকছে. এর ফলে জাহাজে মাল পরিবহনের দাম বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্বের অর্থনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আনতে পারে.

    রাশিয়া, ভারত, চিন ও ন্যাটো জোটের দেশ গুলি নিয়মিত নিজেদের সামরিক জাহাজ পাঠাচ্ছে ভারত মহাসাগর পাহারা দেওয়ার জন্য, অন্যান্য এলাকাতেও টহল চলছে. তারা বাণিজ্যিক জাহাজ গুলিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে চলেছে, সম্ভাব্য আক্রমণের এলাকাতেও চলছে পাহারা. কিন্তু কেবলমাত্র সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে জলদস্যূ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না, এই কথা মনে করে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইগর জুবকভ বলেছেন:

    "আমরা বুঝতে বাধ্য যে, বর্তমানের আফ্রিকাতে জলদস্যূ হওয়া বাড়ছে. বাণিজ্যিক জাহাজ দখল করে জলদস্যূরা এত অর্থ রোজগার করছে, যা তাদের বেশ কিছুদিন গরীব থাকা থেকে রেহাই দিচ্ছে. জলদস্যূদের নতুন দল বাড়ছে. তারা বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে, তাদের কাছে আছে আধুনিক যন্ত্র, অস্ত্র. তাদের কাছে নতুন সৈনিক বা অস্ত্র যোগাড় করা কোন কঠিন কাজ নয়. সম্ভবতঃ আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য সময় হয়েছে সোমালি নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার, সেখানে এক শাসনের উপযুক্ত সরকার তৈরী করাতে আর্থিক ও রাজনৈতিক সাহায্য করার".

    আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মতই এই জলদস্যূ সমস্যা. এই ক্ষেত্রেও সকলকে একসাথে হয়েই কাজ করতে হবে, কিন্তু এখনও তা অনেক দূরের ব্যাপার. এমনকি এই বদমাশ দের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তৈরী করার কাজও বাস্তবায়ন হতে দেরী আছে. আর যতদিন কূটনীতিবিদেরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, সোমালির জলদস্যূরা তাদের কুকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে. মঙ্গলবারে ইতালির একটি ট্যাঙ্কার ধরা পড়েছে সোমালির জলদস্যূদের হাতে, সেখানে ১৭ জন ভারতীয় নাবিক ও ৩ জন ইতালির নাবিক রয়েছে সংবাদ পত্র লে রিপাব্লিকা জানিয়েছে জাহাজের নাম সাভিনা কেইলিন.