ইজিপ্টে গোলমাল বিশ্বের বাজারে খাদ্য শষ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে. চিকাগো শহরের মালের বাজারে গমের দাম ইতিমধ্যেই বেড়ে হয়েছে প্রতি টনে ৩১৫ ডলার, দাম বাড়ার ঝোঁক রয়ে যাচ্ছেই. তারই মধ্যে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, খাদ্য দ্রব্যের স্বল্প পরিমান ও বিপুল দামই উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যে জনগনের বিদ্রোহের মূল কারণ.

    বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে খাদ্য দ্রব্যের দাম বাড়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে. ২০০৮ সালের বসন্ত কালে প্রতি টনে ৩৬০ ডলার গমের দাম ছিল সর্ব্বোচ্চ. তা এখনও পার হয় নি বটে, তবে এখনই দাম খুব বেশী. আর তা কমার কোন লক্ষণও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, এই কথা উল্লেখ করে রস বিজনেস কনসাল্টিং কোম্পানীর তথ্য বিশ্লেষণ দপ্তরের প্রধান আলেকজান্ডার ইয়াকভলেভ বলেছেন:

    "দানা শষ্যের বিষয়ে দাম বাড়ার লক্ষণ ও বিশ্বে সব রকমের খাবার জিনিসেরই দাম বাড়া শুরু হয়েছিল গত বছরেই. তখন আমরা দেখেছিলাম বিশ্বের উত্তর গোলার্ধে ও তার মধ্যে রাশিয়াতেও প্রবল খরা. পরিবেশের পরিবর্তন, যা আজ বিশ্বের নানা মহাদেশে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তা সেই সমস্ত ঐতিহ্য বাহী দেশ, যেখান থেকে আমরা বিশ্বের প্রধান দানা শষ্য, চিনি ইত্যাদির রপ্তানী হতে দেখতাম, সেখানে বিশাল প্রভাব ফেলেছে, ফলে বাজারের কাঠামোতে পড়েছে প্রবল চাপ. বহু খাবার জিনিসের ক্ষেত্রেই ঐতিহাসিক ভাবে সর্ব্বোচ্চ দাম নথিবদ্ধ হয়েছে বিগত বহু বছরের মধ্যে. যদি দামের গতি প্রকৃতির উপরে লক্ষ্য করা যায়, তবে দেখতে পাওয়া যাবে, খনিজ তেল, গ্যাস বা শিল্প উত্পাদিত ধাতুর চেয়ে অনেক বেশী দাম বেড়েছে কৃষিজাত পণ্যের. আর সমস্ত ধরনের নৈর্ব্যক্তিক ও ধারণা প্রসূত প্রভাব – যেমন, পারিবেশিক বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এই বাজারকে শুধু উত্তেজিতই করেছে".

    ইজিপ্ট বিশ্বের অন্যতম বড় দানা শষ্যের ক্রেতা দেশ, বিশ্বের বাজারকে খুবই প্রভাবিত করেছে. ২৬শে জানুয়ারীতেই, ইজিপ্টে জনগনের বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে, বিশ্বের বাজারে গমের দাম লাফিয়ে বেড়েছে. কিন্তু এখানে আগ্রহের সঙ্গে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, শুধু কায়রো শহরের গণ্ডগোলই গমের দামকে বাড়ায় নি, গমের দাম বাড়াও উল্টো দিক থেকে ইজিপ্টের সারা দেশ জুড়ে বিক্ষোভের জন্য ইন্ধন জুগিয়েছে. সামাজিক বিস্ফোরণের জন্য অর্থনৈতিক কারণ গুলি মূল না হলেও, এক ধরনের শুরু করার জন্য যান্ত্রিক ভাবে কাজ করেছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমীর প্রাচ্য বিশারদ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন:

    "গত বছরের প্রবল খরার পরে দানা শষ্যের দাম বেড়েছে. ইজিপ্টে এই দাম বেড়েছিল দেড় পার্সেন্ট. তাই দেশের লোক ঠিক করেছিল যে, এই রকম দাম হলে নিজেদের জন্য রুটি কেনা সম্ভব হবে না. এটা হল অর্থনৈতিক কারণ, আর তা থেকেই সমস্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়েছিল, আর তা আমরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতেও দেখতে পাচ্ছি".

    বিক্ষোভ শুরু হওয়ার অল্প কিছু দিন আগে কায়রো শহরে ঠিক করা হয়েছিল দেশের স্বল্প বিত্ত লোকেদের জন্য রুটির দামে দেয় ভর্তুকি সরকার রদ করবে. এখন এই নিয়ে আর কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না. বরং জনতাকে শান্ত করার জন্য ইজিপ্টের সরকার দ্রুত বাড়তি গম কিনেছেন, যা আগামী বহু মাসের জন্য যথেষ্ট. একই ধরনের কাজ করেছে আলজিরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, লিবিয়া ও বাংলাদেশের সরকার.

    টিউনিশিয়ার এক রাস্তায় ঠেলা গাড়ী করে ফল বেচা লোকের ঠেলা পুলিশে উল্টে দেওয়ার জন্য যে স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ছিল, তা আজ উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যের বহু দেশেরই জনতার চিরাচরিত জীবন ধারাকে পাল্টাতে বাধ্য করেছে. নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য বহু দেশের সরকারই, যেখানে প্রচুর সামাজিক স্তরে বিভক্ত জনতা রয়েছে, সেখানে দ্রুত চাইছেন বুভুক্ষুদের খাবার দিতে. দেখা গেল তাদের রাগ ভয়ঙ্কর.