টানা ২ সপ্তাহের বিক্ষোভ শেষে মিসরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে.আতংক সত্বেও রবিবার কায়রোর বাংকসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক গ্রাহকই জমানো অর্থের পুরোটাই তোলার চেষ্টা করছেন.এর সাথে যোগ হয়েছে খাদ্যসামগ্রীর অপ্রতুলতা.রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ঘোলাটে.

মিসরের নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘মুসমান ভ্রাতৃত্ব’ রাজনৈতিকদল ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলয়মানের প্রস্তাবকে সমর্থন করে নি.যিনি সাংবিধানিক ধারায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন.তবে,অন্যক্ষেত্রে উভয় পক্ষই একটি বিষয় ঐত্যমত প্রকাশ করে এবং তারা দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিততে বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলেন.উল্লেখ করা যায় যে,মোহাম্মদ আল-বারাদি যিনি পশ্চিমা মতাদর্শের উজ্জল একজন প্রতিনিধি.এই আলোচনায় তিনি অংশ নেন নি.

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে,মতামতের বিভিন্নতা থাকলেও অবশেষে মিসরে আলোচনার একটি পরিবেশ তৈরী হয়েছে.তবে ভিন্ন প্রশ্ন হচ্ছে আলোচনা কোন পথে এগিয়ে যাবে এবং যার উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যত.রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে রাশিয়া বিজ্ঞান একাডেমির প্রাচ্যতত্ববিদ বাগরাদ সেইরানিয়ান এই কথা বলেন.তিনি বলছেন ’কিভাবে এই আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া হবে তার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে.তবে.এটি রাজনৈতিক সংক্রান্ত বিষয়.ধারনা মতে,মিসরে জনগনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থায়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ.আগামী দিনে যে নতুন সরকার  আসবে তাদেরকে অবশ্যই সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে.যদিও তা অনেক কষ্টকর হবে কারণ মিসরে বেকারত্বের হার অনেক  বেশি এবং সবার প্রথম অনেকেই প্রতিদিনের রুটির কথা চিন্তা করা উচিত’.  

অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে ভবিষ্যতে ‘মুসমান ভ্রাতৃত্ব’ বিরোধী দল.শুরুতে হুসনে মোবারক আস্থার সাথে বলেন যে,এই দলই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে এবং এইভাবে দেশ পরিচালনায় আসার চেষ্টা করছে.তবে,এক্ষেত্রে ভয়ের কারণ হচ্ছে যে,সরকার পরিচালনায় আসলে এই দলটি মিসরকে মুসলমান দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে.বিশেষজ্ঞ বাগরাদ সেইরানিয়ান বলছেন-‘মুসমান ভ্রাতৃত্ব’ দলটি অনেক সংগঠিত.দলের নেতারা নিজেরাই সংগঠনকে রাজনৈতিকদল না বলে এ্যাসোসিয়েশন হিসাবেই গন্য করেন.সুতরাং যখন তারা প্রয়োজনীয় মূহুর্তে তারা সামাজে দৃষ্টি আকর্ষন করেন এবং অন্য দিক হচ্ছে,তারা দ্রুতই রাজনৈতিকদলে পরিনত হতে পারেন.তাই ‘মুসমান ভ্রাতৃত্ব’ সরকার পরিচালনায় আসুক তা অনেকটাই কাম্য নয় কারণ এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি আন্দোলন শুরু হবে.ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ইসলামিক ধারায় দেশের সামাজিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না.

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক ঘোষণায় বলেন,মিসরে ‘মুসমান ভ্রাতৃত্ব’ দলের তেমন সমর্থক নেই.মার্কিন পররাষ্ট্রমমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন অবশ্য সরকারের সাথে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ‘মুসমান ভ্রাতৃত্ব’ দলকে আহবান জানান এবং একই সাথে তিনি বলেছেন,ফলাফলে যাওয়া এখনই সম্ভব না,আলোচনার কতটুকো অগ্রগতি হয় তাই দেখতে হবে.সামগ্রিকভাবে ওয়াশিংটন জানায় যে,তারা মিসরের পরিস্থিতিকে এখন তেমন পর্যবেক্ষন করছে না তবে আশাবাদী যে, দেশটিতে সময় পরিবর্তন শুরু হয়েছে.