রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্টার্ট-৩ চুক্তিটি ছিল নিরাপত্তাবিষয়ক ৪৭তম মিউনিখ সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়.রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী সেরগেই ইভানোভ সম্মেলন শেষে রাশিয়ার সাংবাদিকদের এমনই অভিমত জানান.

বিশ্বের পারমানবিক অস্ত্রের শতকরা ৯০ ভাগই মজুদ রয়েছে রাশিয়ায় ও যুক্তরাষ্ট্রে.স্বভাবতই,বিশ্বের এই দুইটি পরাশক্তির দেশের মধ্যে পারমানবিক অস্ত্রহ্রাস সংক্রন্ত চুক্তিটি সম্মেলনে অংশগ্রহনকারী প্রতিটি দেশের পক্ষ থেকেই স্বাগতম জানানো হয়েছে.চুক্তিটির বিষয়বস্তু অবশ্য অনেকটাই জটিল.তবে,এর অর্থ এই নয় যে,উভয়পক্ষই নিজেদের সামরিক শক্তিকে আরও আধুনিকায়ন করতে পারবে না.সেরগেই ইভানোভ বলছেন’আমি সরাসরিই বলতে চাই যে,এই চুক্তি রাশিয়াকে কোন বিশেষ শর্তারোপ প্রদান করছে না .শুধুমাত্র পারমানবিক অস্ত্রসংখ্যা সীমাবদ্ধ রাখা যা চুক্তিতেই উল্লেখ আছে.যুক্তরাষ্ট্র যেমন নিজেদের স্থল,নৌ ও আকাশপথে সামারিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করছে ঠিক অরুরুপভাবেই আমরা ভারসাম্য রক্ষা করেই আমাদের সামরিক শক্তিকে আধুনিকায়ন করছি.চুক্তিতে কোন শ্রেনী বিষয়ক সীমাবদ্ধের কথা উল্লেখ নেই’.

সেরগেই ইভানোভ উল্লেখ করেন যে,সামরিক শক্তিকে আধুনিকীকরন নিয়ে রাশিয়ার পূর্বের যে পরিকল্পনা ছিল তা এখনও পুরোপুরি বজায় আছে.তিনি বলছেন,

‘এক্ষেত্রে ‘বুলাভা’ ও ‘ইয়ারস’ ব্লাস্টিক রকেটের কথা বলা যেতে পারে.আমি বিশ্বাস করছি যে, এই নতুন রকেট যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে হুঁমকি জানানোর জন্য তৈরী হচ্ছে না.যেহেতু,উভয়পক্ষই নিজেদের পারমানবিক শক্তিকে আরও কার্যকরী,আধুনিক ও আস্থাশীল করতে চাচ্ছে’.

অন্য আরও একটি বিষয় যা এই সম্মেলনে আলোচনা করা হয় তা হচ্ছে আফগানিস্তানে রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্ক.রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন,এই সম্পর্ক বহাল রাখা উচিত.রাশিয়া খুবই চাচ্ছে আফগানিস্তানে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ যেন বজায় থাকে এবং সর্বদাই মিত্রবাহিনীর কার্যক্রমে সাফল্য কামনা করে.তিনি আরও বলছেন’আমরা অনেক উদ্বেগের সাথেই আফগানিস্তানের উত্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ইসলামি সংগঠনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করছি.তালিবানদের কাছে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া অথবা আফগানিস্তানে পুরোপুরি একনায়কত্ব যা হবে অনেক হুঁমকির.তাই বিগত কয়েকবছর ধরেই আমরা আন্তর্জাতিক শক্তি যারা আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করছি.যেমন-রাশিয়ার ভূখন্ড ব্যবহার করে রেলপথের ট্রানজিট দেওয়া হয়েছে.শুধুমাত্র এই পথ ব্যবহার করেই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে ২০০০০ কনটেইন সরবরাহ করেছে.একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে আফগানিস্তানে রসদ পৌঁছাতে এবং ফিরিয়ে আনতে পারবে.সর্বশেষ,আমাদের ন্যাটোবাহিনীর সাথে সুসম্পর্ক তৈরী হয়েছে এবং যা মাদকদ্রব্যের চোরাচালানি বন্ধের কাজে সাহায্য করেছে’.

আফগানিস্তানে মিত্রবাহিনীর অভিযান অবশ্যই একটি পর্যায়ে চুড়ান্ত সমাপ্তিতে পৌঁছানে উচিত.রাশিয়া এক্ষেত্রে অনেক আগ্রহী.বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই অস্থিতিশীল ও সংকটময়.আর কতদিন মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানে অবস্থান করবে?.উত্তরে,ইভানোভ বলেন,এই বছরেই তারা আফগানিস্তানে সোভিয়েত সৈন্যদের অবস্থানের মেয়াদ উত্তীর্ন করবে.