আফগান-পাক সীমান্তে পুনরায় উত্তেজনা শুরু হয়েছে.উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির বিনিময় হওয়া ছাড়াও জঙ্গি হেলিকপ্টারের মহড়া হয়েছে.উভয় পক্ষের সেনাদের হতাহত হওয়ার সংবাদ রয়েছে.এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আমাদের বিশেষজ্ঞ গেওর্গি বানেছব.

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনা অনেকটা অপ্রত্যাশিতই ছিল.ঘটনাটির ঠিক কয়েকদিন পূর্বেই ইসলামাবাদে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়.পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যথাক্রমে শাহ মেহমুদ কুরেশী ও জালমাই রাসুল দুইটি দেশের সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি বিষয়ে আলোচনা করেন,কিন্তু মনে হচ্ছে যে-ঐক্যমতে পৌঁছেছেন.অএ অঞ্চলের পরিস্থিতি তদারকির জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনের বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়.কমিটির পক্ষথেকে যুক্তরাষ্ট্রকে তালিবানদের সাথে কার্যকরী  আলোচনা শুরু করার এবং জঙ্গি দমনের অর্থে এই এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি না করার আহবান জানানো হবে.অন্যদিকে শুরু হয়েছে আফগান-পাক সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা.এই বিষয়ে আমাদের জানাচ্ছেন গবেষক ও পাকিস্তান বিশেষজ্ঞ নাতালিয়া জামারায়েভা.তিনি বলছেন‘দুইটি দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ঐক্যমতের পরও সীমান্ত এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে,উভয়েরই রয়েছে নিজস্ব মতাদর্শ.সীমান্তের গোলাগুলি পুনরায় এই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল তাই ফুটিয়ে তুলছে এবং তা সমাধানের জন্য দরকার সঠিক এবং কার্যকরী সিদ্ধান্ত’.

কিছু বিশেষজ্ঞরা অবশ্য দিল্লীতে হামিদ কারজাইয়ের সফরের সাথে সাম্প্রতিক ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন.ঐ সফরে তিনি আফগানিস্তানের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিষয়ে আলোচনা করেন.প্রসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সাথে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়.ভারতের প্রধানমন্ত্রী আফগানিস্তানের পুলিশবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষন ও দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন.আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীন সমস্যা সমাধানে ভারতের হস্তক্ষেপের বিষয়কে পাকিস্তান চিরকালই বাকা চোঁখে দেখে আসছে.অনেক বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন যে‘আফগান-পাকিস্তান সীমান্তের এই উত্তেজনার মূল কারণ হচ্ছে কারজাই.অবশ্য,নাতালিয়া জামারায়েভা এক্ষেত্রে একমত প্রকাশ করেন নি.তিনি বলছেন,সীমান্তের গোলাগুলির ঘটনার সাথে আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে চলমান আলোচনার কোন যোগসূত্র নেই.আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার ঘটনা আজ নতুন নয়’.

আফগানিস্তান ও এর পাশ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী মস্কো গুরুত্বের সাথেই পর্যবেক্ষন করছে.আফগানিস্তান রাশিয়ার খুব কাছের প্রতিবেশী রাষ্ট্র.এই দেশের পরিস্থিতি পরোক্ষভাবেই রাশিয়ায় এবং অন্যান্য মধ্য এশিয়ার দেশসমূহে প্রভাব ফেলবে.