কায়রো শহরের নাটকীয় ঘটনা ভাবতে বাধ্য করছে যে ইজিপ্ট বর্তমানে গৃহযুদ্ধের সম্মুখীণ হয়েছে.

    ২৫শে জানুয়ারী থেকে ইজিপ্টের সমস্যা এই রকম একটা চিত্রনাট্য অনুযায়ী হয়েছে: প্রতিদিনের সঙ্গে প্রশাসনের বিরোধীরা চাপ বাড়াচ্ছিল, দেশের রাস্তায় লক্ষ মানুষকে বার করে এনে. ২রা ফেব্রুয়ারী পট পাল্টে গিয়েছে, এর আগে পর্যন্ত তাই চলছিল. বুধবারে নিজেদের উপস্থিতি ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারকের সমর্থকেরা. তারা প্রতিবাদী মিছিল আয়োজন করেছে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য শহরেও. এমনকি কঠিন সংঘর্ষ অবধি ব্যাপারটা গড়িয়েছে, গুলি চলেছে, বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন দুই পক্ষেই, এমনকি রাজধানীর কেন্দ্রের তহরির স্কোয়ারও বাদ পড়ে নি.

    এই ভাবেই, ইজিপ্টের বাদানুবাদ এক অন্য স্তরে উপনীত হয়েছে. একটা ধারণা তৈরী করার চেষ্টা হয়েছিল যে, রাষ্ট্রপতির পক্ষে থাকা লোকেদের ভূমিকায় দেশের বিশেষ বাহিনীর লোকেরা ছিল. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ কে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, তিনি মনে করেছেন এই ধারণা খুবই কম প্রমাণ সাপেক্ষ, তাই বলেছেন:

    "খুবই কঠিন হবে ধারণা করা যে, সারা দেশ জুড়ে সমস্ত লোকই দেশের রাষ্ট্রপতির প্রতি ঘৃণার মনোভাব নিয়ে আছে. আর সত্য কথা যে, এটা বাস্তবে হয় নি. মুবারকের পক্ষেও জনগন রয়েছেন ইজিপ্টে. আর তাঁরা প্রথমতঃ, খুব একটা কম নন সংখ্যায়, আর দ্বিতীয়তঃ, শেষ অবধি দেখার জন্যও তৈরী. এই পক্ষের লোকেরা কারা? আমরা যদি এই তথ্যের দিকে নজর করি যে, তারা দেশের প্রধান স্কোয়ারে উট, ঘোড়া নিয়ে ঢুকেছিল, তাহলে বোঝা যায় যে, এরা আসলে গ্রামের লোক, সম্ভবতঃ কৃষক. যারা ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সব সময়েই শক্তিশালী স্থিতিশীল সরকারের পক্ষে, আর কখনোই কোন রকম সংশোধন বা বিপ্লবের পথে পা দিতে পছন্দ করে না".

    আর সেই সমস্ত লোক, যারা বিগত কিছু কাল ধরে বুঝতে পেরেছিল যে এই সরকারের পতন ঘটবে, তাদের এখন মুবারকের ও বর্তমান সরকারের অবস্থান শক্ত হওয়ার সাথে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে, কারণ যখন আলোচনা পর্ব চলবে দেশের সংবিধান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে, তখন এদের কথাও মনে রাখতে হবে. ইজিপ্টের সমস্যা দেশের রাজনৈতিক শক্তির সমাধান করার কথা. এই রকমই মনে করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. "আমরা মনে করি না যে, বাইরে থেকে কোন রকমের নির্দেশ দেওয়ার দরকার রয়েছে, কোন রকমের দাবী বা শর্ত প্রয়োগের প্রয়োজন আছে" – উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী.

    অন্য কিছু হতেই পারে না. দেশ বিভক্ত. তার অর্থনীতিতে বাস্তবে স্থবির অবস্থা. পর্যটকরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে কমে যাচ্ছে আয় ও. খাবার নিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছে, অনেকেই এমনকি দুর্ভিক্ষ হতে চলেছে বলছেন. পরিস্থিতি এই মুহূর্তে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছে.

    ঐস্লামিক চরমপন্থীদের শুধু সুবিধা হয়েছে. "মুসলমান ভাইদের" দল তার মধ্যে ইন্ধন যোগাচ্ছে, তারা চায় ক্ষমতায় আসতে, অন্ততঃ কিছু সরকারি পোস্ট পেতে. এর ফলে ইজিপ্টে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যেতে পারে, আর নিকট প্রাচ্যের দেশ গুলিতে সব মিলিয়ে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য. এই বিষয়ে "রাশিয়া" টেলিভিশন চ্যানেলের নিকট প্রাচ্যে সাংবাদিক প্রতিনিধি সের্গেই পাশকভ বলেছেন:

    "ইজরায়েলের লোকেরা খুবই মনোযোগ দিয়ে ইজিপ্টে কি হচ্ছে তা দেখছেন, কারণ মুবারক বহু বছর ধরে তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ভরসা যোগ্য সহকর্মী হিসাবে রয়েছেন, আর তিনি এমন একজন লোক, যিনি সব রকম অবস্থায় শান্তি চুক্তি মেনে চলেছেন, যা রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাতের সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, দুই দেশের মধ্যে. তাই ইজিপ্টের সরকারে যে কোন রকমের পরিবর্তন, অবশ্যই সমস্যা. তারা সম্ভাব্য হিসাবে ভাবতে বাধ্য হয়েছে, যে, আবার সব শুরু থেকে করতে হতে পারে".

    ঐস্লামিক চরমপন্থীরা যদি দেশের নেতৃত্বে আসে, তাহলে আরব দুনিয়ার বড় দেশ গুলিও নিজেদের রাজনীতি পাল্টাবে, যা বহু দিন ধরে নিকট প্রাচ্যে একটা স্থিতিশীল অবস্থার কারণ ছিল. এটা কোন বাড়িয়ে বলা কথা নয়. কারণ "মুসলমান ভাইদের" দলের এক নেতা মুহামেদ গানেম এর মধ্যেই ইজিপ্টের লোকেদের ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য তৈরী হতে বলছেন.