আমেরিকার সামরিক নেতৃত্ব নিজেরাই নিজেদের পাল্টে ফেলেছে. উত্তর ওয়াজিরস্থানে তালিবদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রয়াস আর তারা পাকিস্তানের কাছে দাবী করছে না. আফগানিস্তানে আমেরিকার সেনাবাহিনীর উপপ্রধান জেনেরাল লেফটেন্যান্ট ডেভিড রডরিগেজ ঘোষণা করেছেন যে, আফগানিস্তানে জোট বাহিনীর সেনারা নিজেরাই পাকিস্তানের সেনাদলের উত্তর ওয়াজিরস্থানে সামরিক প্রয়াস ছাড়া জয় সম্ভব করতে পারে.

    এই ঘোষণা রডরিগেজ সম্ভবতঃ করেছেন ওবামা প্রশাসন আর পাকিস্তানকে উত্তর ওয়াজিরস্থানে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে বাধ্য করতে চাইছেন না বলে. এক বছরের বেশী সময় ধরে ইসলামাবাদ তালিবদের বিরুদ্ধে এখানে সামরিক অপারেশন করবে কি না তা ঠিক করতে সময় নিচ্ছিল, যদিও আমেরিকা বারবার দাবী করেছিল. শেষ অবধি ইসলামাবাদ এই দাবী মানে নি. এর ফলে আমেরিকার কর্তৃপক্ষ খুবই দিশাহারা হয়ে পড়েছিল.পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানে থাকা বর্তমানের মার্কিন সেনা বাহিনীর নেতৃত্ব সম্পর্ক খারাপ করতে চায় না. তার ওপরে, মার্কিন সেনা বাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরে একমাত্র পাকিস্তানের সেনা বাহিনীই তালিবদের থামিয়ে রাখতে পারে.

    একই সময়ে ইসলামাবাদ এলাকায় নিজেদের ফন্দি আঁটছে. আর তা সব সময়ে মার্কিন দের সঙ্গে মেলে না, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন:

    "পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর লোকেরা একই সঙ্গে দুই রকমের খেলা খেলছে. একদিকে তারা আফগানিস্তানে আমেরিকার সেনা বাহিনীর সহায়তা করছে, যারা এর জন্য কম অর্থ দিচ্ছে না, যাতে পাকিস্তানের সেনা বাহিনী সন্ত্রাসের সঙ্গে যুদ্ধে সক্ষম হতে পারে. অন্য দিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই সব সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে. পাকিস্তানের জন্য আফগানিস্তান খুবই গুরুত্বপূর্ণ দেশ. বাস্তবে এটা তাদের স্ট্র্যাটেজিক এলাকা. এই ধরনের পরিস্থিতি ইসলামাবাদকে প্রতিবেশী দেশের উপরে প্রভাব ফেলতে সাহায্য করছে ও একই সঙ্গে ভারতের প্রভাব কম করতে বাধা সৃষ্টি করতে দিচ্ছে".

    উত্তর ওয়াজিরস্থানে সক্রিয় সবচেয়ে উগ্রপন্থী হাক্কানি তালিবদের সঙ্গে ইসলামাবাদ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাড়িয়ে চলেছে. আফগানিস্তান থেকে জোটের সেনা বাহিনী একবার বেরিয়ে গেলে এই ওয়াজিরস্থানের তালিব দল ও তাদের নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানি, যাকে পাকিস্তানে খুবই প্রভাব শালী নেতা বলে মনে করা হয়, নিজেদের প্রভাব আফগানিস্তানের বিরাট এক অংশে ফেলতে পারবে, কারণ এখনও তারা এই এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে. পাকিস্তান বিশেষ করে ভয় পায় ভারতের অবস্থান শক্ত হলে. সিরাজুদ্দিন হাক্কানির দল ও তাদের লোকেদের আফগানিস্তানের সরকারে একবার অনুপ্রবেশ করাতে পারলেই পাকিস্তানের প্রভাব বিস্তার করতে সুবিধা হবে. তাই পশ্চিমের সহকর্মীদের জন্য তারা বোধহয় হাক্কানি ও তার দলকে নিশ্চিহ্ণ করতে চাইবে না.

    আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ও সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অবশ্যই রাশিয়ার স্বার্থকেও স্পর্শ করে ও মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিকেও. আমাদের দেশ আফগানিস্তানের সমস্যা দ্রুত সমাধানের পক্ষে. সব রকমের কৃত্রিম প্রচেষ্টা করে এই প্রক্রিয়াকে দীর্ঘস্থায়ী করা হলে এই সব দেশে ও মধ্য এশিয়াতে পরিস্থিতি ভারসাম্য হারাবেই.