পশ্চিম ইউরোপ, রাশিয়া, চিন, জাপান ইত্যাদি দেশের পর্যটন ও পরিবহন কোম্পানী গুলি টিউনিশিয়া ও ইজিপ্টের বিপ্লবের জেরে বিপুল অর্থের ক্ষতি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে. সার্বভৌম ঋণ ফেরতের ক্ষেত্রে এই আরব দেশ গুলির দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, খাদ্য ও জ্বালানী শক্তি নিরাপত্তা বিষয়ে বিপদের সম্ভাবনা আরো জোরালো হচ্ছে.

    সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটন. রাশিয়ার পর্যটন কোম্পানী গুলি অংশতঃ বিগত কয়েক দিনের মধ্যে ইজিপ্টের ঘটনার জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলারের বেশী অর্থ সংগ্রহ করতে পারে নি. পশ্চিম ইউরোপে পর্যটকদের আগে থেকে দেওয়া অর্থ ফেরত করতে গিয়ে বহু কোম্পানী সমস্ত অর্থ হারিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়াচ্ছে. ইজিপ্টে দেশের বাজেটের শতকরা দশ শতাংশ অর্থ পর্যটন থেকে আসত, তাই বিগত কয়েক দিনে সবচেয়ে কম করে ধরলেও তারা ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশী আয় হারিয়েছে. এই অর্থের পরিমান সুয়েজ ক্যানাল তিন বছর টানা ব্যবহার করতে দিলে তবে সংগ্রহ হতে পারে. মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার ভাভিলভ বলেছেন:

   "ইজিপ্টের অর্থনীতি এর আগেই খুব একটা দর্শনীয় ও ভারসাম্য যুক্ত ছিল না. আর জনতার বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর থেকে এমনকি ইজিপ্টের বিনিয়োগ রেটিং খুবই কমে গিয়েছে. বর্তমানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এক দুই দিন সব বন্ধ থাকলে – যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হয়ে থাকে. তাই বিশ্ব উদ্বিগ্ন. ইজিপ্ট আরব বিশ্বের হৃদযন্ত্র আর এই এলাকার নেতৃ স্থানীয় দেশ".

    এরই মধ্যে কায়রোর শেয়ার বাজার বন্ধ, যেখানে রোজ বহু লক্ষ ডলারের কারবার হত. কাঁচা টাকা খুব কমে গেছে, দেশের প্রধান ব্যাঙ্ক গুলি কাজ করছে না. আর এটা সমগ্র আরব বিশ্বের বিনিয়োগ ব্যবস্থায় প্রভাব না ফেলে পারে না.

    এছাড়া ইজিপ্টে খাদ্য অভাব দেখা দিয়েছে, আর তা শুধু পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ফলেই হয় নি. তাই ভাবার বিষয় হয়েছে আন্তর্জাতিক খাদ্য দ্রব্যের বাজার ইজিপ্টের ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসাবে দাম বাড়াতে পারে.

    সুয়েজ ক্যানাল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে বিশ্বের খনিজ তেলের বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে, বিশ্বের প্রায় দশ শতাংশ বাণিজ্য এই ক্যানাল দিয়ে হয়ে থাকে আর এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে এটি প্রধান সামুদ্রিক পথ. ফলে বিশ্বের বাজারে খনিজ তেলের দাম মানসিক বাধা পার হয়ে ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল দাম হয়েছিল, এটা ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসের পরে আর হয় নি. যদিও গত দুই দিনে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাল পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কিছু কমেছে. কিন্তু খনিজ তেলের দামে বড় ঢেউ উন্নতিশীল দেশগুলির বাজারে প্রভাব ফেলেছে, যারা প্রথমে বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে বার হতে পেরেছিল. তার উপরে টিউনিশিয়া ও ইজিপ্টে বৈপ্লবিক টানাপোড়েন ইয়েমেন, আলজিরিয়া, জর্ডন ইত্যাদি দেশ গুলিতেও ছড়িয়ে যেতে পারে ভেবে বিনিয়োগ কারীরা তাঁদের অর্থ এই সব দেশের অর্থনীতি থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন ও খুঁজছেন আরও শান্ত ভরসা যোগ্য জায়গা, যেখানে অর্থনীতি উন্নতির পথে. ফলে এই সব দেশের বাজারে আসছে অযাচিত অর্থ, যা সেখানে নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে ও "বিনিময় যোগ্য মুদ্রার মধ্যে লড়াই" বাঁধিয়েছে.

    দেখাই যাচ্ছে যে, বিশ্ব অর্থনীতি খুবই অনুভূতি প্রবণ ভাবে উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যে রাজনৈতিক সঙ্কটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে. এই প্রতিক্রিয়া কতটা শক্তিশালী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই সব "রঙ" বা "ফল" মার্কা বিদ্রোহ অধিকৃত দেশ গুলি পরবর্তী সময়ে কি রাজনীতি বেছে নেবে. অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের বিপদ বাড়তে পারে, যদি এই বিপ্লবের মধ্যে "বিদ্রোহী মোল্লারা" ঢুকে পড়ে, যেমন, হয়েছিল ইরানে. আর এর ফলে শুধু রাজনৈতিক বিপদই হবে না, সমস্ত অঞ্চলেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য তা বড় রকমের আশঙ্কার কারণ হতে পারে.