রাশিয়া ও ভারত উচ্চ প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে. যদি শুধু মাত্র ঐতিহ্যময় সহযোগিতার ক্ষেত্র গুলির প্রতিই নজর দেওয়া না যায়, আর বিজ্ঞান অবলম্বিত  ক্ষেত্র গুলির দিকে তাকানো যায়, তবে ২০২০ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান বেড়ে দাঁড়াবে ২০ বিলিয়ন ডলার – এটা বর্তমানের প্রায় দুই গুণ, উল্লেখ করা হয়েছে মস্কোতে অনুষ্ঠিত রুশ - ভারত ব্যবসায়ী সম্মেলনে. এই সম্মেলনে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরা মনে করেন এই ধরনের যৌথ উদ্যোগে গ্লোনাসস ব্যবস্থা একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় প্রকল্প.

    ভারত ঐতিহ্য অনুসারে জানা আছে যে, একটি তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের দেশ, দেশে বহু শক্তিশালী কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখার লোকও রয়েছেন ও টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থার পারদর্শী লোকও প্রচুর. তাই অবাক হওয়ার কোন বিষয় নয় যে, ভারতীয় অঞ্চলে দিক নির্দেশ প্রযুক্তির উন্নতি – একটি গুরুত্বপূর্ণ তম প্রশ্ন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিচালক গ্লোনাসস – "নিস" (দিক নির্দেশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থা)এর দ্রুত উন্নতি. অন্য দিক থেকে ভারতীয় দিক নির্দেশ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির আবিষ্কার রাশিয়ার জন্যও প্রয়োজনীয় হতে পারে বলে মনে করে "নিস" সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ভাঝ্ঝভ "রেডিও রাশিয়া"কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

    "গত বছরে "রসকসমস", ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা "ইসরো" ও "নিস" এর মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে একটি ইচ্ছা বিষয়ক সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছিল, ভারতীয় অঞ্চলে দিক নির্দেশ বিষয়ে পরিষেবা দেওয়ার জন্য ভারতে একটি সংস্থা তৈরী করার জন্য. বর্তমানে এই ধরনের চুক্তির প্রকল্প তৈরী হয়ে রয়েছে ও তা ভারতীয় পক্ষ বিবেচনা করে দেখছেন".

    যৌথ প্রকল্প রুশ প্রযুক্তিকে ভারতীয় বাজারে প্রসারে সহায়তা করবে ও ভারতে দিক নির্দেশ করার জন্য যন্ত্র তৈরী করার বিষয়ে ব্যবস্থা করবে. এখানে উত্পাদিত প্রযুক্তি শুধু দেশের ভিতরেই ব্যবহার করা হবে না, বরং রাশিয়াতেও আনা হবে. আর সম্ভাবনা রয়েছে – আরও বহু অন্যান্য দেশে পাঠানো হবে, যারা রাশিয়ার দিক নির্দেশ ব্যবস্থায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে, এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির ভাঝ্ঝভ বলেছেন:

    "আমরা ভারতীয় বাজার যাচাই করে দেখছি, প্রাথমিক চুক্তি হয়ে গিয়েছে, যেখানে প্রথম এই ব্যবস্থা লাগানো হবে, সেই অঞ্চল বাছাই করার কাজ হয়ে গিয়েছে. আমাদের জন্য এটা কম. আমাদের ব্যবসায় জনগনের গ্রাহকদের জন্য. তার জন্য প্রতিযোগিতা করার উপযুক্ত জিনিস তৈরী করতে হবে ও পরিষেবা দিতে গ্লোনাসস ও জি পি এস সম্মিলিত ব্যবস্থায়".

    এই ধরনের জিনিস ও পরিষেবা ভারতীয় গ্রাহকদের এর মধ্যেই দেওয়া হয়েছে. ভারতীয় বড় শহর গুলিতে সেই ধরনেরই প্রযুক্তি দেওয়া হচ্ছে, যা রাশিয়ার শহর গুলিতেও লাগানো হচ্ছে. এটা একটি স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধি ব্যবস্থা, যা পরিবহন ও নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগে, তার সঙ্গে বিপর্যয় নিরসনে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে. কেরালা রাজ্যে প্রথম পরীক্ষা মূলক প্রকল্প শুরু হচ্ছে, যেখানে রাশিয়ার কোম্পানী দিক নির্দেশ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি পাঠিয়েছে. এর পরে – কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশ ও কর্নাটক রাজ্যে পরিষেবা দেওয়ার কেন্দ্র খোলা হবে. মহারাষ্ট্র রাজ্যে এই ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করার কথা হচ্ছে. ভারতের একটি বড় গৃহ নির্মাণ কোম্পানী নিজেদের দেড় হাজার সিমেন্ট বহন করে নিয়ে যাওয়ার গাড়ীতে গ্লোনাসস ব্যবস্থা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য.

    ভারতীয়রা রাশিয়ার উপগ্রহ ব্যবস্থার উপরে শীঘ্রই ভরসা করতে পারবে. দেশের নামী গাড়ী তৈরী করার কোম্পানী গুলির সাথে এক "রাস্তায় কাজে করে দেখানোর" প্রদর্শনী করার পরিকল্পনা হচ্ছে, যে সময়ে গ্লোনাসস ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা দেখানো হবে.