ইজিপ্ট বর্তমানে এক বৈপ্লবিক পরিস্থিতিতে রয়েছে. আজ দেশের বিরোধী পক্ষ লক্ষ জনতার মিছিলের ডাক দিয়েছে, যা মনে করা হয়েছে দেশের পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে.

    লক্ষ লক্ষ মানুষ কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়া শহরের রাস্তায় নেমেছে রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারকের পদত্যাগ ও সদ্য শপথ নেওয়া প্রশাসনের পদত্যাগের দাবীতে. বিরোধী পক্ষ, যাদের মধ্যে কোন একক দল নেতার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না, নিজেদের সত্যিকারের শক্তি প্রদর্শন করছে. তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী করে উল্লেখ যোগ্য ও নিষিদ্ধ চরমপন্থী দল মুসলমান ভাইয়েরা রয়েছে. চরমপন্থীরা তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা ঘোষণায় বলেছে ইজিপ্টের জনতাকে ততক্ষণ রাস্তা না ছাড়তে, যতক্ষণ না বর্তমানের সমস্ত সরকারি নেতা পদত্যাগ করে.

    কার পক্ষে এই যুদ্ধ ক্ষেত্র? বোধহয়, তাদের পক্ষে, যাদের ইজিপ্টের সামরিক বাহিনী সমর্থন করবে? প্রাচ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের ইজিপ্ট বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির বেলিয়াকভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    "আমার মনে হয় যে, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরবর্তী ফল হতে পারে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে একটা সমঝোতা. এর কারণ প্রাথমিক ভাবে বাস্তবে সামরিক বাহিনীর সরকারকে সমর্থন করার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে. কারণ এই প্রজাতান্ত্রিক দলের শাসন কালে সামরিক বাহিনী সব সময়েই প্রশাসনের ভিত্তি ছিল ও মনে হচ্ছে এখনও সেই রকমই রয়েছে. ইজিপ্টের সদ্য অভিষিক্ত উপ রাষ্ট্রপতি ওমর সুলেইমান এর মধ্যেই বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন, আর প্রসঙ্গতঃ আমি যে রকম বুঝতে পারছি, তাতে প্রথমতঃ তিনি আলোচনা করছেন যে সব দলের অস্তিত্ব স্বীকৃত, তাদের নেতাদের সঙ্গে. আর সেই রকমের দলের সংখ্যা ইজিপ্টে কুড়ির বেশী".

    বিশ্ব সমাজের জন্য ইজিপ্টে স্থিতিশীলতা, পরিবর্তনের চেয়ে বেশী দামী. এমনকি যদি এই পরিবর্তনে দেশে গণতন্ত্র আসে, তা হলেও. এই বিপ্লবের দাম খুবই বেশী হয়ে যেতে পারে. শক্তি প্রয়োগ করে সঙ্কট থেকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার ফল বিপর্যয় হতে পারে. আর তা শুধু ইজিপ্টের জন্যই নয়. ভুললে চলবে না যে, ইউরোপে নিকট প্রাচ্যের খনিজ তেলের মূল সরবরাহ করা হয়ে থাকে সুয়েজ ক্যানাল দিয়েই. আর শুধু তাই নয়. বিশ্বের সমস্ত বাণিজ্যের প্রায় দশ শতাংশ এই ক্যানাল দিয়েই করা হয়ে থাকে. পরবর্তী কালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকলে এই খাল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে. তাই ইজিপ্টের চারপাশে পরিস্থিতি বিশ্বকে অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে বের হয়ে আসার বিষয়ে দেরী করিয়ে দিতে পারে.

প্রসঙ্গতঃ অর্থনৈতিক ছাড়াও রাজনৈতিক বিপদের সম্ভাবনাও রয়েছে. তা সম্বন্ধে ভ্লাদিমির বেলিয়াকভ মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন:

"যদি মুবারককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় ও বিরোধের জোয়ারে প্রশাসন ঐস্লামিক চরমপন্থীদের হাতে আসে, তবে অনেক কিছুই শুধু ইজিপ্টেই পাল্টে যাবে না, বরং সমস্ত এলাকাতেই পাল্টে যাবে. যথেষ্ট হবে শুধু ১৯৭৯ সালে ইরানের ঐস্লামিক বিপ্লবের কথা স্মরণ করলেই".

আর এই রকমের একটা পরিবর্তনকে বাদ দেওয়া যাচ্ছে না. এখানে বলা যায় যে, খোদ ইরানের বহু রাজনৈতিক লোকই এই পরিবর্তনকে ইরানের ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করছেন. অংশতঃ ইরানের পার্লামেন্টের স্পীকার আলি লারিঝানি ও আয়াতোল্লা আহমদ খাতামি.

ইজিপ্টের ঘটনা থেকে বিপদের বিষয়ে বলা যায়, ইজরায়েলে সবার আগে টের পাওয়া হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা বেশীর ভাগ ইউরোপীয় সংঘের দেশের মত, যারা আপাততঃ হোসনি মুবারকের প্রশাসনের পক্ষে এখনও কিছু বলেন নি, ইজরায়েলের নেতৃত্ব কিন্তু আরও বেশী নির্দিষ্ট অবস্থান নিয়েছে. ইজরায়েলের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে পাঠানো বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ গুলিতে নিজেদের রাজ দূতাবাসে যে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে ইজিপ্টে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব সম্বন্ধে. আর এর অর্থ হল যে, খেজুর বিপ্লব এখনই কারও দরকার নেই, একমাত্র বিপ্লবের যারা ডাক দিয়েছে, তারা ছাড়া.